স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগর জুড়ে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য চরম ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল ভুয়া সাংবাদিকরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে। এরা কখনো সাংবাদিক, কখনো মানবাধিকার কর্মী, কখনো ডিবি, কখনো ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের পড়ালেখা ও সাংবাদিকতায় নেই কোন যোগ্যতা। ব্যক্তিগত মোটর সাইকেল কিংবা মাইক্রোবাসের সামনে প্রেস লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। মাদকসেবী থেকে শুরু করে গার্মেন্টস্ কর্মী, টেম্পু ড্রাইভার, বাসার দারোয়ান, হোটেল বয়, এনজিও কর্মী এরা সবাই সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশের মাধ্যমে সর্বসাধারণকে হাতিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে নিরীহ ব্যবসায়ী ও গার্মেন্টস্ কর্মীরা। বিশেষ করে নগরীর ইপিজেড, বন্দর, পতেঙ্গা, আকবর শাহ্ ও বায়েজিদ এলাকায় এদের বিচরণ বেশী।
এ সকল ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে পেশাজীবি সাংবাদিকরাও বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মূখিন ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে। গত ২৮ জুন নগরীর ইপিজেড এলাকায় পেশাজীবি সাংবাদিক সংগঠনের নামে বিভিন্ন অনলাইন নাম সর্বস্ব আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকার অখ্যাত-কুখ্যাত সাংবাদিকরা ঈদ পূর্ণমিলনীর নামে ইপিজেড এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায় যে, এ ভয়ানক চক্রটি চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটির নামে একটি সংগঠনের সভাপতির নাম ভাঙ্গিয়ে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াত-পত্র বিলির নামে ব্যাপক চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কিরণ শর্মা’র সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন; কথিত ‘ভূইফোড় সাংবাদিক’ সংগঠনটির চট্টগ্রাম নগরীতে কোন অস্বিত্ব না থাকলেও এ সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে আমার পরিচয় দিয়ে আমাকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করে বিষয়টি আমার নজরে পড়ায় আমি তাৎক্ষনিক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাটি অবহিত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানিয়েছি। পরবর্তীতে ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে ‘ভূইফোড় সাংবাদিক’ সংগঠনটির অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
এ সংগঠনের সদস্য তথাকথিত সাংবাদিকরা হলেন- মোস্তফা তালুকদার (পান বিক্রেতা), হাসান বিশ্বাসÑপ্রকাশ: আতর আলী (যাত্রা দলের সদস্য), সোহাগ সরদার (নারী ব্যবসায়ী), রতন মল্লিকÑপ্রকাশ বাপ্পী (পলাতক মামলার আসামী), এমদাদ (এনজিও কর্মী) এরা ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে নগরীর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ইয়াবা পাচার, নারী পাচারসহ একাধিক অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত থাকার মতো অভিযোগ পাওয়া গিয়াছে। প্রাপ্ত সূত্রে জানা যায় যে, এরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন অপরাধে মামলার আসামী ও সাংবাদিক পরিচয়ে গাঁ ঢাকা দিয়ে অপরাধ প্রবণতা কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এ চক্রের সদস্য সোহাগ সরদারÑপ্রকাশ সোহাগী ও মুন্না গত ৪ জুলাই পিরোজপুর নেছারাবাদে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয় প্রশাসন তাদের গ্রেফতার করে। এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে ঈদুল ফিতরের দুই দিন পূর্বে চট্টগ্রাম শহরের একে খাঁন নাম জায়গায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাস ষ্ট্যান্ডে চাঁদাবাজিকালে গণপিটুনির স্বীকার হয়। সরেজমিনে এ প্রতিবেদনটি তৈরীকালে জানা যায়, নগরীর ইপিজেড ও বন্দর থানার বিভিন্ন হোটেল রেস্তুরা, বেকারী, জুয়ার আসর থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাদরে বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি করার একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
এ চক্রের সদস্যরা সকালে গার্মেন্টস্ কর্মী, বিকেলে সাংবাদিক, সন্ধ্যার পর তাদের ভাড়াকৃত বিভিন্ন মাইক্রোবাসে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন টিভির লগো লাগিয়ে ডিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে তাদের নিজস্ব টার্গেটের নিরীহ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মোটা অংকের চাঁদা নিয়েছে বলে অভিযোগ গিয়েছে। প্রাপ্ত সূত্রে জানা জানা যায়, উক্ত ‘ভূইফোড় সাংবাদিক’ সংগঠনটি তাদের ঈদ পূর্ণমিলনীর নামে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির মাধ্যমে টাকা আদায় করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানটি প্রশাসনিক ভাবে বন্ধ করে দেয়া হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি থেকে ঈদ পূর্ণমিলনীর নামে আদায়কৃত কয়েক লক্ষ টাকা এখনো পর্যন্ত সংগঠনটি ফেরত দেয়নি।
অন্যদিকে নগরীর সিইপিজেড থানার কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইসলাম প্লাজার নিজ তলায় অবস্থিত নিউ সান ইলেক্ট্রিনিক্স ও চৌধুরী মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানীর মালিকের কাছ থেকে ২৯ হাজার টাকা চাঁদা নেয়ার মতো অভিযোগ আমাদের হস্তগত হয়েছে। শুধু তাই নয়; অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন মহল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আদায়কৃত কয়েক লক্ষ টাকার মধ্যে অনুষ্ঠানের দুপুরের প্রীতিভোজের জন্য লক্ষ টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত গরুটি অবশেষে খোলা বাজারে জবাই করে মাংস বিক্রি করার মতো অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

