ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের আশীর্বাদে কোটি টাকা খরচ করে বদলী ঠেকায় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এহসান জামিল

0
875

মোঃ আহসানউল্লাহ হাসানঃ
দুর্নীতির আখড়া বলে খ্যাত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের চেয়ারম্যান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের আশীর্বাদে তার অধিন্যস্ত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এহসান জামিলের বদলী অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। একারনে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান অবৈধ ভাবে এহসান জামিলের নিকট থেকে অন্তত ৭০ লাখ টাকা ঘুষ বাবদ গ্রহন করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। আর এহসান জামিল স্বপদে বহাল থেকে তার চলমান কাজের পকল্প থেকে অন্তত কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের অধিন্যস্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোর্শেদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে এই তদন্ত প্রতিবেদন যাতে আলোর মুখ না দেখে সেই জন্য দুর্নীতিবাজ এহসান জামিল কোটি টাকার বস্তা নিয়ে তা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে।

Advertisement

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজউকের আবাসন প্রকল্প ‘উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের’ প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্মকর্তা এহসান জামিল ঐ প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের পুরো কাজটিই তার অধিনে বাস্তবায়িত হয়। এসময় সে এই কাজের বিভিন্ন ইকুইপমেন্ট ক্রয়, মুল নকশায় নির্মান কাজ পবির্তন ও নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন না করা, নির্মান শ্রমিকদের মজুরী, পানি, বিদ্যুত, গ্যাস, সুয়ারেজ লাইন, রাস্তা ও পার্ক নির্মানে অতিরিক্ত বরাদ্দ সংযোজন করে কমিশন বাবদ শত কোটি টাকা নিজের জন্য হাতিয়ে নেয়। প্রকল্পের ভবন নির্মানের জন্য রড, সিমেন্ট, বালু, টাইলস, ইলেকট্রিক ও স্যানেটারী সামগ্রী ক্রয়ের সময় প্রতিটা কোম্পানীর নিকট থেকে রির্টান কমিশন বাবদ এই টাকা পকেট বন্দি করে এহসান জামিল সিন্ডিকেট। কাজের সিডিউল অনুসারে প্রতিটা ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের সময় দরপত্র আহবান করে কেনাকাটার নিয়ম থাকলেও এহসান জামিল মোটা কমিশনের বিনিময়ে তার পছন্দের কোম্পানীর নিকট থেকে এসব জিনিসপত্র ক্রয় করে। সুত্র জানায়, ভবনে টাইলস ব্যবহারের বাজারের সর্বোৎকৃষ্ট কোম্পানীর টাইলস ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহবান করে কেনার কথা থাকলেও এহসান জামিল তা না করে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের সাথে লিয়াজো করে তাদের ব্যক্তিগত পছন্দের ষ্টার সিরামিক এন্ড টাইলস কোম্পানীর নিকট থেকে শত কোটি টাকার টাইলস ক্রয় করেন। আর এখান থেকে রাজউকের চেয়ারম্যান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান সহ এহসান জামিল ও তার পিয়ন পর্যন্ত সবাই মধ্যে কোটি কোটি টাকা কমিশন ভাগাভাগি হয়। যাতে দুর্নীতির খবর বাহিরে প্রকাশ না পায় সেই জন্য অফিসের পিয়ন পর্যন্ত ম্যানেজ করে রাখা হয়েছে। প্রকল্পের ফাউন্ডেশনের নিচে ড্যামপ্রুফ লেয়ার দেয়ার কথা থাকলেও কোথাও ড্যামপ্রুফ লেয়ার বসানো হয় আবার কোথাও ড্যামপ্রুফ লেয়ার না বসিয়েই কাজ সম্পূর্ন করা হয়। তাতে করে ড্যামপ্রুফ লেয়ার না বসিয়ে বরাদ্দের পুরো টাকাটাই ভাগবাটোয়ারার করেন ব্যবস্থাপক এহসান জামিল। এভাবেই এহসান জামিল প্রকল্প ব্যবস্থাপক হয়ে উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের প্রতিটা কাজের বরাদ্দ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এহসান জামিলের দুর্নীতির একটা চিত্র মোহনা সংবাদের চৌকশ সাংবাদিক এমরান গাজীর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হওয়ার পরে নড়েচড়ে বসে রাজউক চেয়ারম্যান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান সহ উর্ধ্বতন মহল। আর একারনে বিগত ৩রা মার্চ-২০১৬ মালে এহসান জামিলকে অন্যত্র বদলী করা হয়। কিন্তু এহসান জামিল কোটি খরচ করে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের আশীর্বাদে তার বদলি অর্ডার বাতিল করায় এবং চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের কাছে আরো ৪ মাস ঐ প্রকল্পে কাজ করার জন্য আবেদন জানালে আব্দুর রহমান তা মঞ্জুর করে তাকে ঐ পদেই রেখে দেন। ৪ মাসের জন্য এহসান জামিলকে ঐ পদে রেখে দিলেও সে পরবর্তী ধাপে সর্ব মোট ১ বছর ৩ মাস দায়িত্বে থেকে প্রকল্পের কাজ পরিসমাপ্ত করেন। চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের এহেন ঘৃনিত কাজে রাজউকে অপরাপর কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই ঘটনার জের ধরে মোহনা সংবাদের ঐ সিনিয়র সাংবাদিক এমরান গাজী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের বরাবর এহসান জামিলের দুর্নীতির তদন্তের জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের প্রশাসন শাখা-৫ এর উপসচিব নুর আলম ২৫.০১৮.০০৫.০০২.০০.০০৪.২০১৫(বিবিধ)-১৭৯ স্মারক নাম্বারে মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোর্শেদ হোসেনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ২৪ মে ২০১৮ তারিখে একটি নিদের্শ পত্র প্রেরন করেন। তদন্ত কমিটি পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারনে ওই তদন্ত প্রতিবেদন এখ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। শোনা যাচ্ছে কোটি টাকা খরচ করে ওই তদন্ত প্রতিবেদনকে মাটির নিচে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এহসান জামিল। আর তাকে পুর্নাঙ্গ শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে রাজউকের চেয়ারম্যান ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান। এহসান জামিলের নামে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান তাকেই ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের পিডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কারন এহসান জামিলের নিকট ভাগের টাকা পেতে আব্দুর রহমানের কোন কষ্ঠ পেতে হয় না। যার বিস্তারি আসছে পরবর্তী পর্বে। সেই পর্যন্ত সাথে থাকুন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here