মমতাজ দীর্ঘ অনেকদিন থেকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিতে শুরু করেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে চাকরি না হওয়ায় সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তার ওপর। অনেকেই তাদের টাকা ফেরত চান। তখন নতুন প্রতারণা শুরু করেন মমতাজ।
চট্টগ্রামের এক চা দোকানের মালিক মো. জাফর। এক নারী তাকে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়েছিলেন, যাতে লেখা ছিল ‘মমতাজ বেগম (ওয়ারিশিকা), প্রাইম মিনিস্টার’স অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার’। ছিল জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের লোগোও।
কার্ডটি পেয়ে জাফর ধরেই নিয়েছিলেন- তার হয়ত কপাল খুলে গেছে। কারণ ওই নারী তার ছেলেকে এনএসআইতে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
জাফরের ছেলে সম্প্রতি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন। ওই নারী জাফরকে আশ্বস্ত করেন যে তার ছেলেকে তিনি এনএসআইতে ওয়াচার কনস্টেবলের চাকরি নিয়ে দিতে পারেন। এ নিয়ে আলোচনার সময় ১০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প পেপারে মমতাজ ও জাফর একটি হাওলাতনামায় স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী, মমতাজকে ৬ লাখ টাকা দেবেন জাফর। বিনিময়ে তার ছেলেকে চাকরি দেবেন মমতাজ।
এর পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও জাফরের ছেলে চাকরি পাননি, জাফর সেই টাকাও ফেরত পাননি।
কেবল জাফরই একমাত্র ভুক্তভোগী নন। প্রায় তিন বছর ধরে একইভাবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মমতাজ।
স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের তথ্যমতে, মমতাজ বেগমের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের শেখেরহাটে। সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ থেকে তিনি ডিগ্রি এবং ২০১২ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন।
২০০৯ সালে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মুজিবুর রহমান নামে এক সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
মাস্টার্স পাস করার পর মমতাজ আশা এনজিওতে জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেন। কয়েক বছর পর চাকরি ছেড়ে দেন। ২০২১ সাল থেকে তিনি পরিবারকে জানাতে থাকেন এনএসআইতে চাকরি হয়েছে তার।
কেবল ভুয়া ভিজিটিং কার্ড বের করেই বসে নেই মমতাজ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনুসন্ধানে তার দু’জন সোর্সের তথ্য পাওয়া গেছে। তারা হলেন- সীতাকুণ্ডের পূর্ব সৈয়দপুরের মীর হোসেন ও একই ইউনিয়নের শেখেরহাট এলাকার ফল ব্যবসায়ী মো. জামাল।
মীর হোসেন এক সময় ভাড়ায় গাড়ি চালালেও মমতাজের সঙ্গে পরিচয়ের পর তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক কাম সোর্স হয়ে ওঠেন তিনি।
গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে এনএসআই-তে সোর্স, ওয়াচার কনস্টেবল, ফিল্ড অফিসারসহ বিভিন্ন পদে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতেন এই দু’জন। মমতাজ সম্পর্কে উচ্চ ধারণা দিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লোকজনের কাছ থেকে তারা মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন।
মমতাজ নিজেকে কখনও প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার, আবার কখনও অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর (এডি), এনএসআই নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব ও ক্রাইম ইনভেস্টিগেইট উপ-পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিতেন।

