ভাতের থেকেও কাদা খেয়ে বেশি তৃপ্তি পান

0
888

একটুকরো রুটি ভাইবোনের মুখে তুলে দিতে নিজে কাদা খেয়ে ক্ষুধা মেটাতেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে দারিদ্র্যের চাপ। ১০টা ছেলে মেয়েকে মুখের ভাত তুলে দিতে গিয়ে আর নিজের খাওয়ার কিছু থাকত না। এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন যে মৃত্যু কামনা করতেন প্রতিনিয়ত। মরার জন্যই বলতে গেলে কাদা আরো বেশি করে খেতে শুরু করেন।

Advertisement

সেটা ক্রমে নেশার মতো হয়ে গিয়েছে। এখন পেটভরা ভাত খেতে পান ঠিকই কিন্তু এক কিলো কাদা না খেলে ঘুম হয় না। ভাতের থেকেও কাদা খেয়ে বেশি তৃপ্তি পান। সেই ১১ বছর বয়স থেকে অভ্যেসটা রয়েই গিয়েছে। ভারতের ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জের বাসিন্দা ৯৯ বছরের কারু পাশোয়ানের এই কাদা ভক্ষণ দেখতেই ভিড় জমান দূর-দূরান্তের মানুষ। এই নিয়ে অবশ্য গর্বিত নন তিনি। এই কাদা খাওয়ার জঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বড় কষ্টের একটি কারণ। সেই কারণ যখন তিনি প্রকাশ করেন তখন বেরিয়ে পড়ে দেশের অন্তঃসারশূন্য এক আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। কারুর বড় ছেলে সিয়া রাম পাশোয়ান জানিয়েছেন, পরিবারের লোকেরা তাকে অনেকবার এর থেকে বিরত করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু পারেননি। যেভাবেই হোক মাঠ-ঘাটে ঘুরে কাদার টুকরো তুলে খেয়ে ফেলেন। যদিও এরপরেও ৯৯ বছর সুস্থ শরীরে বেঁচে রয়েছেন কারু পাশোয়ান। এই বিরল খাদ্যাভ্যাসের জন্য ২০১৫ সালে বিহারের সবর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করেছেন। ভাত রুটি না হলেও চলবে, কিন্তু দিনে এক কেজি কাদা তাকে খেতেই হবে। কারু পাশোয়ান বলেন, এখন আমার কাদা খাওয়া একটি দর্শনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা সময় ছিল যখন খাবার না পেয়ে খিদের জ্বালায় পেট ভরাতে কাদা খেতে বাধ্য হয়েছিলাম। যে শৈশব কাটে খোলাধুলা করে, সেই শৈশব আমি কাটিয়েছি খাবারের খোঁজে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here