রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে যে কয়টি দিনে সবচেয়ে সংকটময় এবং ভয়াবহ বিপদের সন্মুখীন হয়েছিলেন, তার মধ্যে বদর যুদ্ধের দিনটি অন্যতম।
হাদিসে এসেছে—সেদিন তিনি অত্যন্ত বিনয় আর কাতরকণ্ঠে আল্লাহকে ডাকছিলেন আর দু‘আ করছিলেন— . ‘‘হে আল্লাহ!…যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আজকের দিনের পর থেকে যমিনে আর কখনো তোমার ইবাদত করা হবে না।’’ এমনভাবে তিনি দু‘আ করছিলেন যে, তাঁর কাঁধ হতে চাদর পড়ে গিয়েছিলো। এ দৃশ্য দেখে আবু বকর (রা.) ছুটে এসে চাদর তুলে দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে হে আল্লাহর রাসূল! আপনার রবের নিকট আপনি চূড়ান্ত প্রার্থনাই করেছেন।’ [সহিহ বুখারি: ৪৮৭৫] . সেই কঠিন মুহূর্তের নবীজি কী করছিলেন? . নবীজির জামাতা আলী ইবনু আবি তালিব (রা.) বলেন, ‘বদরের যুদ্ধের দিনে আমি কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে এসে দেখি—নবীজি সিজদারত অবস্থায় আছেন আর শুধু বলছেন— . (ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ূম) — يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ [অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে চিরসংরক্ষক/চিরস্থায়ী] . এর বেশি কিছুই বলছেন না।’ এরপর আলী (রা.) আবার যুদ্ধ করতে চলে যান। আবার ফিরে আসেন; এসে দেখেন—নবীজি একই অবস্থায় আছেন। এভাবে কয়েকবার এসে তিনি একই অবস্থায় পেয়েছেন। অতপর আল্লাহ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিজয় দান করলেন। [মুসতাদরাক হাকিম: ১/৩৪৪, বাযযার: ২/২৫৪, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১৪৭; ইমাম হাইসামি (রাহ.) বলেন, হাদিসটির সনদ হাসান] . যখন পৃথিবীটা সংকীর্ণ মনে হবে, চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে যাবে, তখন খুব বেশি করে ‘ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ূম’ পড়া উচিত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্যতম সংকটময় মুহূর্তে এটি পড়েছিলেন, আল্লাহ্ সফলতা দিয়েছিলেন। এছাড়া আমাদের যেকোনো দু‘আর মধ্যে কিছু সময় পরপর এই বাক্য দুটো বারবার বলার অভ্যাস করা উচিত। কারণ, এটি ইসমে আযমের অন্তর্ভূক্ত, যা আমরা পূর্বের একটি পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম।

