আকাশচুম্বী মূল্যে কিছুটা মন্দা দেখা গেলেও আবারও উঠতে শুরু করেছে ভার্চুয়াল মুদ্রা বিট কয়েনের দাম। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, যে গতিতে বিট কয়েনের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে এর প্রতিটি মুদ্রা ১ লাখ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শপিন’র প্রধান নির্বাহী আর্ন ইয়াল’র বক্তব্য থেকে সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস জানিয়েছেন, ভার্চুয়াল মুদ্রাটির মূল্য যে গতিতে ছুটছে তাতে নিকট ভবিষ্যতেই এর দাম ১ লাখ ডলার অতিক্রম করবে।
তবে মূল্যবান এই মুদ্রার নিরাপত্তা এবং অবমূল্যায়ন ঠেকাতে এখনই উদ্যোগ নেয়া জরুরি বলে মত দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ার্ন বলেন, এমন অপ্রকাশ্য মুদ্রার লেনদেনে নানা ধরনের অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। আর সেটির মূল্য যদি আকাশ ছোঁয়া হয় তবে তো কথাই নেই। বিট কয়েনের মূল্য কিভাবে অতীতে বৃদ্ধি পেয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, বিট কয়েনের বর্তমান মূল্য বৃদ্ধির দিকেই শুধু নজর দিলে হবে না। বিশ্বব্যাপী এর অতীত এবং ভবিষ্যত নিয়েও এখনই মাথা ঘামানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রে এর আগে অন্তত ৩ বার বিট কয়েনের লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল। তিনি বলেন, সরকার যখন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন বুঝে-শুনেই তা করেছিল। আবার প্রযুক্তি দুনিয়ায় যে শুধু বিট কয়েনই রয়েছে, তা কিন্তু নয়। ইয়ার্ন বলেন, ‘ইথারিয়াম, রিপেল’এর মতো ভার্চুয়াল লেনদেনের ক্ষেত্রে এমন অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে না। কেননা, তারা একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের নিয়ম মেনে আগাচ্ছে। কিন্তু যদি এদের সঙ্গে বিট কয়েনের সাদৃশ্য সন্ধানের চেষ্টা করেন তবে কোনোভাবেই তা মিলবে না।’ তিনি বলেন, অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রার মতো বিট কয়েন কারও একার নিয়ন্ত্রণে নেই। যদিও এটি যে কোনো পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ব্যবহার হয়ে থাকে। অবশ্য বিট কয়েনের মূল্যের এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এর আগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেট। তিনি বলেছিলেন, বিট কয়েন এবং অন্যান্য অপ্রকাশ্য মুদ্রাগুলোর মূল্য যেভাবে বাড়ছে তাতে দুশ্চিন্তার কারণ রয়েছে। অবশ্যই এই মুদ্রাগুলোর পরিণতি অত্যন্ত খারাপ হবে। তবে তা কখন হবে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকলেও বাফেট বলেছিলেন, সেটি যে হবেই তা নিশ্চিত! অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে বিট কয়েন কিনছেন যা সাধুবাদ জানানোর যোগ্য, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই মূল্যস্ফিতি কতদিন থাকবে! তাছাড়া মূল্য বৃদ্ধির মতো এটি যে কোনো সময় ধ্বসেও পড়তে পারে। যদি তাই ঘটে তবে এর পরিণতি অবশ্যই খারাপ ফল ডেকে আনবে। মাঝে অবশ্য বিট কয়েনের ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছিল, যখন বেশ কিছু লগ্নিকারীর অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সময় লগ্নি কারীরা অর্থ ফেরত পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ের মাঝে ছিলেন। সাইবার হামলার কারণে সেই সময় বিট কয়েনের দাম হু হু করে নেমে যায়। তখন অর্থ উত্তোলনের জন্য লগ্নিকারীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু অর্থ হাতে আসার আগেই মাত্র এক মাসের মধ্যেই বিট কয়েনের দাম অন্তত ৪০ ভাগ নেমে যায়। সে সময় বিট কয়েন কর্তৃপক্ষও গ্রাহকদের জানিয়েছিল, তারা কার্যক্রম বন্ধ করতে চলেছে। ফলে সেই সময় বিট কয়েন ভাঙিয়ে অর্থ উত্তোলনের হিরিক পড়ে যায়। তবে সেই অবস্থা ঠেকানো গেলেও উপর্যুপরি সাইবার হামলায় বিট কয়েনের ভাগ্যে ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা নিয়ে এখন থেকেই উদ্বিগ্ন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

