বাবা-মার সঙ্গে সন্তানের সুসম্পর্ক নিয়ে কুরআন এবং হাদিসে অনেক নির্দেশ ও নসিহত রয়েছে। কুরআনের এসব নির্দেশ ও হাদিসের নসিহত সন্তানের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাওহিদের দায়িত্ব পালনের পরপরই বাবা-মার খেদমতের আহ্বান করা হয়েছে কুরআনে। হাদিসে প্রিয় নবী বাবা-মাকে জান্নাতের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যারা বাবা-মার খেদমত করে তাদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে না। তাদের জন্য সুস্পষ্ট জাহান্নামের কথা বলেছেন বিশ্বনবী। আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তা’আলার সস্তুষ্টি এবং বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহ তা’আলার অসন্তুষ্টি রয়েছে। [সূনান আত তিরমিজী ১৮৯৯]
সুতরাং প্রত্যেক সন্তানের উচিত কুরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী বাবা-মার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। তাওহিদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাবা-মার খেদমতের মাধ্যমে পরকালের নাজাতের পথ উন্মুক্ত করা। কুরআন ও হাদিসে বাবা-মার ব্যাপারে যেসব নির্দেশনা এসেছে তাহলো- মহান আল্লাহ বলেন, তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বল। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে বিনয়ের ডানা নত করে দাও এবং বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন। [সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত ২৩-২৪] মায়ের মর্যাদা অতুলনীয়। মহান আল্লাহ বলেন, আমি মানুষকে তার মাতাপিতার ব্যাপারে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দু’বছরে; সুতরাং আমার ও তোমার পিতা-মাতার শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই।[সূরা লোকমান আয়াত ১৪] বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া কাবীরা গুনাহ। আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (আবূ বকর) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সর্বাধিক কাবীরা গুনাহের ব্যাপারে জানিয়ে দিবো না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। অবশ্যই জানিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তা’আলার সাথে অংশীদারিত্ব স্থাপন করা এবং বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়া। [সূনান আত তিরমিজী ১৯০১] অমুসলিম বাবা-মার প্রতি অনুগ্রহ করা।মহান আল্লাহ বলেন, আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শিরক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। আর অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, যা তোমরা করতে। [সূরা লোকমান আয়াত ১৫]

