নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন খান লাভলু গ্রাম্য শালিসির নামে প্রশাসনিক ক্ষমতা হরন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, আসন্ন ২০১৬ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত নির্বাচিত চেয়ারম্যান লাভলু ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলের নামে চালিয়ে যাচ্ছে যত অপকর্ম। কেশবপুর ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করতে লোক দেখানো শালিসির নামে নিজস্ব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের দিয়ে মাদক ব্যাবসার সিন্ডিকেট তৈরি করছেন বলেও জানা যায়। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় মাদক বিক্রেতাদের লাভলু চেয়ারম্যান তার সন্ত্রাসী বাহিনি দিয়ে আটক করে ইউনিয়ন পরিশোধে নিয়ে আসে। এরপরই শুরু হয় যত কলাকৌশল। নিজেদের মাদক ব্যাবসা টিকিয়ে রাখতে আটককৃতদের স্থানীয় থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ না করে সাধারন ক্ষমা করে ছেড়ে দিয়ে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন। আর জনসাধারণদের দেখানো হয় লোক দেখানো মাদক বিরোধী সালিশি (গ্রাম্য আদালত)। এ বিষয়ে স্থানীয় এক ব্যাক্তি বলেন, এলাকায় তার একটি বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনি থাকায় লাভলু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাননা। এছারাও লাভলু পেশায় একজন আইনজীবী হওয়ায় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে সাজানো বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে থাকেন। কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে স্থানীয় থানা পুলিশকেও তোয়াক্কা করেন না দায়িত্বরত এই ইউপি চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান লাভলু গত ২৯সে আগস্ট তার ফেসবুক আইডি নাম “গড়যরঁফফরহ খধাষঁ যার ওয়েব লিংক িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/সড়যরঁফফরহষধাষঁ.ষধাষঁ?ভৎবভ=ঃং” তে স্থানীয় পুলিশ উৎকোচের বিনিময়ে মাদকসেবীদের ছেড়ে দিয়েছেন এমন স্ট্যাটাস দিলে বাউফল উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। স্ট্যাটাসে ইউপি চেয়ারম্যান অজ্ঞাত এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেন, ইয়াবা সেবিদের আমাদের কাছে দেন, আমরা কি উপাস (উপোষ) থাকব? কিছু না হলে মোবাইলে কয়টা টাকা দেন। চেয়ারম্যান আরো লিখেন, কেশবপুরের বহু স্থানে মাদক ও অনৈতিক কাজ চলছে এমন তথ্যও তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানান। এরপর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কিছু মাদকসেবীদের গ্রেপ্তার করলেও মোটা অঙ্কের লেনদেনের বিনিময়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, তার নিজ উদ্যোগে কেশবপুরে মাদক বিরোধী অভিযানের কারণে পুলিশ ও তথাকথিত সাংবাদিকের মাসোয়ারা কমে গেছে বলেও ওই স্ট্যটাসে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, কোন পুলিশ লাবলু চেয়ারম্যানের কাছে টাকা চেয়েছেন তার কোন অভিযোগ তিনি করেননি। তবে মাদকের বিষয়ে তিনি যেসকল কার্যকলাপ করছেন তা আইন লংঘন করেই করছেন। এছাড়াও তিনি শালিসির নামে যেসকল মাদক ব্যাবসায়িদের ধরে বিচার করছেন তার কোন মাদকের চালান লাভলু চেয়ারম্যান থানায় হস্তান্তর করেননি। এদিকে মাদকের বিষয়ে একজন চেয়ারম্যানের দায়িত্বরত ক্ষমতা ও কর্তব্য স¤পর্কে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, চেয়ারম্যানের মাদকের বিষয়ে বিচার শালিসির বিষয়ে আমি শুনেছি, তবে তার এধরনের কোন কাজের বৈধতা নেই। মাদক বিরোধী অভিযানের বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার করতে পারে আদালত। চেয়ারম্যান এধরনের কাজ করে থাকলে তা অন্যায় করছেন।
