বস্তিকন্যা লতা এখন প্রতারকচক্রের টোপ

0
1092

অপরাধ বিচিত্রা ঃ
সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র কৌশল পাল্টিয়ে টোপ হিসাবে সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করে নাঢ্যদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একজন নেতা এবং ব্যবসায়ি এই চক্রের কবলে পড়ে শুধু টাকা আর সম্মান নয়; হারাতে বসেছিলেন নিজের জীবনটাও। তাকে  বিষ প্রয়োগে হত্যার অপচেষ্টাও করেছে চক্রটি। নাম প্রকাশ না করে তিনি সবাইকে এই ধরনের প্রতারক চক্রের ছলনা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। ঢাকার জেলা জজ আদালতের মামলা নং ২৫/১১৮/২০১৬ ধারাঃ দন্ড বিধির ৩০৭/৩২৮/ ৩০৮/৩৪ পিসি-র এজাহারসহ কাগজপত্রে দেখা যায়; ওই ব্যবসায়ি চক্রটির রোষানলে পড়ে মানসম্মান আর টাকা নয়; জীবনও হারাতে বসেছিলেন। পুলিশে অভিযোগ করার পর এই বিষয়ে মামলা রুজু এবং আসামীদের বিরুদ্ধে চারজসীট দাখিল করা হয়। এখন প্রকাশ্য আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়েছে। তিনি জানান, মিরপুর ১নং বস্তিতে বসবাসকারী পূব পরিচিত মনোয়ারা বেগমের মাধ্যমেই তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফাতেমা আকতার লতার পরিচয় হয়। তারপরই নানান বাহনায় তার কাছ খেকে লতাসহ চক্রের অন্যান্যরা হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ে ওই ব্যবসায়ীর ২২বছরের বিশ্বস্ত দারোয়ান আলী কলিমুল্লার ভাতিজা মোঃ হাকিম। তাকেও দারোয়ানের চাকরি দিয়ে উক্ত ব্যবসায়ী মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বাসায় নিয়োজিত করেছিলেন। তাদেরই সাজানো নাটকের মাধ্যমে লতাকে বিয়ে করতেও বাধ্য করা হয়। ২০১৪ সালের ২৫ জানুয়ারী ওই ব্যবসায়ী লতাকে বিয়ে করেন। পরিবারে কেউ নাই; এমন অসহায়ত্বের অজুহাত দেথালেও বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে লতার বাসায় যাতায়াত শুরু করে মা মনোয়ারা বেগম এবং সৎ বাবা জাহাঙ্গির, ভাই-বোন ছাড়াও অসংখ্য বন্ধু-বান্ধব। বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় নিয়েও নিস্তার মিলেনি ওই ব্যবসায়ীর। স্বামীর অনুপস্থিতি এবং স্বামীকে বিষ জাতীয় দ্রব্য প্রয়োগে অজ্ঞান করে কথিত স্বজনরা লতার বাসায় অবাধ যাতায়াত করতে থাকে। ফলে অল্পদিনেই বাসাটি হয়ে ওঠে আসামাজিক কার্যকলাপের ঘাটি, আর মাদক ব্যবসা ও সেবনের আস্তানায়। মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় বছর মাদক আস্তানা পরিচালনার পর বিষ প্রয়োগ এবং নানা অপকমের বিষয়টি গোচরীভূত হয় স্বামীর। বিষ প্রয়োগে গুরুতর অসুস্থ ওই ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে নিজেই বাদী হয়ে লতা ও তার  সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন। পুলিশ লতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। সোর্স জাহাঙ্গির (ফোন ০১৭২৫৮৯৬৪৬৩), জহির ওরফে কাশেম ওরফে হারুনুর রশিদ (ফোন-০১৭৪৯৬১৫০৩০) মাদকদ্রব্য, মানব পাচার ও অজ্ঞান পার্টির গড়ফাদার হিসাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের তালিকাভূক্ত। চক্রের অন্য সদস্যরা হচ্ছে জহিরের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন লিটন ওরফে ভাগিনা লিটন (০১৯১১৩৮২৫১৭, ০১৯১১০১০১২৭), সেন্ট্রাল রোডের ১৮ ওয়েস্ট এন্ড স্ট্রীটের মোঃ আমান, মোহাম্মদপৃর জেনেভা ক্যা¤েপর রোড-৩, ব্লক-স্তির ডোমা খলিফার পুত্র মুজাহিদ, ভাগিনা সাকিব, আমিন,  রাজু, মনির, জাকির ও লতার ভাই রুবেল (ফোন ০১৯১৪০২৫০৬৯)। লতার মা মনোয়ারা বেগম, ছোট এক খালা, দুই বোন পুতুল ও মুক্তাসহ ৪/৫ জন তরুনীসহ আরো ৪/৫ জন পুরুষের চক্রটি অসামাজিক কার্যকলাপ, অজ্ঞান পার্টি, নকল টাকা তৈরী এবং মাদকদ্রব্য বেচাকেনায় জড়িত। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, গুলশান, কাফরুল শাহআলী, আদাবর, পল্টন, শাহজাহানপুরসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চক্রের প্রায় সবার নামেই রয়েছে একাধিক মামলা এবং অসংখ্য জিডি। মানব পাচার আইনে মোহাম্মদপুর এবং জাল টাকা তৈরীর অভিযোগে শাহ আলী থানায় কয়েক জনের বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা। জাহাঙ্গির এই মামলায় ১১মাস জেলে আটক থাকার পর সম্প্রতি জামিনে বের হয়। লতার বতর্মান বয়স আনুমানিক ২৫। বাড়ি পটুয়াখালী। জন্ম নিবন্ধন হয় ৫০ সেস্ট্রাল রোড়, থানাঃ নিউ মারকেট, ধানমন্ডি, ঢাকার ঠিকানায়। জম্ম তারিখ ০২-০৩-১৯৯৩। কোথায়ও লতা, কোথাও স্বপ্নীল, আর বতর্মানে বহুল পরিচিত বৃস্টি নামে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেলেও গেছে প্রায় ৪/৫ বার। শিশু বয়সে কক্স্রবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করা হতো তাকে। চক্রের সদস্যরা এভাবেই ব্যবহার শুরু করে এই তরুনীকে। একযুগের বেশী সময় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত রাখার পর এখন লতা প্রতারক চক্রের টাপ। ০১৭৬৪৩৩৩৬৬২, ০১৯৫৯৮৯৯৩৯৩, ০১৯১৬৬৮১০৫৯, ০১৮৮১২১৭২৭০, ০১৮২৭৯৭১২৯০, ০১৭৬৮২৪১৮৪১ নম্বরগুলো লতার। সে একেক সময় একেক নাম্বার ব্যবহার করে বলে জানায় সংশ্লিস্ট পরিবারের একজন। দুজনের সাথে বিয়ে হলেও লতা কয়েকজনের সাথে ঘর-সংসার করার প্রমাণও রয়েছে কাগজপত্রে। এদিকে চক্রের সদস্য মুক্তার মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নভেম্বরের ২য় সপ্তাহে নৃশংসভাবে খুন হয় কুমিল্লায়। ঢাকার কাফরুল এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করতো সে। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল। থাকতো মিরপুরের কাজিপাড়ায়। স্ত্রী আয়েশা ৮মাসের সস্তান সম্ভবা। মুক্তার পুলিশের সোর্স হলেও কয়েকমাস যাবত মাদক চক্রের গড়ফাদার জাহাঙ্গিরের ফাদে পড়ে জড়িয়ে পরে মাদক সিন্ডিকেটে। জানা যায়, জহির-জাহাঙ্গির চক্রের কাছে কুমিল্লা অঞ্চলের মাদক সিন্ডিকেট মোটা অংকের টাকা পেতো। চলতি মাসের প্রথম দিকে জাহাঙ্গির কুমিল্লায় না গিয়ে মুক্তারকে পাঠায়। কুমিল্লার সিন্ডিকেট নিশ্চিত হয় মুক্তার শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, পুলিশেরও সোর্স। পরে এক সহযোগীসহ তাকে নৃশংসভাবে কুমিল্লায় খুন করা হয়। মুক্তার খুনের পর জাহাঙ্গির-জহির ও লিটন গংরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আতœগোপনে চলে যায়। সবশেষে ইসমাইল হোসেন লিটন ও জহিরের জাতীয় পরিচয়পত্র দুটি ভুয়া বলে জানা গেছে। জহিরের পরিচয়পত্রে নাম হারুনুর রশিদ। এই দুটি পরিচয়পত্রের নাম্বার যথাক্রমে ০১৯৮৪২৬১৩৭৪৯০০০০১৭ এবং ১৯৭৩২৬১৯৭৪৯০০০০০৫। লিটনের খুলনার শহীদ সরোয়ারদী কলেজ, সোনাড়াঙ্গার ঠিকানাও ভুয়া বলে পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here