মোঃ বিল্লাল হোসেন : বদলির আদেশ পাওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও কুমিল্লা ট্রাফিক ইনচার্জ জিয়াউল চৌধুরী টিপু এখনো তার পূর্বের কর্মস্থলে অবস্থান করছেন। বদলির আদেশে উল্লেখিত তারিখ ৬ জুনের মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগের নির্দেশ সত্ত্বেও, তিনি এখনও দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি।
আদেশনামা অনুযায়ী, ৭ জুনের মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগ না করলে তাৎক্ষণিক স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নূরে আলম মিনারের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে কক্সবাজার জেলায় বদলি করা হয়।
এরপরও তিনি কোন ক্ষমতাবলে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন, এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে, ২৮ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জিয়াউল চৌধুরী টিপু ও তার স্ত্রী ফারজানা হোসেন রিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে।
এছাড়াও, গত ২৪ মে তার ছোট ভাই আবদুল হাসান চৌধুরী অপু চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। নিএ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বদলী হয়েছে এবং পায়ে ব্যথা পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাই তিনি এখন অফিসে যান না। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) নাজমুল হাসান বলেন, আপাতত কেউ নিয়োগ না পাওয়ায় টিপু কয়েকদিন দায়িত্ব পালন করছেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান এ বিষয়ে অফিসে আসার পর কথা বলতে চেয়েছেন। এই অভিযোগ কুমিল্লা নগরীর পুরাতন চৌধুরী পাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান চৌধুরীর ছেলে এবং হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের সাবেক সার্জেন্ট জিয়াউল চৌধুরী টিপুর বিরুদ্ধে উঠেছে। তার এই অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এমন অভিযোগের মুখে তিনি কীভাবে এখনও দায়িত্বে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারি আদেশ অমান্য করে একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ আইনের শাসনের প্রতি প্রশ্ন তোলে। এই বিষয়ে সমাজের সচেতন মহল থেকে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
সমাজের এই প্রতিক্রিয়া এবং জনগণের মতামতের প্রেক্ষিতে এই বিষয়ে আরও গভীর তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। জনগণ আশা করছেন, এই ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে এবং যদি কোনো অন্যায় প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বিষয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের প্রতি সম্মান রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই ঘটনা আমাদের সমাজের আইনের শাসনের প্রতি আরও দৃঢ় বিশ্বাস এবং সম্মান বৃদ্ধি করবে।
সোমবার (১০ জুন) বিকেল ৫ টায় সরেজমিনে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে জেলা ট্রাফিক কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জিয়াউল চৌধুরী টিপু অফিস কক্ষে অবস্থান করছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার বদলী হয়েছে এবং পায়ে ব্যথা পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাই তিনি এখন অফিসে যান না।
এছাড়াও ১২ ই জুন এবং ১৩ ই জুন বৃহস্পতিবার দুপুর ০১:২০ মিনিটের সময় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জিয়াউল চৌধুরী টিপু’র বর্তমান কর্মস্থলের অবস্থান জানতে তাহার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন +8801711****22 নাম্বারে একাধিক বার কল দিয়ে না পেয়ে ১৩ ই জুন দুপুর ০১:২২ মিনিটের সময় কুমিল্লা ট্রাফিক কার্যালয়ের অফিসিয়াল +01312***-87 নাম্বারে কল দিলে উক্ত নাম্বার ব্যবহারকারী জানান, স্যারের পায়ে ব্যথা পাওয়ায় তিনি পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিলেন। অফিসে এসে পাবেন না তবে স্যারের কুমিল্লার বাসায় গেলে কথা বলতে পারবেন।

