ফের আলোচনায় আ:লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত নাজমুল ইসলাম নাসির

0
500

সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবেদককে হুমকি রাশেদুল ইসলাম: নারী কেলেঙ্কারী, প্রতারণা, মারামারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকচক্র ও কিশোরগ্যাং পরিচালনাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত নাসিরকে নিয়ে অপরাধ বিচিত্রায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তার কালো টাকার প্রভাব দেখিয়ে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তিনি। এমনকি প্রতিবেদককে অর্থের লোভ দেখিয়ে ম্যানেজ করারও চেষ্টা করেছেন নৌকার প্রার্থী নাজমুল ইসলাম নাসির। অপরাধ বিচিত্রার সর্বশেষ সংখ্যায় নাজমুল ইসলাম নাসিরের অপকর্মের দৃশ্য তুলে ধরার পর তিনি পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক রাশেদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বলেন, ‘আচ্ছা নিউজ করছেন সমস্যা নাই। আমি আবার এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এসময় সরাসরি মামলা করারও হুমকি দেন তিনি। এর আগে অপরাধ বিচিত্রার পক্ষ থেকে নাজমুল ইসলাম নাসিরের বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন দেয়া হলে, তিনি সরাসরি অফিসে এসে বক্তব্য দেয়ার কথা জানালেও প্রতারণার মাধ্যমে তা এড়িয়ে গিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে কোন ধরণের স্পষ্ট বক্তব্যও দেন নি তিনি।

Advertisement

বরং তিনি তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার না করার জন্য অনুরোধ করেন। শুধু তাই নয়, অনুসন্ধান চলাকালীন সময়ে তিনি অপরাধ বিচিত্রার বার্তা সম্পাদককে নানাভাবে প্রলোভনও দেখান। এদিকে তথ্য গোপন করে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়া নাজমুল ইসলাম নাসির নির্বাচনের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিতে শুরু করেছে ইউনিয়নবাসীকে। তাকে ভোট না দিলে ইউনিয়নে থাকতে দেয়া হবেনা বলেও প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। তিনি তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “প্রিয় বিদ্রোহী ও তার কর্মীদল # সাবধান # সাবধান। এডভোকেট নাজমুল ইসলাম নাসির ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে আছো, করতে থাকো।  তোমাদের মতো ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র মোকোবেলা করার মতো শক্তি তার পিছনে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

এর কয়েক লাইন পর তিনি লিখেছেন, “আর একটা কথা তার কর্মীদের এমন কিছু বইলো না, তাইলে কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়া তোমাদের টাপ হবে অনেক।আর বিদ্রোহী দলের কর্মীবৃন্দ তোমরা তোমাদের নেতার কাছ একটু ভালো কইরা জিজ্ঞাসা কইরো তারা ১১ নভেম্বর এড নাজমুল ইসলাম নাসির ভাইয়ের সাথে খেলবে কিনা!!” এদিকে অতীতে বরগুনার বিভিন্ন নেতাকর্মীর সাথে তার তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে নাসির। তিনি দাবি করছেন, তার প্রতি সবার সমর্থন রয়েছে। তবে এ ধরণের পোস্টের বিপরীতে অনেকেই আবার পাল্টা জবাবে বলছেন, কারো প্রতিই সমর্থন নেই তাদের। পুরনো ছবি দেখে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন সেই অনুরোধও জানানো হয়। এদিকে নির্বাচনে আগ মুহুর্তে এধরণের প্রচারণার মুখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ইউনিয়নবাসী। ভোট কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তারা।

দর্শক ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত মো: নাজমুল ইসলাম নাসিরের অপকর্ম নিয়ে অপরাধ বিচিত্রায় প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনটি আবারো তুলে ধরা হলো:

দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনে বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন থেকে আওয়ামীলীগের

দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মো: নাজমুল ইসলাম নাসির। দলীয় প্রতীক পাওয়ার খবরে অন্যসব ইউনিয়নগুলোতে গণজোয়ার সৃষ্টি হলেও এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের  চিত্র একবারেই ভিন্ন। জনগণ থেকে সম্পূর্ণ রুপে বিভক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যেও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নে আতংকের নাম মো: নাজমুল ইসলাম নাসির। তার গ্রামের বাড়ি

আমতলা। তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারী, প্রতারণা, মারামারি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকচক্র ও কিশোরগ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক আকারে। বিএনপি সমর্থিত পরিবারের সন্তান হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। তার বাবা, চাচা ও আপন ভাইসহ পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়। অথচ তিনি আওয়ামীলীগের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম

সম্পাদকের পদটি ছিনিয়ে নেন। আর এ পদের নাম ব্যবহার করে ডুবাতে শুরু করেছে আওয়ামীলীগকে। তার বেয়াদবি আচরণ ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দিনদিন ওই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। এমন একজন ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। ৯ নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুন্দর হবে। একজন ক্লিন ইমেজের মানুষকে আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে পাবো। কিন্তু একজন অপরাধীকে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দিয়েছে শুনে মনটা ভেঙ্গে গেল। নাসির তো সবসময় অন্যের বউকে নিয়ে আমোদ ফ‚র্তিতে ব্যস্ত থাকে। বহুবার নারী কেলেঙ্কারিতে ধরা খেয়ে জুতাপেটাও খেয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে আমরা কিভাবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মেনে নেব। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: শাহনেওয়াজ সেলিম বলেন, নাজমুল ইসলাম নাসিরের পুরো পরিবারই বিএনপির এজেন্ট। তারা সরকার বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া। নাসিরের

বড় ভাই সগির হোসেন বিএনপি আমলে নির্বাচন অফিসার পদে চাকরি নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেই চাকরি চলে যায়। এছাড়াও নাসিরের বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই নারী কেলেঙ্কারী, মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ কিশোরগ্যাং পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, জীবন চলে গেলেও নাসিরের মতো মানুষকে ভোট দিয়ে পবিত্র এই ইউনিয়নকে কলঙ্কিত করবো না। সে রাস্তায় প্রকাশ্যে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গনি মৃধাকে পিটিয়ে আহত করেছিল। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তা আমরা ভুলে যাইনি।

অনুসন্ধান বলছে, সরকার দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত নাজমুল ইসলাম নাসিরের একটি অশ্লীল ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যেখানে একজন নারীর সাথে ভিডিও কলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় নাসিরকে। এছাড়া ২০১৭ সালে বরগুনার জনৈক ঠিকাদার মাইনুল ইসলামের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে নাসির। এরপর সুখের সংসার ভেঙ্গে দিয়ে ওই নারীকে নিয়ে পালিয়ে যায় নাসির। দীর্ঘ ২২দিন আটকে রাখার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ওই নারীকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন তিনি। বেপরোয়া নাসির বরগুনায় কিন্ডারগার্টেন স্কুুলের একজন শিক্ষিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা খাওয়ার পর জুতাপেটা খায়। স¤প্রতি নাসিরের ভাই বশিরের বাসায় এক দম্পতি ভাড়া থাকতো। সেই দম্পতির স্বামী অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় যাওয়ায় তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীকেও কু-প্রস্তাব দেয় নাসির। এমন অভিযোগও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধান থেকে আরও জানা যায়, নাসিরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো প্রতারণা ও মিথ্যা মামলায় মানুষকে হয়রানি করা। স¤প্রতি প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহকের আড়াইশ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় গেøাবাল গেইন গ্রæপ অব ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি নামে একটি ভুয়া ধান্দাবাজ এমএলএম কোম্পানির অফিস সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাব। আটক করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ ৮ জনকে। র‌্যাব বলছে, ট্যুরস এবং ট্র্যাভেলসের লাইসেন্স নিয়ে কোম্পানিটি প্রতারণার ব্যবসা খুলে বসেছিল। ডেস্টিনি বন্ধ হওয়ার পর সেখানকার কিছু প্রতারক রাজধানীসহ সারা দেশে খুলে বসে এমএলএম ব্যবসা। রাজধানীর বাড্ডায় লাইসেন্স ছাড়াই শত শত কোটি টাকার হাতিয়ে নিয়েছে গেøাবাল গেইন গ্রæপ অব কোম্পানি। গ্রাহকরা জানান, লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন লাভের আশায়। তবে, এটি বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি ৯ লক্ষ ৪০ টাকা দিয়েছেন। এখন টাকা ফেরত চান তিনি। র‌্যাব জানায়,

কোম্পানীটির কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। অনেক মানুষের অভিযোগের পরে অভিযান চালানো হয়। ৫৬ লাখ টাকাও জমা দিয়েছেন এমন লোকও আছে, বড় অংকের টাকার পরিমান না ধরে যদি ২/৩ লক্ষ পরিমান টাকার অংক নিয়ে হিসেব করা হয়

তাহলেও ২৫০ শত কোটি টাকার মতো লেনদেন এই প্রতিষ্ঠানে হয়েছে। আর এসকল প্রতারণামূলক প্রতিষ্ঠানের লিগ্যাল এ্যাডভাইজর হিসেবে জড়িত আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত নৌকার প্রার্থী এই নাজমুল ইসলাম নাসির। এলাকাবাসী বলছে, সরকারের প্রতি এই ইউনিয়নবাসীর কৃতজ্ঞতা থাকলেও নাসিরের প্রতি তাদের কোন আকর্ষণ নেই। নানা অভিযোগে অভিযুক্ত নাসিরকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানতে নারাজ তারা। তাদের সংশয়, নাসির জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে মাদক, কিশোর গ্যাং আর অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হবে এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন। আর নাসিরের কু-দৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবে না এ অঞ্চলের অসহায় নারীরা। তাই দ্রæত নাসিরের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করে একজন যোগ্য ব্যক্তির হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here