অগ্নি দুর্ঘটনা থেকে ক্ষয়ক্ষতি রোধে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশনায় তিনি জলাধার সংরক্ষণ, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
সোমবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো হলো-
১. বহুতল ভবন তৈরির সময় ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্সের পাশাপাশি সেটা ‘ভায়াবল’ কি না নিশ্চিত করা।
২. অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা। ফায়ার সার্ভিসের যে অনুমোদন দেওয়া হয় কারখানার মত তা প্রতি বছর নবায়নের ব্যবস্থা করা।
৩. বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা।
৪. এক থেকে তিন মাসের মধ্যে অগ্নি নির্বাপন মহড়া করা।
৫. অগ্নিকাণ্ডের সময় ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যু এড়াতে ভবনে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন।
৬. পানির অভাবে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিস কাজ করতে পারে না; তাই যেখানে যেখানে সম্ভব জলাশয় বা জলাধার তৈরি করা।
৭. লেকগুলো সংরক্ষণ করা।
৮. বহুতল ভবনে ওঠার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ল্যাডারের সংখ্যা বাড়ানো।
৯. প্রকৌশলীরা যেন পরিবেশ ও বাস্তবতার নিরেখে অবকাঠামোর নকশা করেন, তা নিশ্চিত করা।
১০. প্রতিটি ভবনে ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা।
১১. অনেক জায়গায় ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার এক্সিট যেন সব সময় ওপেন থাকে, অর্থাৎ ম্যানুয়ালি যেন তা খোলা যায়।
১২. জরুরি প্রয়োজনে মানুষ যেন বহুতল ভবন থেকে তারপুলিনের মাধ্যমে ঝুলে নামতে পারে, সেই পদ্ধতি চালু করা।
১৩. প্রতিটি হাসপাতাল ও স্কুলে বারান্দাসহ খোলা জায়গা রাখা।
১৪. ভবনে আগুন লাগলে লিফট ব্যবহার না করা।
১৫. প্রতিটি ভবনে কমপক্ষে দুটি এক্সিটওয়ে রাখা।
বৈঠকে বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নি দুর্ঘটনায় শোক প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

