প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা চেষ্টাকারী সাবেক ছাত্রদল নেতা, মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মহিববুল্লাহ এখনো বহাল তবিয়তে

0
762

রাশেদুল ইসলাম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বর্তমান মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মহিববুল্লাহ জড়িত থাকার বিষয়ে স¤প্রতি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে অপরাধ বিচিত্রা। এরপর থেকে বহুদিনের ভয়কে পেছনে ফেলে মুখ খুলতে শুরু করেছে ওসি মহিববুল্লাহর দ্বারা নির্যাতিত বরগুনা তালতলী বেহালা এলাকার ভুক্তভোগীরা। মহিববুল্লাহর অপকর্ম নিয়ে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। অপরাধ বিচিত্রায় সংবাদ প্রকাশের পর মহিববুল্লাহর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাতে থাকে নানাধরণের অপপ্রচার। এমনকি অপরাধ ঢাকতে বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা নানাভাবে তার গুণকীর্তন ছড়াতে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তথ্য বলছে, ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী মেজবাহ উদ্দিন মিরাজ, তালতলী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সালমান রুমি, বরগুনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান খান, মহিবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সহচর বিএনপি নেতা ও কথিত সাংবাদিক বেলাল সরদার ওরফে বেলাল মিলন ওসি মহিবুল্লাহর অপকর্মের দোসর হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে। আর অপকর্ম ঢাকতে এবং বেপরোয়া মহিবুল্লাহকে আরও বেশি সক্রিয় রাখতে আশীর্বাদের ছায়া দিয়ে রেখেছে পুলিশ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবিউল কবির রিজভী, বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি ও বরগুনা পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজসহ এ তালিকায় রয়েছে দলীয় পরিচয় ব্যবহারকারী ক্ষমতাশালী অনেক নেতার নাম।

Advertisement

মহিববুল্লাহর ছাত্রলীগের প্রত্যয়ন পত্র কান্ড:

অনুসন্ধান চলাকালে ওসি মহিবুল্লাহ অপকর্ম ঢাকতে নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা বানিয়ে একটি প্রত্যয়নপত্র ছড়িয়ে দেয় সর্বমহলে। তৎকালীন আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের স্বাক্ষরিত দলীয় পরিচয়ের ওই প্রত্যয়ন পত্রে উল্লেখ করা হয়, মহিববুল্লাহ চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য। তার পরিবারবর্গও আওয়ামীলীগের সক্রিয় সদস্য।

স্বাক্ষরের নিচে তারিখ দেয়া রয়েছে ১৯৯৫ সালের ১৪ই জুন। কাগজের বিষয়ে প্রথমেই আমরা মুখোমুখি হই সেই মোয়াজ্জেম হোসেনের। যার স্বাক্ষরের আশীর্বাদে ছাত্রদল নেতা মহিবুল্লাহ পুরো পরিবারসহ রাতারাতি বনে যায় আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। তৎকালীন আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ১৯৯৪ সালে চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মুহিবল্লাহকে সভাপতি বানিয়ে স্কুল কমিটি করেছেন তিনি। তবে কেউ কমিটির বিষয়ে অস্বীকার করলে কিছুই করার নেই তার। এক পর্যায়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে বারবারই হোঁচট খান মোয়াজ্জেম।

কিন্তু স্কুল কমিটির বিষয়ে কোনভাবেই উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দেখাতে পারেন নি তিনি। তবে ছাত্রলীগের ওই প্রত্যয়নপত্রে ১৯৯৫ সালের ১৪ই জুন তারিখ উল্লেখ করা হলেও মোয়জ্জেম জানান, মুহিবল্লাহর সাথে ১৯৯৫ সালের পর থেকে কখনো যোগাযোগ হয় নি তার। এমনকি মুহিবল্লাহ যে পুলিশে চাকরি পেয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না তিনি। তবে হঠাৎ একদিন মহিববুল্লাহ তাকে ফোন করে জানায়, পদোন্নতির জন্য দলীয় পরিচয়ের প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন। আর একারণেই ক্ষমতাবলে দিয়েছেন ওই প্রত্যয়নপত্র। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর লাঙ্গল দিয়ে হামলার কথা শুনেছেন মোয়জ্জেম।

এবিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আওয়ামীলীগের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না থাকায় কারা হামলার সাথে জড়িত সেই বিষয়ে খোঁজ নেয়া সম্ভব হয় নি। তিনি বলেন, হামলার সাথে মহিববুল্লাহ জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সেই প্রত্যয়নপত্র পরিবর্তন করতেও তিনি প্রস্তুত। পুরনো তারিখ বসিয়ে প্রত্যয়নপত্রটি মোয়জ্জেম দিয়েছেন সেটি তিনি নিশ্চিত করেছেন ঠিকই, কিন্তু চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন কমিটি ছিল কিনা সে বিষয়ে কোন তথ্যপ্রমাণ নেই তার হাতে।

রাজনীতিমুক্ত চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়: ছাত্রলীগের রাজনীতিতে মহিববুল্লাহ কতটা সক্রিয় ছিলেন তা জানতে অনুসন্ধানের এ পর্যায়ে আমরা খুঁজতে থাকি বিদ্যালয়ের প্রবীণ শিক্ষকদের।যে প্রত্যয়নপত্রের ক্ষমতায় মহিববুল্লাহ বাগিয়ে নিয়েছে ওসির পদ, মোয়াজ্জেমের স্বাক্ষরিত সেই কাগজটির সাথে মেলাতে চাই শিক্ষদের বক্তব্য। চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৯৭৭ সালে যোগদান করেন রবীন্দ্র তালুকদার। ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। বিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত ছিল। ছাত্র কিংবা শিক্ষকদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না বিদ্যালয় আঙিনায়।

তবে মহিববুল্লাহ বিদ্যালয়ের বাহিরে সরাসরি বেএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। বিএনপির মতিয়ার রহমান তালুকদারের সক্রিয় কর্মী ছিল মহিববুল্লাহ। আর এ কারণেই বিএনপির আমলে মতিয়ার রহমান তালুকদারের আশীর্বাদে চাকরি পান মহিববুল্লাহ। এই শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেল বিদ্যালয়ে ছিল না কোন রাজনীতি, তাহলে মোয়াজ্জেমের স্বাক্ষরিত দলীয় পরিচয়ের সেই প্রত্যয়নপত্র মহিববুল্লাহ পেল কিভাবে? অবশ্য এই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন প্রবীণ শিক্ষক রবীন্দ্র তালুকদার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন সবই সম্ভব। আরেকজন শিক্ষক তৈয়বুর রহমান ৪০ বছর শিক্ষকতা করেছেন ওই বিদ্যালয়ে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কখনো রাজনীতি করার সুযোগ দেয়া হয় নি। সবাই মিলেমিশে লেখাপড়ার পরিবেশ ধরে রেখেছিল। কথার এক পর্যায়ে এই শিক্ষকও স্বীকার করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলা করেছিল মহিববুল্লা। তিনি বলেন, ছাত্রদলের কোন পদে মহিববুল্লাহ ছিল তা না জানলেও তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলেন।

আর এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর উপর লাঙ্গল হাতে হামলাও করেছিল মহিববুল্লাহ। বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত পিওন মহানন্দ তালুকদার বলেন, পড়ালেখার পরিবেশ খুবই ভালো ছিল। বিদ্যালয়ে কোনদিন রাজনীতি করতে দেখেন নি তিনি। তবে মহিববুল্লাহ বিএনপি করতো। ১৯৮৬ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ে কখনো রাজনীতি ছিল না, এমনকি বর্তমানেও নেই। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন মো: শাহজাহান। প্রধান শিক্ষক পদে থেকে ২০১২ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কখনো ছাত্রলীগের কোন কমিটি গঠন করা হয় নি।

রাজাকারের বংশধর মহিববুল্লাহ:

অপরাধ বিচিত্রায় সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বিএনপির রাজনীতির সক্রিয় সদস্য মহিবুল্লাহকে আওয়ামীলীগের সক্রিয় সদস্য বানাতে বেশকয়েকটি কাগজ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আওয়ামীলীগের কিছু স্বার্থান্বেষী নেতাদের সহযোগীতায় মহিববুল্লাহ নিজের প্রয়োজনে আওয়ামীলীগকে ব্যবহার করছে বলে জানা যায়। এমনকি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতিনিয়ত ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার করা হচ্ছে। বরগুনার বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, মহিববুল্লাহর দাদা নূর মোহাম্মদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন পিচ কমিটির সক্রিয় সদস্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর হামলা করার পরও বিচারের আওতায় আসে নি তালতলী থানা ছাত্রদলের আহবায়ক মহিববুল্লাহ।

কান্না জড়িত কন্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার পুরষ্কারস্বরুপ বিএনপির আমলে চাকরি পায় মহিববুল্লাহ। আর সেই চাকরিতে পদোন্নতি পেয়েছে আওয়ামীলীগের আমলে। আক্ষেপ জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো কি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন না! প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যাক্কারজনক হামলার বিষয়ে জানেন বরগুনা জেলা ইউনিটের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল রশিদ। তিনি বলেন, মহিববুল্লাহ বিএনপির সাবেক সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদারের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও স্বাধীনতা বিরোধী মহিববুল্লাহ ওসি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, এই সব ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় না এনে উল্টো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ তাদের পোস্টিং দেয়া হচ্ছে। যা দেশের জন্য বড় ধরণের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।তাই অনতিবিলম্বে মহিবুল্লাহর মতো মুখোশধারীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন পিচ কমিটির সক্রিয় সদস্য মুন্সী নুর মোহাম্মদ হাওলাদারের নাতি মহিববুল্লাহ কিভাবে আওয়ামীলীগের লেবাশ লাগিয়ে পদোন্নতি পেয়েছে সেটি তদন্ত করে দেখা উচিত।

নির্যাতনের কান্ডারী মহিববুল্লাহ:

অনুসন্ধান বলছে, শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর হামলা করেই ক্ষান্ত হয় নি তৎকালীন তালতলী থানা ছাত্রদলের আহবায়ক মো: মহিববুল্লাহ। মুক্তিযুদ্ধকালীন পিচ কমিটির সক্রিয় সদস্য নূর মোহাম্মদের নাতি মহিববুল্লাহ ব্যাপকভাবে নির্যাতন চালিয়েছে বেহালার হিন্দু স¤প্রদায়ের উপর। ২০০৩ সালেও মহিববুল্লাহর বিচার চেয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেছিল ভুক্তভোগীরা। উল্টো মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করা হয় তাদের। গ্রামের নিরীহ মানুষদের মারধর করা ছাড়াও জোরপূর্বক কেটে নেয়া হতো তাদের কষ্টের ফসল। এমনকি খাল দখল করে বানিয়েছিলেন মাছের ঘের। এর পাশে ঘর তুলে চালাতেন নানাধরণের অরাজকতা।

তার অত্যাচার নিয়ে কেউ মুখ খুললে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যেত। তার ভয়ে মাসের পর মাস ঘরছাড়া ছিল অসংখ্য সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবার। খালের পাশে বেহালা গ্রামের বৃদ্ধা মালতীর ছাগল যাওয়ায় সেই অবলা প্রাণীকেও হত্যা করে মহিববুল্লাহ।আর মালতির ছেলেকেও মারধর করা হয়। তবে সেসময় ছাগল হত্যার বিচার তো দূরে থাক, উল্টো প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে মালতীর পরিবারকে। জীবনের শেষ সময়ে এসে এখনো সেই দুর্বিষহ স্মৃতি তাড়া করে বেড়াচ্ছে বৃদ্ধা মালতীকে।

তিনি বলেন, মহিববুল্লাহর মাছের ঘেরের পাশে ছাগল গিয়েছিল ঘাস খেতে। কিন্তু সেটি সহ্য হয় নি তার। তাই কুপিয়ে হত্যা করে অবলা প্রাণীটিকে। দীনেশ চন্দ্র হাওলাদার নামে একজন ভুক্তভোগী বলেন, মহিববুল্লাহ বেহালা গ্রামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন। তার নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকেই। বেহালার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, মহিববুল্লাহর অত্যাচার নির্যাতনের ভয়ে ঘর ছেলে বহুদিন পালিয়ে ছিলেন তিনি।

মতিয়ার রহমান তালুকদারের সহায়তায় হিন্দু স¤প্রদায়কে প্রশাসন দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেছে মহিববুল্লাহ। আরেকজন ভুক্তভোগী পঙ্কজ চন্দ্র কির্ত্তনিয়া। তিনি জানান, মাছের ঘেরের পাশে ঘর বানিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করতো মহিববুল্লাহ ও তার সহযোগী বেলাল মিলন। হিন্দুদের জায়গা দখল করে ও নির্যাতন করে মজা পেতেন মহিববুল্লাহ। বর্তমান সময়েও সেই দখলবাজির নেশা থেকে বের হতে পারেন নি ওসি মহিববুল্লাহ।

খোকন কর্মকার নামে একজন হতদরিদ্রের মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন মহিববুল্লাহ। ভুক্তভোগী খোকন কর্মকার বলেন, আমার কষ্টের জায়গা নিজের দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে মহিববুল্লাহ। এছাড়া কমল অধিকারী, নির্মল চন্দ্র অধিকারী, মিল্টন সিকদার, সুলতানসহ এমন অসংখ্য মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপির তৎকালীন সাংসদ মতিয়ার রহমান তালুকদার প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার পুরষ্কার স্বরুপ ২০০৬ সালে মহিববুল্লাহকে পুলিশে চাকরি দেন। আর এরপর ডিআইজিসহ পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অফিসার ইনচার্জের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বাবা মোতাহার হাওলাদার সাধারণ কৃষক হলেও পুলিশে চাকরির পর থেকে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যায় মহিববুল্লাহ। বিশাল এই অট্টালিকা আর দামি গাড়ি ছাড়াও মহিববুল্লাহর রয়েছে অনেক জমি। চাকরি দেয়ার কথা বলে রফিজ উদ্দিন হাওলাদারের কাছ থেকে টাকা নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশে চাকরি পাওয়ার পর থেকে তার দাপট দেখিয়ে এলাকায় এখনো ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে তারই ভগ্নিপতি মাহবুব, বিএনপির তুখোর নেতা বেলাল মিলনসহ বিশাল একটি বাহিনী। বিভিন্ন পরিচয়ে গ্রামের মানুষদের মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রেখেছে চক্রটি।

মহিববুল্লাহর অপরাধ জগতের সহযোগী হিসেবে সবার মুখে বেলাল মিলন নামে এক ব্যক্তির নাম বারবার উঠে আসছে। মহিববুল্লার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বিএনপি নেতা বেলাল সরদার ওরফে বেলাল মিলন বর্তমানে সাংবাদিক পরিচয়ে চষে বেড়াচ্ছে পুরো এলাকা। মূলত ওসি হওয়ার পর থেকে নিজের প্রচারণার জন্য ঘনিষ্টজন হিসেবে বেলালকে সাংবাদিকতা পেশায় সম্পৃক্ত করে মহিববুল্লাহ। কিন্তু এখনো বেলালের ফেসবুক টাইমলাইনে ঘুরছে মহিববুল্লাহ এবং বিএনপির প্রতি ভালোবাসার স্মৃতি।

নীতি নির্ধারকদের বক্তব্য:

রাজাকার মুন্সী নূর মোহাম্মদের বংশধর সাবেক ছাত্রদল নেতা মহিববুল্লাহ কিভাবে ছাত্রলীগের টিকেট পেল সে বিষয়ে জানতে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী দল কথা বলেছে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের সাথে। আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বলেন, আপনারা ডিআইজি সাহেবকে ধরেন, তিনি জেনে শুনে কিভাবে প্রমোশন দিয়েছে। বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান বরগুনার পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজ সুপারিশ করেছে আত্মীয় পরিচয়ে। বরগুনার সংসদ সদস্য এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেব নাথ শম্ভু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার বিষয়টি খুবই দু:খজনক।

বেহালার মানুষের উপর অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল। তবে কেউ আমার কাছে এখন পর্যন্ত হামলাকারীর বিষয়ে কোন তথ্য দেয় নি। আমি বরগুনায় পার্টির প্রেসিডেন্ট এবং বার বছর ধরে সংসদ সদস্য থাকার পরও চালাকি করে আমার কাছে বিষয়টি গোপন করা হয়েছে। আমার মনে হয় ওর সাপোর্টে লোক আছে। প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ করে যদি থানার ওসি হওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কিভাবে। আর সেই ওসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা ভ‚মিকা রাখতে পারবে সেই প্রশ্ন এখন বরগুনা বেহালা এলাকার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। এলাকাবাসী বলছে, দেরীতে হলেও মহিববুল্লাহসহ তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। দর্শক ওসি মহিববুল্লাহকে নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। পরবর্তী পর্বে দেখবেন আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

নীতি নির্ধারকদের বক্তব্য:

রাজাকার মুন্সী নূর মোহাম্মদের বংশধর সাবেক ছাত্রদল নেতা মহিববুল্লাহ কিভাবে ছাত্রলীগের টিকেট পেল সে বিষয়ে জানতে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানী দল কথা বলেছে আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের সাথে। আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বলেন, আপনারা ডিআইজি সাহেবকে বলেন, তিনি জেনে শুনে কিভাবে প্রমোশন দিয়েছে। বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান বরগুনার পৌর মেয়র কামরুল আহসান মহারাজ সুপারিশ করেছে আত্মীয় পরিচয়ে। বরগুনার সংসদ সদস্য এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেব নাথ শম্ভু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার বিষয়টি খুবই দু:খজনক। 

বেহালার মানুষের উপর অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল। তবে কেউ আমার কাছে এখন পর্যন্ত হামলাকারীর বিষয়ে কোন তথ্য দেয় নি। আমি বরগুনায় পার্টির প্রেসিডেন্ট এবং বার বছর ধরে সংসদ সদস্য থাকার পরও চালাকি করে আমার কাছে বিষয়টি গোপন করা হয়েছে। আমার মনে হয় ওর সাপোর্টে লোক আছে। প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এস এম আক্তারুজ্জামান বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ করে যদি থানার ওসি হওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কিভাবে। আর সেই ওসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কতটা ভ‚মিকা রাখতে পারবে সেই প্রশ্ন এখন বরগুনা বেহালা এলাকার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। এলাকাবাসী বলছে, দেরীতে হলেও মহিববুল্লাহসহ তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। দর্শক ওসি মহিববুল্লাহকে নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। পরবর্তী পর্বে দেখবেন আরও চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here