পেশা, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদায় অনেক পার্থক্য

0
8438

পেশা, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদায় তাঁদের দুজনের মধ্যে ফারাক অনেক। তাঁদের একজন প্রকৌশলী, অপরজন দিনমজুর। তবে এই ভয়াবহ কর্মকাণ্ডে দুজনে মিলেমিশে কাজ করেছেন। রাজধানী ঢাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) তাঁদের গ্রেপ্তারের পর এ তথ্যই দিয়েছে। র‍্যাবের ভাষ্য, নাজমুল ইসলাম ওরফে শাওন (২৬) পেশায় একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার। বাড়ি ফরিদপুরে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ বেতনে চাকরি করতেন তিনি। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় নুরুজ্জামান লাবু নামের এক ব্যক্তির।

Advertisement

 

৩৯ বছর বয়সী নুরুজ্জামান কখনো দিনমজুরের কাজ করতেন, কখনো রিকশা চালাতেন। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহে। পেশাগত মর্যাদা আর শিক্ষাগত যোগ্যতার পার্থক্য থাকলেও নাজমুল ইসলাম ও নুরুজ্জামান—দুজনই হয়ে যান জঙ্গি। জঙ্গি কর্মকাণ্ড এই দুজনের পরিচয় ঘটিয়ে দেয়। আর জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল সোমবার নাজমুল ও নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের সোনালী ব্যাংক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব-২-এর একটি দল গতকাল রাত সোয়া ১১টার দিকে নাজমুল ইসলাম ও নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের কাছ থেকে দুটি চাপাতি, জঙ্গিবাদী বই, ৭২৪ মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। র‍্যাব-২-এর অধিনায়ক লে কর্নেল আনোয়ার উজ জামান দাবি করেন, নাজমুল ইসলাম ও নুরুজ্জামান নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। এর মধ্যে নুরুজ্জামান ঝিনাইদহ অঞ্চলের জেএমবির আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতা। আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুজ্জামানের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও পড়ালেখা শেষ করেননি। একসময় নুরুজ্জামান জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি শুরু করেন। ২০১৫ সালে সাইফ ওরফে রুবেল ওরফে রবিন এবং সাগর ওরফে মারুফ ওরফে সোহাগ ওরফে শিহাব নামের দুই যুবকের মাধ্যমে ধর্মীয় উগ্রবাদিতায় জড়িয়ে যান তিনি। তাঁকে সাইফ জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে অন্য ধর্মের মানুষদের হত্যা ও আক্রমণে প্ররোচিত করতেন। বিভিন্ন সময়ে ঝিনাইদহ জেলার স্কুলমাঠে ও একটি গ্যারেজে সমমনাদের নিয়ে গোপনে বৈঠক করতেন। নুরুজ্জামানকে জেএমবি থেকে একটি অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয়। এই অটোরিকশা চালিয়ে তিনি এলাকার মুসলিম থেকে ধর্মান্তরিত খ্রিষ্টানদের অনুসরণ করতেন। কুপিয়ে হত্যা করতে ধর্মান্তরিত এক খ্রিষ্টানকে অনুসরণ করতেন বলেও স্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান। তিনি বোমা বানাতেও বিশেষভাবে পারদর্শী। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ার উজ জামান বলেন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল ইসলাম ধর্মীয় উগ্রবাদ বিষয়ে বই পড়ে উগ্রবাদী ধর্মীয় মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। একসময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন উগ্রবাদী পোস্ট শেয়ার করতেন। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ফেসবুকের মাধ্যমে আবু আবদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আবদুল্লাহর মাধ্যমেই জেএমবিতে জড়িয়ে পড়েন নাজমুল ইসলাম। র‍্যাবের একটি সূত্র জানায়, জেএমবিতে জড়িয়ে পড়ার পর উচ্চ বেতনের চাকরিও ছেড়ে দেন নাজমুল ইসলাম। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নও রয়েছেন। সম্প্রতি নাজমুল ইসলাম ও নুরুজ্জামান দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রায় অর্ধশত সমমনা লোকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here