ধ্বংসের তালিকায় ওঠা ৫০টি কনটেইনারে রয়েছে চীন, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশ থেকে অনা পণ্যনষ্ট হয়ে যাওয়া আপেল, ডালিম, কমলা, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নানা পণ্য ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গার বিজয়নগরে এসব পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে গতকাল ১৬ কন্টেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হয়। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ৫টি কনটেইনারে থাকা ৫৪০ টন পণ্য ধ্বংস করা হয়। কাস্টমসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার মিয়া মো. নাজমুল হক বলেন, টানা চার দিন পণ্য ধ্বংসকরণ কার্যক্রম চলবে। এই চার দিনে নষ্ট হয়ে যাওয়া ৮৯ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হবে। পতেঙ্গার বিজয়নগরে গর্ত খুঁড়ে এসব নষ্ট পণ্য পুঁতে ফেলা হয়। পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্য মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে। কাস্টমস সূত্র জানায়, নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব পণ্য আমদানি করা হয় ২০১০ সাল থেকে এ বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত । পণ্য আমদানির পর ব্যবসায়ীরা নানা কারণে তা খালাস না নেওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিক্রির জন্য নিলামে তুলে। কিন্তু নিলামেও বিক্রি হয়নি। পরে নষ্ট হয়ে গেলেও দীর্ঘসময় তা ধ্বংস করা হয়নি। অবশেষে উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। প্রথম পর্যায়ে ১০৯ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পণ্যবাহী কনটেইনারের বিদেশি মালিকপক্ষের সবাই রাজি না হওয়ায় ৮৬টি কনটেইনার ধ্বংস করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গতকাল পর্যন্ত ধ্বংসের তালিকায় আরও তিনটি কনটেইনার যোগ হয়। এসব কনটেইনারে প্রায় ২২ লাখ কেজি নষ্ট পণ্য রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস না নিলে আমদানির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। যেমন আমদানি প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বন্দরে আসা পর্যন্ত পণ্যের দামের পুরোটা বা আংশিক বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় ব্যবসায়ীকে। কিন্তু পণ্য আসার পর ব্যবসায়ী তা খালাস না করলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করে কাস্টমস। নিলামে বিক্রি না হলে রাজস্ব হারায় কাস্টমস। আবার ওই ব্যবসায়ীর পণ্য খালাস না নেওয়ায় তাঁর কাছ থেকেও শুল্ক কর পায় না। বন্দর কর্তৃপক্ষও কনটেইনার রাখার ভাড়া পায় না। কনটেইনারের মালিক পক্ষও কনটেইনার ভাড়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে না। কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকলেও ক্ষতিপূরণ মাশুলও আদায় করতে পারে না আমদানিকারকের কাছ থেকে।

