পিতা প্রদীপ আচার্যের অবহেলায়, মাতৃহারা সন্তানরা নি:স্ব অসহায়

0
749

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রদীপ আচার্য্য(৫৫ পিতা-মৃত আমোদ রঞ্জন আচার্য্য, গ্রাম- গশ্চি, ডাকঘর-দেওয়ানপুর, ইউনিয়ন-বাঘোয়ান, উপজেলা-রাউজান, জেলা- চট্টগ্রাম। প্রদীপ আচার্য্যরে সহধর্মিনী স্মৃতি ভট্টাচার্য্য পাথরঘাটা মেনকা সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর সহকারী শিক্ষিকা এবং চট্টগ্রাম সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন, পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সংস্কৃত কলেজের প্রভাষক ছিলেন। স্মৃতি ভট্টাচার্য্য উক্ত দুই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত অবস্থায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিগত ১৮/০৯/২০১৬ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে স্মৃতি ভট্টাচার্য্য তিন কন্যা শ্রীদীপ্তা আচার্য্য, শ্রীপর্ণা আচার্য্য, অপর্ণা আচার্য্য ও স্বামী প্রদীপ আচার্য্যকে রেখে যান। গত ১৪/১১/২০১৬ইং তারিখে প্রদীপ আচার্য্য তার স্ত্রী স্মৃতি ভট্টাচার্যের পাথরঘাটা মেনকা সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর ভবিষ্যৎ তহবিলের টাকা উত্তোলনের জন্য ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা করেন। উক্ত অঙ্গীকারনামায় প্রদীপ আচার্য্য অঙ্গীকার করেন,“আমি আমার সাবালিকা কন্যাদের ভরণ পোষণ, বিবাহ ইত্যাদিতে যাহা প্রয়োজন উহা সঠিকভাবে প্রদান করিব আর নাবালিকা কন্যা সন্তানের লেখাপড়া, ভরণ পোষণ, বিবাহ ইত্যাদি সংক্রান্তে যাবতীয় খরচাদি আমার নিজ দায়িত্বে প্রদান করিব।

Advertisement

কোন প্রকার অবহেলা করিব না। আমি আমার কন্যাদের কোন ভাবে কষ্ট দিব না। অন্য কোন বিবাহে আবদ্ধ হইয়া কন্যাদের অবহেলা করিবার চেষ্টাও করিব না। তাহাদেরকে সঠিকভাবে দেখাশুনা করিব। কোন প্রকার অবহেলা করিলে তাহারা আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হইবে।”

আমরা জাগতিক সংসার ও পারিবারিক জীবনে দেখতে পাই পিতা মারা গেলে মা-ই সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে যাবতীয় প্রতিপালন করেন এবং মাতা মারা গেলে পিতাই সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে যাবতীয় প্রতিপালন করেন। অথচ প্রদীপ আচার্য্য তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের না জানিয়ে গত ১১/০৫/২০১৮ইং তারিখে লাভলী চক্রবর্তী (আনুমানিক ৩৩ বছর বয়স) কে দ্বিতীয় বিবাহ করেন এবং অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন না করে সন্তানদের ভরণ পোষণ না চালিয়ে পৃথক করে দেন।

স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর জীবদ্দশায় অর্জিত  প্রায় ৮৫ (পঁচাশি) লক্ষ টাকা হতে অধিকাংশ টাকা প্রদীপ আচার্য্য নিজে গ্রহণ করেন, সন্তানদেরকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন যা অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার সামীল। স্মৃতি ভট্টাচার্য্য এর মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম সংস্কৃত কলেজটি প্রদীপ আচার্য্য নিজে চালানোর দায়িত্ব নেন অর্থাৎ অধিগ্রহণ করেন এবং সেখান হতেও প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষ টাকা আয় করছেন। ২০১৬ইং হতে এ পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রায় ১৫ (পনের) লক্ষ টাকা আয় করেছেন।

সন্তানদেরকে তার দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রতি মাসে ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা করে দুই-তিন মাস চালিয়ে বর্তমানে দুই বছরের অধিক সন্তানদেরকে ভরণ পোষণ বাবদ আর কোন টাকা দিচ্ছেন না। বিভিন্ন ব্যাংক, শেয়ার মার্কেট ও পোস্ট অফিসে স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর জমাকৃত প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা প্রদীপ আচার্য্য আত্মসাৎ করেন। পাথরঘাটা মেনকা সিটি কর্পোরেশন বালিকা বিদ্যালয় চট্টগ্রাম হতে স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর ভবিষ্যৎ তহবিলের ৩৩ লক্ষ টাকা হতে ১৩ লক্ষ টাকা প্রদীপ আচার্য্য নিজে আত্মস্যাৎ করেন।

চট্টগ্রাম ২নং ঘাট ফরহাদবেগে স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর একটি জায়গা ডেভেলপারের কাছে বিক্রি করে ৩৮ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রদীপ আচার্য্য ২৮ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। এখানে উল্লেখ্য ঘাট ফরহাদবেগের জায়গাটি স্মৃতি ভট্টাচার্য্য মৃত্যুর পূর্বে প্রদীপ আচার্য্য ও কন্যা শ্রীপর্ণা আচার্য্যকে রেজিষ্টি করে দিয়ে যান। এ হিসেবে প্রদীপ আচার্য্য উক্ত সম্পত্তির অর্ধেক মূল্য হিসেবে সর্বসাকুল্যে ১৯ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু প্রদীপ আচার্য্য এ পর্যন্ত জমি বিক্রি হতে ২৮ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছেন, এখানেও ৯ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত আত্মসাৎ করেছেন।

প্রদীপ আচার্য্য ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী চক্রবর্তী এর ঘওউ সার্চ করলে তাদের নামে সঞ্চয় পত্র, ডি পি এস, ইন্সুরেন্স ও বিবিধ একাউন্টে স্মৃতি ভট্টাচার্য্যরে কষ্টার্জিত টাকাগুলো পাওয়া যাবে। জানা যায় স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর কষ্টার্জিত টাকাগুলো প্রদীপ আচার্য্য বিভিন্ন জায়গায় সুদে খাটিয়ে লাভবান হচ্ছেন।

বিগত ০৪/৯/২০১৮ইং তারিখে তাদের একটি পারিবারিক বৈঠক হয়। সেখানে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা লিখিত হয়। উক্ত স্ট্যাম্পে প্রদীপ আচার্য্য সন্তানদেরকে ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

কিন্তু গত নভেম্বর ২০১৮ সালে সন্তানদেরকে ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে আর কোন টাকা এ পর্যন্ত দেন নাই। প্রদীপ আচার্য্য এ পর্যন্ত স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর উপার্জিত টাকা হতে (৯+১৩+১৪)= ৩৬ লক্ষ অতিরিক্ত আত্মসাৎ করেছেন এবং স্মৃতি ভট্টাচার্য্যর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম সংস্কৃত কলেত হতে বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেছেন।

বর্তমানে প্রদীপ আচার্য্য সন্তানদেরকে ভরণ-পোষণ না দিয়ে এবং সন্তানদেরকে প্রাপ্য টাকা না দিয়ে নানাভাবে হয়রানি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং সন্তানদের বিরুদ্ধে ০৫/০২/২০১৯ইং সনে চট্টগ্রাম ম্যাজিষ্টেট কোর্টে একটি মিস মামলা দায়ের করে; মামলা নং ১৮৯/২০১৯।

সন্তানরা পিতার এ ধরণের মিথ্যা মামলা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য গত ২/১২/২০১৯ইং তারিখে চট্টগ্রাম ম্যাজিষ্টেট কোর্টে মামলা দায়ের করে।  মামলা করায় প্রদীপ আচার্য্য স্থানীয় গুন্ডা-পান্ডা দিয়ে মেয়েদেরকে নানা-ধরনের হুমকি দিচ্ছে, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে।

বর্তমানে দুই মেয়ে শ্রীপর্ণা ও অপর্ণা খুবই অসহায়, নিরাপত্তাহীন ও মানবেতরভাবে জীবন-যাপন করছে। তারা পিতা প্রদীপ আচার্য্য এর আনীত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি করছে। পিতা প্রদীপ আচার্য্য কর্তৃক আত্মসাৎকৃত (৩৬-৭)= ২৯ লক্ষ টাকা,

সংস্কৃত কলেজের ১৫ লক্ষ টাকা হতে ১০ লক্ষ টাকা এবং সন্তানদেরকে ভরণ-পোষণ বাবদ প্রতি মাসে ১০,০০০/- টাকা দাবী করে শ্রীপর্ণা আচার্য্য ও অপর্ণা আচার্য্য গত ০৪/১০/২০২০ইং তারিখে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি, প্রধান কার্যালয়, ঢাকায় একটি আবেদন পত্র দেয়। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কর্তৃপক্ষ প্রদীপ আচার্য্যর সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করে কোন সদুত্তর পায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি বিভিন্ন গোপন সূত্রে তদন্ত করে শ্রীপর্ণা আচার্য্য ও অপর্ণা আচার্য্য এর অভিযোগের যথাযথ সত্যতা পেয়েছে। এ বিষয়ে হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি অতি শীঘ্রই প্রদীপ আচার্য্যর  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।  

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here