স্টাফ রিপোটারঃ
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এম জাহাঙ্গীর আলম অর্ধকোটি টাকা ঘুষ গ্রহন করে প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী বিভাগের ডেপুটি চীফ ইঞ্জিনিয়ার (জেটি ও হারবার) পদে তার আত্মীয় কনসালটেন্ট অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিনকে চাকুরী দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ বিধি ভঙ্গ করে এবং একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে একজন অযোগ্য ব্যক্তি কিভাবে একটি গুরুত্বপুর্ন পদে নিয়োগ পেলেন তা নিয়ে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে ঘুষ বানিজ্যের সেই চিত্র উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। প্রকৌশলী শাখায় ৫ টি ক্যাটাগরিতে ডেপুটি চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদে ১ জন নিয়োগের আবেদন করা হয়। উক্ত পদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা সম্পূর্ন ১৫ প্রার্থী আবেদন পত্র জমা দেন। এদের মধ্যে ৪ জন প্রার্থী পরীক্ষা দিতে এসে ঘুষ বানিজ্যের আলাপচারিতা শুনে তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু বাকী ১১ জন প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। তবে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এম জাহাঙ্গীর আলম তার আত্মীয় ঐ প্রতিষ্ঠানেরই কনসালটেন্ট অফিসার মোঃ নাসির উদ্দিনের নিকট থেকে অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে তার চাকুরী কনফার্ম করে নেয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে শুধুমাত্র লোক দেখানো মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করে।
এতে ১১ জন প্রার্থী অংশগ্রহন করে। তাদের মধ্যে ১০ জন প্রার্থীই নাসিরউদ্দিনের চাইতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকলেও অর্থনৈতিক শক্তি ও মামুরড়োড়ে নাসির উদ্দিনের চাইতে তারা পেছনের সারিতে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলমের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করে নিয়োগ নিতে কার্পন্যতা বোধ করেনি। তাছাড়া নাসির উদ্দিন তার পুর্বের কর্মস্থল চিটাগাং পোর্টে থাকাবস্থায় দুর্নীতির দায়ে চাকুরী হারিয়ে এই জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগিতায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে ২২ হাজার টাকা বেতনে কনসালটেন্ট অফিসার পদে যোগদান করে ছিলেন। যোগ্য ব্যক্তিদেরকে বাদ দিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তি নাসিরউদ্দিনকে একটি গুরুত্বপূর্ন পদে নিয়োগ প্রদানের জন্য সমস্ত বিষয় চুড়ান্ত করে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহনের প্রস্তুতি নেয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু পায়রা বন্দরের কিছু সৎ কর্মকর্তা বিয়ষটি নিয়ে বেঁকে বসেন। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই গোপনীয়তা বাহিরে প্রকাশ পেয়ে যায়। যার সুত্র ধরে গত ৩ মার্চ সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রার অনলাইন সহ একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের দৃষ্টি গোচর হলে তিনি তা আমলে না নিয়ে পরের মাসে অর্থাৎ ১ এপ্রিল নাসির উদ্দিনকে ডেপুটি চীফ ইঞ্জিনিয়ার ( জেটি ও হারবার) পদে নিয়োগ প্রদান করে। ফলে নিয়োগ বোর্ডের কতিপয় সদস্যদের মধ্যে এক চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়। চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের দৃর্নীতির দোষ আরেক জনের ঘাড়ে এসে পড়ার ভয়ে তারা অনেকেই এখন আতংকিত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগ বোর্ডের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইন্টারভিউ তো শুধু একটা ফরমারিটি মাত্র। চেয়ারম্যান সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিবেন তাতে আমরা ছোট কর্মকর্তার নিজেদের চাকুরী বাচাতে শুধুমাত্র ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার বলে মাথা নাড়ি। প্রতিবাদ করলে আমাদের চাকুরী থাকবে না। তাছাড়া ইয়েস স্যার বলে বলে অনেকেই সুবিধা নিয়ে থাকে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যানের আত্মীয়। এই সুবাদে নাসিরউদ্দিন দুর্নীতির দায়ে পূর্বের কর্মস্থল থেকে থেকে বহিস্কৃত হয়েও এই প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট অফিসার যোগদান করেন। ২২ হাজার টাকা বেতনের কনসালটেন্ট নাসির উদ্দিন এখন শত কোটি টাকার মালিক। সে ৯২-৯৩ ব্যাচে চট্রগ্রাম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালের ছাত্র সংসদে শিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। তার নামে বেনামে রয়েছে একাধিক জমি ও বিলাশ বহুল ফ্লাট। চলাফেরা করেন ৫৬ লক্ষ টাকা বিলাশ বহুল গাড়িতে।
সুত্র আরো জানায়, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এম জাহাঙ্গীর আলম সিন্ডিকেটের নিকট থেকে অর্ধকোটি টাকা খরচ করে ডেপুটি চীফ ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকুরী পেয়ে মোঃ নাসির উদ্দিনের দম্ভোক্তিক আরো কয়েকগুন বেড়ে গেছে। নাসির উদ্দিনের দম্ভোক্তিক কথাবার্তা বিভিন্ন মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে। এতে অফিসের অনেকেই বিচলিত। কারন অফিসের একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা ঐ পদে প্রমোশন নিয়ে জয়েন করার বিধান থাকলেও নাসির উদ্দিন তার আত্মীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের কল্যানে সিনিয়র কর্মকর্তাদের ডিঙ্গিয়ে নিজেকে সেটআপ করেছে। এটা নাসির উদ্দিনের জন্য রীতি মতো একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল। সে তার চ্যালেঞ্জকে বাস্তবে রুপ দিয়েছে।
ডেপুটি চীফ ইঞ্জিনিয়ার (জেটি ও হারবার) পদে চাকুরী প্রত্যাশয়ী এক প্রার্থী বলেন, তার কাছে যে পরিমান টাকা ডিমান্ড করা হয়েছে তাতে তার পক্ষে ঐ টাকা দেয়া সম্ভব হয়নি। সে শুধু পরীক্ষা দিয়েছে মাত্র।
নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সদস্য কমডোর সাইদুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না, আপনি চেয়ারম্যান স্যারের সাথে আলাপ করেন।
এব্যাপারের পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এম জাহাঙ্গীর আলমের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যস্ততার কারনে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

