পাওনাদারদের ফাঁসাতে নিজের মেয়েকে খুন

0
487

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ‘পাওনাদারকে ফাঁসাতে’ সিরাজগঞ্জ সদরে এক ব্যক্তি নিজের কলেজপড়ুয়া মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় শনিবার সিরাজগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের আদালতে জবানবন্দি দেন নিহত কলেজছাত্রীর মা ও বড় বোন।  গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ সদরের জগতগাতি গ্রামের সাইদুর রহমান বাদলের মেয়ে সাথী খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এর দুদিন পর সাথীর বাবা বাদল ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।
সাথী হত্যার ঘটনায় তার মা মনোয়ারা বেগম বাদী
হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
সাথী শিয়ালকোলের আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী ছিলেন।
ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই তরিকুল ইসলাম জানান, ‘ঋণগ্রস্ত সাইদুর রহমান বাদল পাওনাদারদের ফাঁসানোর জন্য দুই ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে নিজের মেয়েকে হত্যা করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাবে বুঝতে পেরে তিনিও আত্মহত্যা করেন।’
সাথীর মা মনোয়ারা বেগম ও বড় বোন সুমির জবানবন্দির বরাত দিয়ে এসআই তরিকুল বলেন, ঘটনার রাতে বাদলের দুই ভাগ্নে জিন্না ও জিল্লুর তাদের বাড়ি আসেন। রাত ৯টার দিকে তারা তিনজন বাড়িতে থাকা অবস্থায় সাথীর সঙ্গে জরুরি আলোচনা আছে জানিয়ে স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও বড় মেয়ে সুমিকে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেন বাদল। ‘মনোয়ারা ও সুমি পাশের বাড়ি থেকে গভীর রাতে বাড়ি ফিরে সাথীর খোঁজ জানতে চাইলে বাদল বাঁশঝাড়ে নিয়ে সাথীর লাশ দেখায়।’
এসআই বলেন, ভয়ে প্রথমদিকে তারা এ কথা কাউকে না জানালেও দ্বিতীয় দিন মেয়ের দাফন ও জানাজা শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর স্ত্রীর জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেন বাদল। ‘এরপর ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বাদল আত্মহত্যা করেন।’
জবানবন্দি শেষে মনোয়ারা বেগম ও সুমিকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান এসআই তরিকুল।
গলাকাটা ছাড়াও সাথীর হাত, ঘাড় ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান তরিকুল।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন  বলেন, প্রথম থেকেই বিষয়টি তাদেরও সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। কিন্তু নিশ্চিত না হওয়ায় এবং বাবা হওয়ার কারণে বাদলকে শুরুতেই আইনের আওতায় আনা যায়নি।
নিহত কলেজ ছাত্রীর ফুফাত ভাই জিন্না ও জিল্লুরকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
বাদলের পরিবারের সদস্যরা জানান, পেশায় আদম ব্যাপারী বাদল এলাকার ও আশপাশের গ্রামের অনেককে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ৮-১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here