চট্টগ্রাম ব্যুরো: প্রেমিকাকে ধর্ষন,এলাকাবাসির চাপে পরে বিয়ে, এর পর তালাক, তালাকের পর নির্মম নির্যাতনে ভ্রুণ হত্যা যজ্ঞ, ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ জুলাই সোমবার বিকেলে চট্টগ্রমের পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের রেকটরুমে।
জানা যায় পটিয়া এমপি সামশুল হকের অনুসারি কতিথ যুবলীগনেতার নাছির এর ছোট ভাই, জিয়া উদ্দিন বাবুর অমানবিক নির্যাতনে এক সুমি নামে নারী সন্তান গর্ভপাত হওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছেন। অমানবিক নির্যাতনের পর স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে পরবর্তীতে অজ্ঞান অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়।
এই ঘটনায় নির্যাতিতা সুমি গতবৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মহিদুল ইসলাম এর আদালতে ভ্রুণ হত্যার অভিযোগ এনে জিয়া উদ্দিন বাবু ও সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দন্ড বিধি ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩১২, ৩১৩, ৩১৬, ৫০৬, ৩৪ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে অফিসার ইনচার্জ পটিয়াকে এফ আই আর হিসেবে গণ্য করে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ প্রদান করেন।
পটিয়া ভূমি অফিস সুত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড এর কতিথ ব্যক্তিগত সহকারী জিয়াউদ্দিন বাবুর সাথে সুমি আক্তার(২০) ঐ মহিলার সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম বিনোদন চলছিল। তাদের দুই জনের প্রেম বিনোদনের কয়েক বছর ধরে চলে আসছিল, বিষয়টি শুরু থেকেই পটিয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই অবগত। জিয়া উদ্দীন বাবলু সুমি আকতারকে বিয়ে করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমি আক্তারের সাথে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। গত জানুয়ারীতে ভূমি অফিস সংলগ্ন এসি ল্যান্ডের বাস ভবনে মহিলাটিকে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের হাতে নাতে ধরে ফেলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এমপি শামশুল হক চৌধুরী এসি ল্যান্ডের পিএস জিয়া উদ্দীন বাবুর সাথে প্রেমিকা সুমি আকতারের বিয়ে করিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পটিয়ার এমপি শামশুল হক চৌধুরীকে বিয়ে করছে বলে বিষয়টি আড়ালে রাখে বিয়ে কামিন করলেও পরে সুমি অন্তসত্তা হলে তাকে তালাক দেওয়া হয়েছে বলে চেষ্টা করেছে জিয়ার পরিবার। সুমি আকতার গরীব অসহায় পরিবারের মেয়ে হওয়ায় জিয়া উদ্দীন বাবু উল্টে যায়। এর মধ্যে শারীরিক সর্ম্পক হয়ে যাওয়ায় সুমি ৪ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে। গত ১০ জুলাই সোমবার দুপুরে পটিয়া ভূমি অফিসের এসি ল্যান্ডের পিস জিয়াউদ্দীন বাবুকে সুমি আকতার স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলে নিতে অনুরোধ করলে জিয়া উদ্দীন বাবলু ক্ষিপ্ত হয়ে সুমি আকতার রেকড রুমে নিয়ে তল পেট দিয়ে কিল, ঘুষি, লাটি মারতে মারতে সুমি আকতার অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে অবস্থা বেগততিক দেখে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় পেটের সন্তান মারা যায় মরা সন্তান গর্ভপাত করানো হয়েছে বলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এর আগেও পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের এসি ল্যান্ডের পিস জিয়াউদ্দীন বাবলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবতী মহিলাদের নিয়ে টাকা বিনিময়ে ধর্ষন ও নারী নির্যানের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। জিয়া উদ্দীন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী স্ত্রীর মত নিয়মিত ধর্ষনের ঘটনায় চট্টগ্রাম নারীশিশু ট্রাইবুনালে আদালতে সুমি আকতার বাদী হয়ে জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলাও দায়ের করেছে। মামলা তুলে নেয়ার জন্য জিয়াউদ্দীনের বড় ভাই উপজেলা যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দীনসহ বিভিন্ন সময় সুমি আকতারকে চাপ সৃষ্ঠি করেন। মামলা করে কোন পথ দিয়ে হাটেন ও কিভাবে পটিয়ায় থাকেন দেখে নিবেন বলেও বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল জিয়ার বড় ভাই নাসির উদ্দীনসহ কয়েকজন। ভূমি অফিস সুত্র আরো জানায় ভুমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাত রান্না করার জন্য গত ২০১২ সালের দিকে অস্থায়ী ভিত্তিতে সামান্য বেতনে নিয়োগ পান পটিয়া উপজেলার খরনা কইশ্যা পাড়া এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র জিয়াউদ্দীন বাবলু। জিয়া উদ্দীনকে দিয়ে একটি জালিয়তি চক্র বিভিন্ন কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কিছুদিন ভূমি অফিসের স্টাফদের ভাত রান্না করার পর ভূমি এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে কাজ শুরু করেন জিয়া। বনে যান সহকারী কমিশনার ভুমির ব্যক্তিগত সহকারী। জড়িয়ে পড়েন ব্যাপক অনিয়ম দূর্ণীতিতে। এসিল্যান্ডের অফিসের চাবিও তার হাতে থাকায় বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে ফাইল গায়েব, প্রতিপক্ষের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এত তরফা রায় নিয়ে দেয়া, এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া নামজারী খতিয়ান সৃষ্ঠি করে দেয়া, নামজারী খতিয়ান বাতিল করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণতির অভিযোগ রয়েছে জিয়ার বিরুদ্ধে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম পটিয়া থানার উত্তর খরনা গ্রামের জাফর আহমদ মাষ্টারের বাড়ির আব্দুল খালেকের ছোট ছেলে পটিয়া ভূমি অফিসে অস্থায়ি ভাবে কর্মরত জিয়া উদ্দিন বাবুর সাথে গত ৩রা জানুয়ারি ইসলামী শরীয়তের বিধানমতে রেজিষ্ট্রীযুক্ত কাবিননামা সম্পাদনে বিবাহ হয়। এমতাবস্থায় সুমির ওরসে জন্ম নেয় জিয়া উদ্দিনের শিশুর অস্তিত্ব।
বিবাহের পাঁচ মাস পর জিয়ার বড় ভাই সাইফুল ইসলাম সুমিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘরে তুলে নেওয়ার আশ্বস্থ করেন।
সুমির স্বামী জিয়া তাদের ওরশজাত সন্তানের কথা তা জানতে পেরে সুমিকে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা চালায়। সুমি তার সস্তানের গর্ভপাত না করার কৌশলে সুমিকে তালাক দেয় তার পাষান্ড স্বামী জিয়া। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেলে গত ১০জুলাই জিয়া কৌশলে জরুরী কথা আছে বলে সুমিকে পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের রেকড রুমে ডেকে এনে জিয়াউদ্দিন স্ত্রী সুমি আক্তারকে পেটে উপর্যুপরি লাতি মেরে জখম করে। এবং এসময় জিয়া চিৎকার করে বলে বাচ্চা কেন নষ্ট করিস নাই তোকে এখানে মেরে ফেলবো।
এতে ক্ষান্ত না হয়ে পাষান্ড স্বামী জিয়া সুমিকে হত্যার চেষ্টায় গলা চেপে ধরে। তখন সুমির চিৎকারে উক্ত ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ এগিয়ে আসলে জিয়া পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সুমি মেঝেতে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। এসময় সুমিকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
কিছুটা সুস্থ্য হয়ে সুমি বাড়ি ফিরলে তার শরীরে তলপেটে ব্যাথাসহ খিঁচুনি শুরু হয়। এসময় সুমির রক্তপাত হতে থাকলে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। এমতাবস্থায় কর্তব্যরত ডাক্তার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১৪জুলাই সুমি গর্ভজাত সন্তান মৃত অবস্থায় প্রসব হয়।
মামলার বাদি সুমি আকতার প্রতিবেদককে জানান জিয়া উদ্দিন বাবুর সাথে আমার দীর্ঘ দিন ধরে পরিচয় সম্পর্কের এক পর্যায়ে সে আমাকে পটিয়া এসি ল্যান্ডে বাসায় নিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষন করে। ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে সে আমাকে বিয়ে করে। ইতি মধ্যে আমার গর্ভে তার সন্তান আসার খবর জানতে পেরে সে আমাকে বলে আমার বড় ভাই বিদেশ থেকে আসলে তোমাকে আমাদের ঘরে তলে নিবো।
মামলা বিষয়ে বাদির আইনজীবিএডভোকেট আবু তালেব জানান ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক আসামিরা খুবই প্রভাবশালী আদালত মামলাটি এফ আই আর হিসেবে গন্য করত আসামিদের বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দ্দেশ দিয়েছেন।
