(১) আমলটি করতে দেরি না করা, তাড়াতাড়ি করা
(২) আমলটি করে বড়াই না করা, বরং নিজেকে ছোট মনে করা
(৩) আমলটি গোপন রাখা, প্রচার না করা . — জাফর বিন মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহ [ সিফাতুস সাফওয়া, ২/১৬৯ ] . আসুন কথাগুলো নিয়ে একটু ভাবি:
১) আমল করতে দেরি না করা, তাড়াতাড়ি করা — কেন এটা বললেন? কারণ, আমাদের নফস নেক কাজের বেলায় গড়িমসি করে। সে যতটা না ভালো কাজের উপদেশ দেয়, খারাপ কাজের দিকে বেশি টানে। ফলে একটি নেক আমল করার ইচ্ছা জাগলে নফস তখন বোঝায়, ‘কাজটা পরেও করতে পারবে।’ এভাবে সে অলসতার স্রোতে ভাসিয়ে দেয় এবং অন্য কাজে মনকে ব্যস্ত করে ভুলিয়ে দেয়। তাই যখনই কোনো আমল করার ইচ্ছা মনে জাগবে, দেরি করবেন না। দ্রুত মাঠে নেমে পড়বেন।
২) আমলটি করে বড়াই না করা, বরং নিজেকে ছোট মনে করা — কখনও কখনও একটি আমল করতে পেরে আমরা আত্মতৃপ্তিতে ভুগি। নিজস্ব ক্রেডিট মনে করে অন্যদের কাছে বড়াই করি। বিশেষ করে কেউ যখন আমাদের কোনো অন্যায় কিছু দেখায়। তখন এমনভাবে বড়াই করি, যেন আমার দ্বারা কোনো ভুল হতে পারে না। কারণ আমি হজ করে এসেছি, প্রতি বছর যাকাত দিই, ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, দাড়ি রাখি, বড় আলিমদের সাথে সম্পর্ক রাখি, ইত্যাদি। এ ধরণের আত্মতৃপ্তি, বড়াই আমলের পূর্ণতার পথে অন্তরায়।
৩) আমলটি গোপন রাখা, প্রচার না করা — যেকোনো আমল কবুল হবার ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হচ্ছে ইখলাস। আর এই ইখলাস মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে যখন তাতে রিয়া বা লৌকিকতা ঢুকবে। তাই আমল করে আমল গোপন রাখার চেষ্টা করুন। আমাদের সালাফদের কেউ কেউ ৩০-৪০ বছর যাবত নফল রোজা রাখতেন, কিন্তু ঘরের মানুষজনও টের পেত না। এজন্যই তাদের আমল তাদেরকে পরিশুদ্ধ করত, তাদের আচার ব্যবহারে আমলের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত, তাদেরকে এত এগিয়ে দিত। . আল্লাহ তাআলা আমাদের আমলের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমা করুক এবং আমাদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুক।

