নীলফামারীতে আদালতকে অগ্রাহ্য করে এবতেদায়ী মাদ্রাসার নতুন গ্রুপকে শিক্ষা অফিসের সহায়তা অব্যাহত ??

0
1201

রংপুর প্রতিনিধি: নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলাধীন ১নং বড়ভিটা ইউনিয়নের অন্তর্গত মেলাবর ০৭ নং ওয়ার্ডে ১৯৮১ ইং সালে উত্তর মেলাবর নছিম উদ্দিন এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নছিম উদ্দিনসহ অন্যান্য ০৯ জন দাতা উক্ত মাদ্রাসা ও মসজিদে গত ৩০/০৩/১৯৮১ ইং তারিখে ২৬৩২ নং রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলমূলে ৫৭ শতক জমি ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তীতে ২৮/০৮/২০০০ ইং তারিখে ১৪৯১ দাগে দাতা আব্দুল মজিদ ৮৫৪৩ নং রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলমূলে নছিম উদ্দিন মাদ্রাসার নামে ০৫ শতক জমি দান করেন যাহাতে বর্তমানে মাদ্রাসার ঘরটি অবস্থিত যাহার দৈর্ঘ্য ২৪ হাত প্রস্থ বারান্দাসহ ১২ হাত। টিনসেট বিশিষ্ট হাফ ওয়াল ঘর এবং সামনে ইটের গাথুনি দ্বারা ঘেরা। মাদ্রাসার ঘরটির সামনে উত্তর মেলাবর নছিম উদ্দিন স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থাপিত ১৯৮১ নামে একটি সাইন বোর্ড লাগানো আছে। ১৯৮১ ইং সালে মসজিদ ও মাদ্রাসাটির মাতোয়াল্লি (সভাপতি) নছিম উদ্দিন থাকায় মাদ্রাসাটির নামকরণ করা হয় উত্তর মেলাবর নছিম উদ্দিন স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা। উক্ত মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ০৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলে ১৯৮৪ ইং সালে মাদ্রাসাটি প্রথমবারের মতো মঞ্জুরী প্রাপ্ত হয় এবং ১৯৮৪/৮৫ সালে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৫৫০/= টাকা কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের ১২১২ নং একাউন্ট হতে উত্তোলন করা হয়। যাহা মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পরিদপ্তরের স্বারক নং ১৩৫১০/৫৫০০ তাং ২৭/০৬/১৯৮৫। কিন্তু আকস্মিকভাবে দীর্ঘদিন সরকারী অনুদান বন্ধ থাকায় মাদ্রাসাটির কার্যক্রমসহ একাউন্ট নাম্বারটি বিলুপ্ত হয়ে যায় পরে আবার সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জে মাদ্রাসাটির নামে একাউন্ট খোলা হয় যার একাউন্ট নং ০১০২১০৭৫। এমনিভাবে চলিতে থাকায় সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি চালু করার নির্দেশ হইলে হঠাৎ একটি নতুন গ্রুপ উক্ত মাদ্রাসাটির স্ব-ঘোষিত প্রতিষ্ঠাতা দাবী করে। উক্ত মাদ্রাসার বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ হাসানুর রহমান অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন ই-তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারি যে নতুন গ্রুপের মূল হোতা জামিয়ুর রহমার মৌলভী (বড়ভিটা ইউনিয়ন শাখার জামায়াতের সাবেক সভাপতি, জামাত-শিবিরের চিহ্নিত তালিকাভূক্ত অপরাধী হওয়ায় ইতিমধ্যে জেল-হাজতও খাটেন) আমার মাদ্রাসার ভূয়া সভাপতি এবং আব্দুল মালেক মাষ্টার (জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সহিত জড়িত থাকায় পলাতক আসামী ছিলেন) আমার মাদ্রাসার ভূয়া সেক্রেটারী হিসাবে কিছু ভূয়া কাগজপত্র প্রস্তুত পূর্বক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করে উক্ত মাদ্রাসার কার্যক্রমে অন্তভূক্ত হন।

Advertisement

ফলশ্রুতিতে উক্ত মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি (নছিম উদ্দিন সাহেবের একমাত্র নাতি) মামুনার রশিদসহ অন্যান্য ১৩ জন বাদী হয়ে বিজ্ঞ সহকারী জজ কিশোরগঞ্জ নীলফামারী আদালতে গত ০৯/০৮/২০১৭ ইং তারিখে অন্য-৬৯/২০১৭ নং মামলা দায়ের করেন। যাহা বর্তমানে বিচারাধীন আছে। উক্ত মামলায় প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতাগণ মসজিদ মাদ্রাসায় ওয়াকফকৃত দলিল ও আব্যশ্যকীয় কাগজপত্র ফিরিস্তি যোগে আদালতে দাখিল করেন। উক্ত মাদ্রাসার ভূয়া সভাপতি ও সেক্রেটারীগণ মামলার নোটিশ প্রাপ্তি অন্তে সম্পূর্ন ভূয়া ও মিথ্যা উক্তির অবতারনা করেন কিছু জাল, ভূয়া, বানোয়াট এবং অকার্যকর কাগজপত্র দাখিল পূর্বক উক্ত মামলায় জবাব দাখিল করেন।

কিন্তু মাদ্রাসার নামীয় ১৫৯০ দাগে ৪২ শতক জমির কোন দলিল দাখিল করতে পারে নাই বলে উক্ত মাদ্রাসার বর্তমার সভাপতি মামুনার রশিদ অপরাধ বিচিত্রাকে জানান। অপরাধ বিচিত্রর অনুসন্ধানে আরও জানা যায় যে ১৯৮১ ইং সালে মেলাবর মৌজায় সিএস/এসএ ১৬৯৯ হাল ২১০৮ দাগে উক্ত মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা বললেও ঐ দাগের জমির উপর মাদ্রাসার কোন ঘর নাই বরং ইহা হাছিম উদ্দিন নামক এক ব্যক্তির জমি। নতুন গ্রুপটির মামলার আপত্তিতে আরও বলেন যে ১৯৮১ ইং সালে মেরাবর মৌজায় সিএস/এসএ ১৫৯৯ দাগে উক্ত মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত প্রকৃত পক্ষে ইহা সরকারী রাস্তার দাগ এই দাগে মাদ্রাসার কোন ঘর নাই।

নতুন গ্রুপটি ২০১৫/১৬ ইং সালে যে আটজন ছাত্র/ছাত্রী সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে বলে প্রবেশ পত্র পাঁচ খানা ও নাম্বার পত্র আট খানা ফিরিস্তিযোগে আদালতে জমা করেন বাস্তবে আটজন ছাত্র/ছাত্রী আদৌ উক্ত মাদ্রাসার নহে বরং নতুন গ্রুপটির স্বদলীয় আনোয়ার হোসেন সুপারের মেলাবর বালিকা মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার ছাত্র/ছাত্রী। বর্তমান সভাপতি মামুনার রশিদ অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন গত ১৬/১১/২০১৯ ইং তারিখের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এটিএম নূরল আমিন শাহ কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন এবং তদন্ত অন্তে আমার নিকট মাদ্রাসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাহেন এবং সৎ পরামর্শ পূর্বক দেখা করতে বলেন।

সে মোতাবেক ওনার সাথে দেখা করতে গেলে আমাদের সহিত অসদাচরন করে তাড়িয়ে দেন। গত ১৭/১০/২০১৯ ইং তারিখে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রনালয় স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা সম্পর্কীত তথ্য ছক উপজেলা ভিত্তিক চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে মাদ্রাসাগুলির যাচাই বাছাই করার নির্দেশ দেন। কমিটির রুপরেখা ১। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কিশোরগঞ্জ(সভাপতি), ২। সহকারী কমিশনার(ভূমি) (সদস্য), ৩। উপজেলা শিক্ষা অফিসার কিশোরগঞ্জ(সদস্য), ৪। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী (সদস্য সচিব)। নতুন গ্রুপটি দ্বারা অজানা কারনে প্রভাম্বিত হয়ে কোন প্রকার তদন্ত ব্যাতিরেখে অফিসে বসিয়া পক্ষ পাতিত্ব করে তথ্য ছকটি পূরণ পূর্বক সহি স্বাক্ষর করেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায় ১০/০৯/২০০৩ ইং তারিখে (তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ হোসেন মন্ডল অজানা কারনে নতুন গ্রæপটির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাদ্রাসার নামে রেজিষ্ট্রিকৃত ৪২ শতক জমি, মাদ্রাসাটিতে ০৫ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর, একটি ল্যাট্রিন ও একটি টিউবওয়েল এবং ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৭৮ জন ছাত্র/ছাত্রী দেখাইয়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। আসলে এটি নতুন গ্রুপের স্ব-দলীয় রফিকুল ইসলাম মাষ্টার কতৃক পরিচালিত মেলাবর ট্যালেন্ট কেজি স্কুল ও তার বাড়ি।

আবার ২৭/০৪/২০০৫ ইং তারিখে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ হোসেন মন্ডল একইভাবে নতুন গ্রæপটির স্ব-দলীয় রফিকুল ইসলাম মাষ্টার কতৃক পরিচালিত মেলাবর ট্যালেন্ট কেজি স্কুল ও তার বাড়ি পরিদর্শন করে বলেন যে মাদ্রাসার নামে রেজিষ্ট্রিকৃত ৪২ শতক জমি আছে মাদ্রাসাটির ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনের ঘর, একটি ল্যাট্রিন, একটি টিউবওয়েল এবং ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬০ জন ছাত্র/ছাত্রী দেখাইয়া প্রতিবেদন দাখিল করেন।

পরবর্তীতে ২৮/০৫/২০১৭ ইং তারিখে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ মোঃ তারিকুল ইসলাম পরিদর্শনে বলেন যে মাদ্রাসার নামে ৪২ শতক রেজিষ্ট্রিকৃত জমি আছে। ঐ জমির উপর মাদ্রাসার গৃহ অবস্থিত। মাদ্রাসার গৃহ বাঁশের বেড়া দ্বারা ঘেরা টিনের চালা বিশিষ্ট ০৫টি শ্রেণি কক্ষ, ০১টি অফিস ঘর, ০১টি পায়খানা, ০১টি প্রসাব খানা ও একটি নলকূপের ব্যবস্থা আছে।

বাস্তবে ইহা নতুন গ্রুপের স্ব-দলীয় রফিকুল ইসলাম মাষ্টার কতৃক পরিচালিত মেলাবর ট্যালেন্ট কেজি স্কুল ও তার বাড়ি দেখাইয়া প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে আরও জানা যায় নতুন গ্রুপটি আদালতের এক জবাবে ও আপত্তিতে বলেছেন ০৯/০৯/১৯৮৭ ইং তারিখে ১২৬১৯ নং দলিল মূলে বর্তমান সভাপতি মামুনার রশিদের পিতা জীবিতকালে ৪২ শতক জমি উক্ত মাদ্রাসায় দান করেন।

কিন্ত উক্ত ০৯/০৯/১৯৮৭ ইং তারিখের ১২৬১৯ নং দলিলের দাতা শ্রী কিশোরী রায় ও কৈলাশ চন্দ্র রায় গৃহিতা শ্রী রমেশ চন্দ্র রায় ও নরেশ চন্দ্র রায়। উক্ত দলিলের জমি মেলাবর মৌজার নহে বরং দক্ষিণ বড়ভিটা মৌজার জমি। ১৫৯০ দাগে নতুন গ্রুপটির স্ব-দলীয় রফিকুল ইসলাম মাষ্টার কতৃক পরিচালিত মেলাবর ট্যালেন্ট কেজি স্কুল ও তার বাড়ি অবস্থিত এখানে কোন মাদ্রাসা নাই। এমতাবস্থায় স্থানীয় সুশিল সমাজের মতামত হচ্ছে উত্তর মেরাবর নছিম উদ্দিন এবতেদায়ী মাদ্রাসাটি এবং দুটি পক্ষের মধ্যে যখন জটিল অবস্থা বিরাজ করছে এবং সকল জটিলতা

নিরশনের ভার যখন আদালতের উপর ন্যাস্ত আছে তখন কিভাবে আদালকে অগ্রাহ্য করে এবতেদায়ী মাদ্রাসার একটি নতুন গ্রুপকে কিশোরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারগণ পক্ষপাতিত্ব মূলক ভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন যেমন গত সেপ্টেম্বর ২০২০ করোনাকালীন সরকারী প্রনোদনা ভাতার চেক দেওয়া এবং দ্বিতীয় ধাপেও প্রনোদনা ভাতার চেক পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। কয়েক বছর থেকে নতুন গ্রুপকে ভূয়া ছাত্র/ছাত্রীর তালিকা অনুযায়ী বই সরকারী বই প্রদান।

অন্য প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীকে এনে নতুন গ্রুপটি উত্তর মেলাবর নছিম উদ্দিন স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার নামে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহনসহ অনেক অনিয়মে কিশোরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতাগণ কিশোরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে এটি এখন আদালতের ব্যাপার বলে মৌখিকভাবে এবং লিখিতভাবে দরখাস্ত আকারে অবগত করে গেলেও ষড়যন্ত্রের অপতৎপরতা কমছে না কারোরই।

অথচ উক্ত মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে যে নতুন গ্রপটি দাবী করছে প্রকৃতপক্ষে তারা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠাকালীন সময় নাবালক ছিলেন এমনকি প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও জমি দাতাগণ নছিম উদ্দিন সাহেব বাদে প্রায় সকলেই বেঁচে আছেন এবং নতুন গ্রুপটি প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও জমি দাতাগণের সম্পর্কের কেহই নন। 

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here