কেন্দ্রীয় মহিলা লীগ সদস্য অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি খুন হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার স্বামী জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভেকেট জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১১টায় চাঁদপুর শহরের ষোলঘর এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন তিনি।
পারিবারিক কহলের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। তবে পুলিশ বলেছে, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, নিজ বাসার দোতলায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন শাহীন সুলতানা ফেন্সি। অজ্ঞাতনামা ঘাতকরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে তাকে। নিহতের ভাই ফোরকানউদ্দিন খান জানান, তার ভগ্নিপতি গত কয়েক বছর আগে আরেকটি বিয়ে করেন। এই নিয়ে তাঁর বোনের সাথে বিরোধ চলছিল। তিনি ধারণা করছেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচণায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ঘটনার সময় দ্বিতীয় অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁর দলের সতীর্থ ফরিদা ইলিয়াস বলেন, শাহীন সুলতানা ফেন্সি অসম্ভব ভালো মানুষ ছিলেন। তার কোনো শত্রু থাকতে পারে না। তারা নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। সবশেষ শাহীন সুলতানা ফেন্সি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি এক সময় জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভনেত্রীও ছিলেন। চাঁদপুর শহরের ওয়াপদা এলাকার মৃত খলিলুর রহমান খানের ৮ সন্তানের মধ্যে শাহীন সুলতানা ফেন্সি ছিলেন চতুর্থ। বিগত ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা, আইনজীবী জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের তিন মেয়ে। এর মধ্যে দুজন ইউরোপে থাকেন। ছোট মেয়ে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছেন। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়ালী উল্লাহ জানিয়েছেন, রাতেই পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, নিহতের স্বামী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দ্রুত বের করা হবে বলে জানান, সদর মডেল থানার ওসি। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ওচমান গনি পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল, মহিলা লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল ছুটে যান।

