নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও দিয়াবাড়িতে উদ্ধার বিপুল পরিমান অস্ত্র-গোলাবারুদের রহস্য দ্রুত উন্মোচন করতে হবে

0
1520

আশিকুর রহমান হান্নান ঃ
রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের ৫নং সেক্টরের ভুঁইয়া বাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন গুতিয়াবো এলাকার ক্যানেল (ডোবা) থেকে উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মালিক এখনও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ আসামির কেউ-ই এসবের মালিক এবং আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত নয় তা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তে আরও জানা গেছে, মাছ ধরতে গিয়ে এ অস্ত্রের সন্ধান পায় তারা। কিন্তু তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে অবৈধভাবে এগুলো বেচাকেনার চেষ্টা করছিল। ডোবা থেকে একটি ব্যাগের ৮টি অস্ত্র তারা নিজেদের কাছে লুকিয়েও রেখেছিল। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ পাঁচ আসামিকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের কাছ থেকেই এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, গত ২ জুন সকাল থেকে পুলিশের অভিযানে রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের লেক ও মাটি খনন করে ও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে, ৬২টি এসএমজি, ৫১টি ম্যাগাজিন, ৭.৬২ বোরের ৫টি পিস্তল, ২টি ওয়াকিটকি, ২টি রকেটলাঞ্চার, ৫৪টি গ্রেনেড, ৪৯টি রকেট লাঞ্চার প্রজেক্টর, এসএমজির ম্যাগজিন ৪৪টি, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ডেটোনেটর ও গুলি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহায়তায় পুলিশ এগুলো উদ্ধার করে। প্লাস্টিকের ব্যাগে বিশেষভাবে মুড়িয়ে এগুলো লেকের একটি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শরীফ খান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব অস্ত্র-গোলাবারুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। পরদিন ৩ জুন পুলিশ শাহীন ওরফে সানা, শান্ত, রাসেল ও মুরাদ নামে আরও চার যুবককে গ্রেফতারের কথা জানায়। ৩ জুন রাতে রূপগঞ্জ থানায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় অস্ত্র মামলা। ৪ জুন তাদের আদালতে সোপর্দ করে ৮দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। মামলার অভিযোগে পুলিশ বলেছে, মাস দেড়েক আগে হৃদয় নামে এক যুবক পূর্বাচলের ওই জলাধারে মাছ ধরতে গিয়ে একটি ব্যাগের সন্ধান পায়। সে বিষয়টি মুরাদ, শাহীন, শান্ত ও রাসেলকে জানায়। তারা বিষয়টি শরীফকে জানায়। শরীফসহ সবাই মিলে সেই ব্যাগ তুলে দুটি অস্ত্র পূর্বাচল ব্লুসিটিতে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে। একটি শরীফের হেফাজতে রাখে। বাকি ৫টি অস্ত্র মুরাদ নিজের কাছে রাখে। জলাধারে অভিযানের আগেই পুলিশ শরীফ ও অন্যদের হেফাজতে থাকা ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করে। আর মুরাদের কাছে থাকা বাকি পাঁচটি অস্ত্র ভোলাব এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এই অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, হৃদয়ের মাধ্যমেই এই অস্ত্রের সন্ধান পায় তারা। তারা কয়েকটি অস্ত্র বিক্রির জন্য চেষ্টা করছিল। তবে অস্ত্র আনা বা পাচারের সঙ্গে তারা জড়িত নয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা অস্ত্রের বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে না জানিয়ে নিজেরাই ‘ই-লিগ্যাল ট্রেডের’ সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রের পুরো চালানটি আনা বা কোথাও পাচারের বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তারা কেন পুলিশকে বিষয়টি জানালো না বা আরও কেউ এই বিষয়টি জানতো কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাও মনে করেন, এত বড় চালানের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়াদের কারও যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তাদের ধারণা, এসব অস্ত্রের সঙ্গে এক বছর আগে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মিল রয়েছে। অস্ত্রের ধরণ, অস্ত্রের সঙ্গে পাওয়া ব্যাজ থেকে মনে হচ্ছে এসব অস্ত্র ভারতীয় কোনও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে এসব অস্ত্র গোপনে ওই জলাধারে ফেলে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ওই জলাধার থেকে অস্ত্রের ব্যাগগুলো হয়তো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হতো। এদিকে, রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে বিপুল পরিমাণের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলামকে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী আশরাফ, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো: মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম, রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাইল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ ডিবির ওসি মাহমুদুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দিয়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের জিডির তদন্ত করছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম- সিটিটিসি ইউনিট। ওই ঘটনায় অস্ত্র ফেলে যাওয়ার সময় একজন প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ কনস্টেবল জানিয়েছিলেন, একটি কালো পাজেরোর মাধ্যমে এসব অস্ত্র ফেলে যাওয়া হয়। এক বছরেও পুলিশ সেই কালো পাজেরোর মালিককে খুঁজে বের করতে পারেনি। পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, দিয়াবাড়ির ওই গ্রুপটিই পূর্বাচলের ওই জলাধারে অস্ত্র ফেলে এসেছে। এদিকে, পূর্বাচল উপশহরের খাল থেকে রকেট লাঞ্চার গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমান গোলাবারুদ উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর উৎস, গন্তব্য ও ব্যবহার নিয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন সূত্র কাজে লাগাচ্ছে। এর আগে গতবছর জুনে দিয়াবাড়ি এলাকার একটি খাল থেকেও বিপুল পরিমান অস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তে ওই অস্ত্রের মালিক সরবরাহকারি বা বহনকারিকে খুঁজে পায়নি। ওই ঘটনায় এখনো ধরাও পড়েনি কেউ। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গোপনীয়) মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, কেন, কে বা কারা কী কারণে এসব অস্ত্র পূর্বাচল উপশহরের খালে মজুদ করেছিল তা নিয়ে অনুসন্ধ্যান চলছে। এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রের চালানের সন্ধ্যান মিলেছে। ওই মাদক ব্যবসায়ী আড়ালে আর কী কী ধরনের অপরাধে জড়িত তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গোপনীয়) মোঃ মনিরুজ্জামান আরো বলেন, রকেট লাঞ্চার, টাইম ডিভাইস, ওয়াকিটকি বা এসএমজি সাধারণ সন্ত্রাসী বা ক্যাডাররা ব্যবহার করে না। এসব ব্যবহার করে সাধারণত দুর্গম অঞ্চলে আত্মগোপনে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো।
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচল উপশহর থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার অত্যন্ত শঙ্কার কারণ। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুদ করে রেখেছে, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই কোনো অপরাধী চক্র এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ এনে থাকতে পারে।’ দেশকে অস্থিতিশীল করতে এসব অস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে। এখন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নয়, প্রকৃত রহস্য জানা জরুরি। যেকোনোভাবে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রশ্ন হলো, একজন সাধারণ মাদক ব্যবসায়ী কিভাবে বিপুল অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুললেন অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে কিছুই টের পায়নি। অস্ত্রের পরিমাণ ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার থেকে ধারণা করা যায়, শক্তিশালী কোনো চক্রের সহযোগিতা ছাড়া এভাবে অস্ত্র মজুদ সম্ভব হতো না। এর আগে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হলেও প্রকৃৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এক বছর আগে ২০১৬ সালের জুন মাসে পুলিশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর দিয়াবাড়ি খাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ডুবুরি দল ১০৮টি পিস্তল, ২১৭টি ম্যাগাজিন, ১০০০ রাউন্ড গুলি, এলএমজির গুলি ৪০টি এবং ১১টি বেয়নেট উদ্ধার করে। এই অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে পুলিশের ভাষ্য ছিল দিয়াবাড়ির ওই খালের পাশের সড়কে তিনজন লোক একটি গাড়ি নিয়ে আসে। তারা ওই খালে একটি ব্যাগ রাখছিল। ঘটনাটি থানার এক কনস্টেবল দেখে ফেলেন। তিনি গাড়ি নিয়ে এগোলে তারা পালিয়ে যায়। পরে তল্লশি চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পূর্বাচল উপশহর থেকেও একইভাবে অস্ত্র উদ্ধার করা হলো। এসব অস্ত্র উদ্ধারের পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। আটক ব্যক্তির সাথে এসব অস্ত্র উদ্ধারের সংশ্লিষ্টতা যেমন খতিয়ে দেখা দরকার, তেমনি কিভাবে এসব অস্ত্র এলো তাও খতিয়ে জানার দরকার। যেকোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অপরাধীদের হাতে এ ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র চলে গেলে দেশে যেকোনো ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এর আগে দিয়াবাড়ী থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর সঙ্গে রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রগুলোর মিল রয়েছে। সেখানে যেভাবে অস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল, এখানেও একইভাবে ব্যাগের মধ্যে অস্ত্রগুলো পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো গোষ্ঠী বহু আগে দেশে এনে মজুদ করে রেখেছিল। এক বছরের মাথায় রাজধানীর দিয়াবাড়ি এবং রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের দুটি স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা ছাড়াও দেশের কয়েকটি স্থান থেকে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগের। অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যদের সাফল্য। কিন্তু এই সাফল্যের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ কোথা থেকে এল, কারা এর সঙ্গে জড়িত সেই রহস্য উদ্ঘাটন জরুরি। যারা এসব অস্ত্র এনেছে, লুকিয়ে রেখেছে, তাদের সম্পর্কে সব তথ্য ও রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। মারাত্মক কোনো অপপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব অস্ত্র-গোলাবারুদ আনা হয়েছে, এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অস্ত্র-গোলাবারুদ আনা এবং লুকিয়ে রাখা দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রেরই অংশ। এসব ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা জড়িত তা উদ্ঘাটন করা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই জরুরি। বর্তমানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকটি সফল অভিযানে জঙ্গি গ্রেফতার, তাদের লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্রের জোগানদাতা কারা, কোথা থেকে এসেছে, কারা এনেছে, জঙ্গি দমনে এসব রহস্য উদ্ঘাটন জরুরি। এক বছর আগে দিয়াবাড়ী খাল থেকে যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল, এ ঘটনায় পুলিশ তিনটি জিডি করেছে, কিন্তু তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনাগুলো হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই, সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় তা দেখছেনও না। অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের সব ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করা হোক। যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে দেশ ও দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে।
রাজধানী ঢাকা কিংবা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা নতুন না হলেও রূপগঞ্জের লেক এবং ওই এলাকার মাটি খনন করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনা ইতোমধ্যে নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনিতেই নানা কারণে নাজুক। এমন পরিস্থিতির ভেতর বহুল আলোচিত পূর্বাচল উপশহরের ৫ নম্বর সেক্টরের ওই লেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ কীভাবে আসতে পারে, এমন জিজ্ঞাসা অযৌক্তিক নয়। ঘটনাটি একদিকে যেমন আতঙ্কের তেমনিভাবে রহস্যাবৃত। অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে  মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্ত করতে একটি চক্র নাশকতার লক্ষ্যে এসব অস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে চক্রটিকে আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দিয়াবাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। কিন্তু রূপগঞ্জের পূর্বাচলের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে আমরা আশাকরি দিয়াবাড়ির ঘটনার রহস্যও জানা সম্ভব হবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, অস্ত্রগুলো আনার পেছনে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্রান্ত থাকতে পারে। রূপগঞ্জের এ ঘটনার সঙ্গে গতবছর উত্তরার একটি খাল থেকে বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও মনে করছেন তারা। দেশে পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে, জঙ্গি সংগঠন গড়ে ওঠা, বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র মজুদের এসব ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। বর্তমান অবস্থার আলোকে দেশে আরও অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে কিনা সাধারণ মানুষের এমন আশঙ্কারও যৌক্তিকতা অস্বীকার করা যাবে না। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযানে প্রায়ই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনার কথা জানা যায়। অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধার পুলিশের সাফল্য বলে বিবেচিত হলেও রূপগঞ্জের পূর্বাচলের এ ঘটনা উদ্বেগেরও অন্যতম কারণ। অপরাধ দমনে দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বারবার তাদের কঠোরতার কথা বলে আসছে। এর প্রমাণও মেলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সফলতা এবং অস্ত্র উদ্ধারের বিভিন্ন ঘটনা থেকে। এরপরও প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয় যে, পুলিশ যেহেতু তাদের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার বলে আসছে সেখানে তাদের চোখ এড়িয়ে দুর্বৃত্তচক্র কীভাবে অস্ত্রগুলো জড়ো করল? আর এর দায়ই বা কার? পুলিশেরই কর্তব্য হওয়া উচিত অস্ত্র মজুদের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করা। কীভাবে কারা এসব অস্ত্র ও গুলি সেখানে মজুদ করেছে তার রহস্যভেদের পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনাও জরুরি। পাশাপাশি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here