ধূর্ত, শক্তিশালী ও প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের ধরতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা চাইলেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। স্বাধীনতা দিবসে সব সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠনকে একত্রিত হয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিজ্ঞা করার আহ্বানও জানান তিনি। সোমবার সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ’ উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজরা অনেক বেশি ধূর্ত ও শক্তিশালী; অনেক প্রভাবশালীও বটে। একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এদেরকে ধরা সম্ভব না।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানকে সবাই মিলে সাহায্য সহযোগিতা না করলে এটা অসম্ভব ব্যাপার। দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে দুর্নীতির লাগাম টানতে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ শক্ত অবস্থান নিতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদকের একার পক্ষে লড়াই করে সফল হওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, এই দুর্নীতি দমন কমিশনের এক হাজার ৭৩ জন লোক নিয়ে একা ১৬ কোটি মানুষের দেশ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ অসম্ভব। এটি কেউ যদি আশা করেন তাহলে ভুল হবে। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আমরা উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছি, কিন্তু এই জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। উন্নয়নকে আমাদের টেকসই করতে হবে। এটাকে টেকসই করতে হলে অর্থনৈতিক দিকে যে অর্জন আমরা করেছি, সেই অর্জন যদি আমরা ধরে রাখতে চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। ‘বন্ধ হলে দুর্নীতি, উন্নয়নে আসবে গতি‘ প্রতিপাদ্য নিয়ে সকালে জাতীয় ও কমিশনের পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহের উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। এরপর কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ও পোস্টার প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তিনি। সোমবার থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রদর্শনী সবার জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে দুদক কমিশনার নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও এএফএম আমিনুল ইসলামসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর দুদক কর্মকর্তারা সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

