পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে ফিল্মিস্ট্যাইলে কলেজ শিক্ষিকা অপহরণের ৩০মিনিটের মধ্যে স্থানীয় জনতা অপহরণকারীদের ধাওয়া করে অপহৃতাকে উদ্ধার করেছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় লেবুখালী-বাউফল মহাসড়কের কলেজ গেইট এলাকায় প্রকাশ্যে এ অপহরণ চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে। এব্যাপারে ভিকটিম দুমকির এল. এ.এম ইউনাইটেড মহিলা কলেজের পদার্থ বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক তাহেরা আলী রুমা বাদি হয়ে তার সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ জাহান মানিকসহ ৭/৮জন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় একটি অপহরণ চেষ্টার মামলা দায়ের করেছে।মামলার এজাহারে কলেজ শিক্ষিকা তাহেরা আলী রূমা অভিযোগ করেন,
কলেজের রুটিন ক্লাশ শেষ করে বেলা সোয়া ১২টায় বাসার উদ্দেশ্যে কলেজ গেটে যাওয়ার পথে পূর্বথেকে ওঁথপেতে থাকা তার সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ জাহান মানিক ও তার সহদর আরিফের নেতৃত্বে ৭/৮জনের একটি অপহরণকারিচক্র আকস্মিক তাকে টেনে হিচড়ে মাহেন্দ্রা গাড়ীতে তুলে লেবুখালীর দিকে যাচ্ছিল।
এসময় তার ডাকচিৎকার শুনে উপজেলার থানা ব্রিজ এলাকার লোকজন ধাওয়া করে প্রায় ৩কি.মিটার দুরত্বের লালখা ব্রিজ এলাকায় অপহরণকারীদের মাহেন্দ্রা গাড়ীটিকে স্থানীয় শ্রীরামপুর ইউপি সদস্য হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে কয়েকজন অটো-মোটরসাইকেল চালক অপহরণকারীদের ধাওয়া দিলে তাকে (ভিকটিম) রাস্তায় ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা মো. আল-ইমরানের কাছে অভিযোগটি অবহিত করত: দুমকি থানায় অপহরণ চেষ্টার মামলাটি দায়ের করেন।
ভিকটি তাহেরা আলী রুমা জানায়, ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া গ্রামের মৃত শাহজাহান বিডিআরের ছেলে যৌতুক লোভী সাইফুল্লাহ জাহান মানিকসহ তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠসহ দাম্পত্য কলহের জেরে দু’বছর পূর্বে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তাদের সংসারে একছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তিনি দুমকিস্থ ভাড়া বাসায় থেকে নিয়মিত কলেজে চাকুরি করছেন।
ডির্ভোসের পর থেকেই তার সাবেক স্বামী সাইফুল্লাহ মানিক নানা ভাবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এ ব্যাপারে দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা আছে। থানায় অভিযোগ করার পর থেকেই চক্রটি তাকে জীবনের তরে শেষ করে ফেলার অপচেষ্টা করে আসছে। বর্তমানে তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন।
প্রকাশ্য দিবালোকে এমন অপহরণ চেষ্টার ঘটনায় হতবাক এল.এ.এম কলেজের অধ্যক্ষসহ সহকর্মী সকল শিক্ষক-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিক থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিৎ করে বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত চলছে।

