ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামে আটরশির মুরিদ অপবাদ দিয়ে দুই মৌলভীর ফতোয়ার কারণে একঘরে হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। এ ঘটনায় ফতোয়াবাজদের বিচার দাবী করে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সুবর্নচর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভূক্তভোগী ওই পরিবারের সদস্যরা।
অভিযোগে জানা যায়, জাহাজমারা গ্রামের আবদুল জলিল মাঝির স্ত্রী রৌশনারা বেগম ২৪ মে মারা যান। বিষয়টি জানার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তরিক উল্যা মাষ্টারের বাড়ির মাওলানা আবদুল বাতেন ও মাওলানা মোকাব্বেল হোসেন মৃত রৌশনারাকে আটরশির মুরিদ বলে জানাযার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় লোকজনকে ক্ষেপিয়ে তোলে। এক পর্যায়ে জাকের পার্টির লোকজন বিভিন্ন স্থান থেকে এসে দলীয় মাওলানা দিয়ে জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ফতোয়াবাজরা আবদুল জলিল মাঝি ও তার পরিবারের লোকজনকে নাস্তিক, ইসলাম বিরোধি সহ নানা ভাবে কুৎসা রটিয়ে তাদের সকলকে হত্যার নির্দেশ দেয়। ফলে পরিবারটি ঘর থেকে বের হতে পারছেনা এবং এলাকার কেউ তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাচ্ছেনা। এতে বেকায়দায় পড়েছে পরিবারটি।
এমতাবস্থায় মৃত রৌশনারার পরিবারের সদস্যরা দুই ফতোয়াবাজের বিচার দাবী করে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মাওলানা আবদুল বাতেন ও মাওলানা মোকাব্বেল হোসেনের সাথে আলাপ করলে তারা বিষয়টি এগিয়ে গিয়ে বলেন, এটি এলাকাবাসীর ব্যাপার। আমরা কিছুই জানিনা।
শনিবার সকাল ১০ টায় এ ব্যাপারে সুবর্নচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হারুন উর রশিদের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি এই মূহুর্তে আমার জানা নেই। এমন অভিযোগ পেলে অবিশ্যই আমরা স্থানীয় ভাবে বিষয়টি দেখবো।
