দু‘আ কবুলের ২০ টি গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং যেভাবে দু‘আ করলে আল্লাহ্ কবুল করেন

0
331

আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দু‘আ করলে তা কবুল করা হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু‘আ প্রত্যাখ্যান করা হয় না। অতএব, তোমরা (এ সময়ে) দু‘আ করো।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫২১; ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১২১৭৪; হাদিসটি সহিহ] ✪ মুয়াজ্জিনের সাথে আজানের জবাব দেওয়ার পর যে দু‘আ করা হয়, তা কবুল হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘মুয়াজ্জিনগণ যা বলে, তুমি তা বলো (আজানের জবাব দাও)। যখন শেষ করবে, তখন আল্লাহর কাছে চাও; তোমাকে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫২৪; হাদিসটি হাসান সহিহ] ✪ রাতের শেষভাগে এবং ফরজ নামাজের পর দু‘আ কবুল হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, ‘‘কোন (সময়) দু‘আ সবচেয়ে বেশি শোনা হয় বা কবুল করা হয়?’’ তিনি উত্তরে বলেন, ‘‘রাতের শেষাংশের মধ্যে এবং ফরজ নামাজসমূহের পর।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-

Advertisement

সুনান: ৩৪৯৯; হাদিসটি হাসান] ✪ আযানের সময় এবং জি*হা*দে*র উত্তপ্ত ময়দানে দু‘আ কবুল হয়। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘দুটি (সময়ের দু‘আ) ফিরিয়ে দেওয়া হয় না অথবা খুব কমই ফিরিয়ে দেওয়া হয়: আজানের সময়ের দু‘আ এবং (মুসলিম বনাম ক*ফি*রে*র) একে অপরের ল*ড়া*ই যখন তীব্র রূপ ধারণ করে (তখনকার দু‘আ)।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ২৫৪০, হাদিসটি সহিহ] ✪ জমজমের পানি পানের সময় দু‘আ। রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘জমজমের পানি ওই উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়ক, যে উদ্দেশ্য নিয়ে তা পান করা হয়।’’ [ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ৩০৬২; হাদিসটি সহিহ] ✪ নামাজের সিজদায় দু‘আ কবুল হয়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু

আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘বান্দা যখন সিজদায় রত হয়, তখন সে তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। কাজেই তোমরা (এ সময়ে) বেশি বেশি দু‘আ করবে।’’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৯৭০] ✪ দু‘আ ইউনুস দিয়ে দু‘আ করলে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যুন্নুন (ইউনুস আ.) মাছের পেটে দু‘আ করেছিলেন— لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحٰنَكَ إِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّالِمِيْنَ —কোনো মুসলিম যে বিষয়েই এভাবে (আল্লাহকে) ডেকেছে, তিনি তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫০৫; হাদিসটি সহিহ] ✪ স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রাচুর্যের সময় বেশি বেশি দু‘আ করলে কঠিন সময়ে দু‘আ কবুল হয়। রাসুুুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কামনা করে যে, বিপদ-কাঠিন্যের সময়ে আল্লাহ তার (দু‘আয়) সাড়া দিন, সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময়গুলোতে বেশি বেশি দু‘আ করে।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৩৮২; হাদিসটি হাসান] ✪ বৃষ্টির সময় দু‘আ কবুল হয়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “দুটি

দু‘আ প্রত্যাখ্যান করা হয় না। আযানের সময়ের দু‘আ ও বৃষ্টির নীচের দু‘আ।” [ইমাম তাবারানি, মু’জামুল কাবির: ৫৭৫৬; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ৩০৭৮, হাদিসটি সহিহ] ✪ আল্লাহর ইসমে আজম (মহিমান্বিত নাম) দিয়ে দু‘আ করলে দু‘আ কবুল হয়। এক ব্যক্তি নামাজের বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগে আল্লাহর ইসমে আজম দিয়ে দু‘আ করছিলেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘সে আল্লাহর ইসমে আজম (মহান নাম) দিয়ে দু‘আ করেছে, যে নাম দিয়ে ডাকলে সাড়া দেওয়া হয় এবং (কিছু) চাওয়া হলে তা প্রদান করা হয়।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯৫; ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১৩০০; হাদিসটি সহিহ] ✪ দু‘আর শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করা এবং এরপর রাসুলের উপর দরুদ পাঠ করা। একইভাবে দু‘আ শেষ করা। একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজে দু‘আ করতে শুনলেন। সে আল্লাহর প্রশংসাও করলো না, নবিজির উপর দরুদও পড়লো না। তখন নবিজি তাকে বললেন, ‘‘হে মুসল্লি! তুমি খুব তাড়াহুড়া করে ফেললে!’’ তারপর নবিজি তাদের শিক্ষা দিলেন (কীভাবে দু‘আ করতে হয়)। তখন তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে নামাজ আদায় করলো এবং আল্লাহর গুণ (মাহাত্ম্য) বর্ণনা করলো, তাঁর প্রশংসা করলো এবং রাসুলের উপর দরুদ পাঠ করলো। তখন নবিজি (তাকে) বললেন, ‘‘তুমি দু‘আ কর, কবুল করা হবে; (আল্লাহর কাছে) চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।’’ [ইমাম নাসায়ি, আস-সুনান: ১২৮৪; হাদিসটি সহিহ] দু‘আর শেষদিকে আবারও প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ

বর্ণনা করা অতঃপর নবিজির উপর দরুদ পড়ার মাধ্যমে দু‘আ শেষ করা। [ইমাম ইবনুল কায়্যিম, জালাউল আফহাম, পৃষ্ঠা: ৩৭৫] ✪ নেক আমলের উসিলা দিয়ে দু‘আ করলে আল্লাহ্ কবুল করেন। একবার তিন ব্যক্তি একটি গুহায় আটকা পড়েছিলো। একটি বিশাল পাথর গুহার মুখে এসে আটকে যায়। এমন কঠিন অবস্থায় তাদের একজন বললো, ‘‘জীবনের সবচেয়ে ভালো যে কাজটি করেছো, সেটি দিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করো।’’ তখন তিনজনই তাদের বিশেষ একটি করে নেক আমলের উসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দু‘আ করেছিলো এবং আল্লাহ তাদের দু‘আ কবুল করে পাথরটি একটু একটু করে পুরোটাই সরিয়ে দিয়েছিলেন। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ২২১৫] ✪ রাতে ঘুম থেকে ওঠার পর বিশেষ একটি দু‘আ পড়া এবং এরপর যা দু‘আ করা হয়, তা কবুল হয়। আমরা অন্য কোনো পোস্টে এটি নিয়ে আলোচনা করবো, ইনশাআল্লাহ্।

[ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১১৫৪] ✪ জুমু‘আর দিনে আসরের পর, মাগরিবের পূর্বে দু‘আ কবুল হয়। এ ব্যাপারে হাদিসটি দেখে নিন। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৪৯১; হাদিসটি সহিহ] ✪ বুধবার জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে দু‘আ কবুলের আশা করা যায়। একবার নবিজি সোম, মঙ্গল ও বুধবার মাসজিদুল ফাতহে দু‘আ করেন। তবে, বুধবারে দু‘আ কবুল হয়। এরপর থেকে জাবির (রা.) যখনই কোনো প্রয়োজনবোধ করতেন, বুধবার জোহর ও আসরের মাঝের সময়টাতে দু‘আ করতেন। তাঁর দু‘আ কবুল হতো বলে তিনি জানিয়েছেন। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৪৫৬৩; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১১৮৫; শায়খ আলবানি হাদিসটির সনদ হাসান বললেও শায়খ শু‘আইব দুর্বল বলেছেন] ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহ.) বলেছেন, ওই মসজিদে গিয়ে দু‘আ করা শর্ত নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ে দু‘আ করাই মূল। [ইক্বতিদা: ১/৪৩৩]

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here