শাহানাজ পাটোয়ারী : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (জিসিসি)’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মুহাম্মদ আরিফ আহম্মেদকে ১৫ মে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোঃ আব্দুল হান্নান সাক্ষরিত ওই শোকজ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয় তাকে। নোটিশে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অসংঙ্গত তুচ্ছ অভিযোগ তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কর্তব্যে অবহেলা এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখিত শোকজ নোটিশ থেকে আরও জানা যায়- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে গত ১৪ জানুয়ারি ৪৬,১৯.০০০০.০০৪.১৯.০০৬.২১-৯৬০/১(৪০) নং স্মারকের আলোকে অঞ্চল- ১, ২ ও ৩ হতে অঞ্চল- ৫ কাউলতিয়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বদলী করা হলেও তিনি আরিফ আহম্মেদ বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দেননি। পাশাপাশি সিটির কোন কাজে তাকে নিয়মিত পাওয়াও যাচ্ছেনা। যা কর্তব্য অবহেলার সামিল।
এরূপ আচরনের জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফ আহম্মেদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর খ এর (অ). (আ). (ঈ) ধারায় কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, জানতে চেয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়। জাবাব দিতে গিয়ে প্রকৌশলী আরিফ চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে বদলী হয়ে আসা তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে ২৬ মে তার বিরুদ্ধে আনা সুকজের জবাব দেন এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের নিকট সুকজ থেকে নিজের অব্যাহতি কামনা করেন।
যে জবাবে কর্তৃপক্ষ পাচ্ছেননা সঠিকতা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়- ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে যান্ত্রিক শাখায় (পুল) উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন সুদীপ বসাক। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ২৬ নভেম্বর সুদীপ বসাকসহ আরও পাঁচ উপসহকারী প্রকৌশলীর চাকরি নিয়মিত করা হয়। কাজের কর্মদক্ষতায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান তিনি।
এরপর ২০২২ সালের ২৩ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ জহিরু ইসলাম স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর ৬৮ ধারার ক্ষমতা বলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে ভোগান্তিমুক্ত নাগরিক সেবা প্রদান, আধুনিক নগরী গঠন এবং সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জিসিসি’র যান্ত্রিক শাখায় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে বদলি করা হয় তাকে। ইতিপূর্বে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের কাছ থেকে অনৈতিক কাজের সুবিধা গ্রহণ করতে না পাড়ায় উন্নয়ন ও প্রগতিশীল কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় সুবিধাভোগী কর্মকর্তা নানান অভিযোগ তুলে ধরে সুদীপ বসাককে ঘায়েল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।
অপরদিকে আরিফ আহম্মেদ ১৯৯৯ সালের ৮ মার্চ প্রথম নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ১৮মার্চ গৌরনদী পৌরসভায় যোগদান করেন। পরবর্তীতে নীলফামারী, ঝালকাঠি ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা হয়ে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বদলী করা হলেও তৎকালীন সাবেক প্রয়াত মেয়র এম এ মান্নান এর সময় জোর তদবীরে ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে যোগদান করেন তিনি। যোগদানের পর ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল মাত্র ৫ মাসের মাথায় অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় তাকে।
এরপর ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে স্ব-বেতনে সহকারী প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যেই সে পুনরায় নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব ও পদোন্নতি পাওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ে আবেদন করেন। সিটি কর্পোরেশনের আইন ভঙ্গ করে সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ে আবেদন করেছেন বিধায় ২০১৭ সালের ২৬ ফেব্রæয়ারি তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারণ দর্শাতে বলাতে হয়। উক্ত কারণ দর্শানোর নোটিশে তার জবাব সন্তোষজনক না থাকায় ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল তৎকালীন সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র, আসাদুর রহমান কিরণ আরিফের বিষয়ে আলোচনা করণ মর্মে নথি স্বাক্ষর করেন।
নথিটির দীর্ঘ ০৫ (পাঁচ) মাস কোন ব্যবস্থা না নিয়ে আসাদুর রহমান কিরণ দায়িত্ব ছাড়লে তৎকালীন মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান এর কাছে নথি উপস্থাপন করে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল মর্মে স্বাক্ষর করেন। নিয়মানুযায়ী সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ৫ (পাঁচ) বছর কাজ করলে তবেই তাকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করে ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর তাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তদুপরি ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি অঞ্চল-৫ কাউলতিয়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বদলী করা হলেও তিনি সেখানে যোগদান না করে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সিটি কর্পোরেশনের জনবল কাঠামোতে নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এর একটি পদে পূর্বে থেকেই একজন কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও আরিফ আহম্মেদ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন থেকে আনুতোষিক বাবদ ৩,৭৯,৯৪৩/- (তিন লক্ষ উনআশি হাজার নয়শত তেতাল্লিশ) টাকা এবং ভবিষ্যৎ তহবিলের ৬৪,০১৯/- (চৌষট্টি হাজার উনিশ) টাকা বাবদ চেক আনোতাষিক এর টাকাটি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে ভবিষ্যৎ তহবিলে জমা করেন বিধায় ২০২১ সালের ১৮ জুলাই ৩(তিন) সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোন তদন্তও হয়নি।
তাছাড়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রস্তাবিত Installation of Solar Panel and Energy Savings Street Light for reducing Power Consumption in Gazipur City Corporationরড়হ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ সম্পাদন না করেই ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে Work Completion Certificateপ্রদান করেন। শুধু তাই নয়, পূর্বেও অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, প্রভাববিস্তার ও কর্মস্থলে ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে আরিফ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের চাকরীকালে তিনি নিজের খেয়াল খুশিমত অফিসে আসা যাওয়াসহ বেশিরভাগ দিনই নামমাত্র অফিসে হাজিরা দিয়ে বাকি সময় অনুপস্থিতি থাকতেন। তার এমন কান্ড-জ্ঞানহীন কর্মকান্ডে অন্যান্য কর্

