দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি লুপ লাইনের কাজ

0
102

ভারতের শিলিগুড়ি ও বাংলাদেশের পণ্য আনা-নেওয়া এবং লোড-আনলোডের সুবিধা বাড়াতে নীলফামারীর সৈয়দপুর
রেলওয়ে স্টেশনে লুপলাইন সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের কাজ ২ বছরেও শেষ হয়নি। এ প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা

Advertisement

বাড়ানো হলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় লুপ লাইন পুনঃস্থাপনের কথা ১ হাজার
৪৪০ মিটার।
সর্বশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির পর চলতি বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান
বিক্ষিপ্তভাবে স্লিপার ও রেললাইন ফেলে রে খে লাপাত্তা হয়েছে। ফলে কাজ সম্পন্ন বিলম্বিত হওয়ায় বছরে কোটি টাকার
আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। অথচ কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ নেই
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ও ভারতের শিলিগুড়ি থেকে আমদানি করা পাথর ওয়াগন থেকে
ভেকু মেশিন দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে পাথর লোড করার কারণে সৈয়দপুর স্টেশনের পূর্বপাশের লুপলাইনগুলোর বেহাল
দশা হয়ে যায়। এতে প্রায়ই মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হতো। এ কারণে স্থানীয় রেলওয়ে দপ্তর ওই লাইন
চলাচলের জন্য অনুপোযোগী ঘোষণা করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লুপলাইন সংস্কারের জন্য ২০২২ সালে দরপত্র
আহ্বান করে।
দরপত্র অনুযায়ী রেলওয়ে স্টেশনের উত্তরে রেলওয়ের সংকেত ঘর ও দক্ষিণে দুই নম্বর রেলক্রসিং পর্যন্ত এক হাজার
৪৪০ মিটার রেলপথ সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য ৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। দরপত্রের মাধ্যমে সংস্কার
কাজটি পায় ঢাকার মেসার্সক্যাসেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০২৩ সালে ৩১ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি
কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর তিন
দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৬০ শতাংশ। তাই মেয়াদ বৃদ্ধির এ সময়ও কাজটি শেষ হওয়া সংশয়
প্রকাশ করেছেন তারা।
রেলওয়ে স্টেশন ইয়ার্ডেসরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রেলওয়ে স্টেশনের লুপলাইনের রেলপথে রেললাইন, কাঠের
স্লিপার ও সিমেন্টের স্লিপার এলোমেলোভা বে পড়ে রয়েছে। কিছুজায়গায় রেললা ইন বিছানো হলেও লাগানো হয়নি
ক্লিপ। বন্ধ রয়েছে সংস্কার কাজ।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির মালিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব
হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় রেলওয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কাজ শেষ
করার তাগাদা দিলে তারা জানান, ইলাসটিক রেল ক্লিপের (ইআরসি) সংকট রয়েছে। এলসি খোলার কাজ বন্ধ থাকায়
তারা এই ক্লিপ বিদেশ থেকে আমদানি করতেও পারছে না। তাই এ সংস্কার কাজটি বন্ধ রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবা ইদুল ইসলাম রতন বলেন, ভৌগোলিক দিক বিবেচনায় এ স্টেশনের
লুপলাইনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ব্য বাসায়ীদের ট্রেনযোগে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে পাথরসহ আমদানি পণ্য ও
দেশের মালামাল লাইগুলোতে রেখে লোড-আনলোড করা হয়। এ ছাড়া ট্রেনে করে দেশের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন পণ্য
আনা নেওয়ার কাজে এ লুপলাইনগুলো ব্য বহার করা হয়। এতে করে এখান থেকে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা
আয় করে রেলওয়ে। সেই হিসাবে বছরে প্রায় কোটি টাকা আয় থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে রেলওয়ে।
সৈয়দপুর রে লওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতান মৃধা বলেন, এক বছর মেয়াদে ২০২৪ সালের
ফেব্রুয়ারি মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ
বাড়িয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ সম্পন্ন করেননি। এরপর তৃতীয় দফা চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি
করা হয়েছে। এই বর্ধিত মেয়াদেও কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তারপরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলে
মেয়াদের আগেই দ্রুত কাজটি শেষ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here