তারা পুরো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নয়, কিছু সুনির্দিষ্ট ধারার বিরুদ্ধে

0
624

সরকার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করায় বিস্মিত হয়েছেন ঢাকার বিদেশি কূটনীতিকরাও। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ১১টি দেশের দূতাবাস নতুন আইন নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগ জানিয়েছে।

Advertisement

অন্য দূতাবাসগুলোও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাষ্ট্রদূত গত সপ্তাহে  আলাপকালে বলেন, নির্বাচনের আগে সব দেশে সরকারই চেষ্টা করে জনগণ ও তার ভোটারদের সন্তুষ্ট রাখতে। সরকারগুলো সাধারণত এমন কিছু করে না যাতে তাদের ভোটাররা অসন্তুষ্ট হয়। ভোটারদের তুষ্ট করতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার নজির প্রতিবেশী দেশগুলোতেও আছে। জানা গেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়ার বিষয়েও কূটনীতিকরা অবগত। বিদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, তারা পুরো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নয়, কিছু সুনির্দিষ্ট ধারার বিরুদ্ধে। কারণ সেগুলো নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে যৌক্তিক উদ্বেগ আছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর উদ্বেগ নিরসনে সরকার কী উদ্যোগ নেয় তারা তা দেখার অপেক্ষায় আছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার সময় থেকেই ঢাকায় ইউরোপীয় দূতাবাসগুলো নিবিড় দৃষ্টি রাখছে। খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারার ব্যাপারে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ মার্চ ইউরোপীয় ১১ জন রাষ্ট্রদূত ঢাকায় সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের প্রত্যাশার কথা জানান। শেষ পর্যন্ত সরকার যে আইন প্রণয়ন করেছে তাতে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এ কারণে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ডেলিগেশনের প্রধানসহ ১১ জন ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানান। এরপর যুক্তরাষ্ট্রও আলাদাভাবে বিবৃতি দিয়ে অভিন্ন উদ্বেগ প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ ইয়র্কে অবস্থানের সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) নির্বাহী পরিচালক জোয়েল সিমন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর জোয়েল সিমনের বক্তব্যে বাংলাদেশ, মিসর, কিরগিজস্তান, মিয়ানমারসহ বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের বিষয়টি উঠে এসেছে। নির্বাচনের আগে এমন আইন প্রণয়নের ফলে সরকার কতটা লাভবান হবে তা নিয়েও এ দেশের বিভিন্ন মহলে নানা মত রয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের ইউনিভার্সেল পিরিয়ডিক রিভিউয়ের (ইউপিআর) প্রতিবেদন গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ জানায়। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক ও আলাপচারিতার সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রসঙ্গ এসেছে। তাঁরা বিদেশিদের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদেশি কূটনীতিকরা বলছেন, সারা বিশ্ব যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করছে এবং আগামী নির্বাচনের জন্য সরকারপ্রধানকে শুভ কামনা জানাচ্ছে, তখনই এমন একটি আইন করা হচ্ছে যা এ দেশে উদ্বেগ ও শঙ্কার কারণ হয়েছে। তাঁরা আরো বলছেন, ভুয়া খবর, অপ্রচারসহ ডিজিটাল প্লাটফর্মের অপব্যবহারের মতো সমস্যা সারা বিশ্বেই আছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে যাতে আবার বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয় সেদিকেও দৃষ্টি রাখা উচিত।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here