অপরাধ বিচিত্রা রিপোর্টঃ
এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বৈধ কোন ট্রাস্টি বোর্ড নাই। নাই কোন বৈধ ভিসি, প্রো-ভিসি, কিংবা ট্রেজারার। সব পদই একজনের অবৈধ দখলে, আর তিনি ড. সাদেক। তবুও চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী, আবার যথারীতি পাশও করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে, আর তাতে যোগ দিচ্ছেন মন্ত্রী, এমপি-সহ বিভিন্ন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। যেন এক ভানুমতির খেল। লাগ ভেলকি লাগ, চোখে মুখে লাগ। আর এই ভানুমতি হলেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্বয়ং ড. সাদেক। তার অনিয়ম, অনৈতিকতা ও দুর্নীতি সর্বজনবিদিত। কিন্তু তার কিছুই হচ্ছেনা, যেন হবারও নয়। কারন তার রয়েছে অগাধ টাকা। টাকা যখন কথা বলে, সত্য তখন চুপ থাকে।
টাকার জোরেই হোক কিংবা অন্য কোন কলা-কৌশলে হোক ড. সাদেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি তথা চ্যন্সেলরের অনুমতি পেয়ে আবার বাতিল হওয়া ৫ম সমাবর্তনের চ্যান্সেলর কার্যালয়ের কার্যসূচী তৎকালে হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষরবিহীন কার্যসূচীটির পত্র সংখ্যা নং-রাকা/সএস/২/২০১১, তারিখ ২৭ মাঘ ১৮১৭, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১ সাল। তিনি কার্যসূচীটি প্রদর্শন করে তৎকালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন। অপরাধ বিচিত্রা সাদেকের অনৈতিক সন্তানদের খোঁজে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারে তার অনৈতিক কন্যা সুমাইয়া এখন এশিয়ানের ভর্তি সেকশনে অফিস সহকারি পদে চাকুরী করছে। মেয়েটির মা সাদেকের গৃহকর্মী ছিল। অসুস্থ অবস্থায় বেশ কয়েক বছর পূর্বে সে মারা যায়। মেয়েটি পরে তার সৎভাই রবিউল এবং এশিয়ানের প্রাক্তন গার্ড নীল মিয়ার তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়।
ইসলামের ছদ্মাবরনে অনৈসলামিক কাজে সাদেক এবং তার কওমদের জুড়ি নাই। মেট্রিক পাশ সহকারি প্রোক্টর শাহিদাকে সাদেক এবং তার অন্য তিন ভাই মিলে ভাগাভাগি করে ভোগ করেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। শাহিদা এখন সাদেকের দ্বিতীয় ভাই ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের স্থায়ী রক্ষিতা। কিছুদিন পূর্বে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক শাহিদার টঙ্গীস্থ ডায়গনস্টিক সেন্টারে এক পতিতার সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় মাস্তানসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনকে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়।
অপরাধ বিচিত্রার সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক হেলেনা ও আখতারুজ্জামানের লীলাখেলা নিয়া ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। ড. সাদেকের বড় বোনের জ্যেষ্ঠ কন্যা এশিয়ানের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাখার কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার ইসলামী লাইনে সর্বোচ্চ ডিগ্রীর অধিকারী। কড়া ইসলামী অনুশাসনের মধ্যে বেড়ে ওঠা এবং জীবন-যাপন তার। এক সময় তার চোখ দু’টি শুধু দেখা যেত, এমন হিজাব পরতো। পরে মামুজানের ফতোয়ার বদৌলতে এখন চোখের পরিবর্তে পুরো মুখমন্ডল উম্মুক্ত রেখে শরীর ঢেকে বোরকা পরে। স্বামীর সাথে হজ্জ্বও পালন করেছে বছর দুই পূর্বে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছে, সেখানে এক নাতি আছে। মেঝ মেয়ে নর্থ-সাউথের ছাত্রী, বাকীরা বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়ছে। স্বামী জাহাঙ্গীর হোসেন নিতান্তই গোবেচারা, সাদাসিধা, সহজ-সরল, নিরেট ভদ্রলোক। মাদ্রাসা ও সাধারন উভয় লাইনে তিনি সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী। আয়ুর্বেদ লাইনে গ্র্যাজুয়েট এবং সরকারী রেজিস্টার্ড হেকিম। সর্বোপরি তিনি একজন আইনজীবিও বটে। এহেন ভদ্রলোকে হেলেনা ম্যাডামের মন রোচেনা। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আখতারুজ্জামানের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। দুই সন্তানের জনক আখতারুজ্জামান বয়সের বিবেচনায় হেলেনার চেয়ে ৮ বছরের ছোট। একেবারে হলিউডি- বলিউডি কারবার। আখতারুজ্জামানই একমাত্র সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, যিনি বিশ^বিদ্যালয় ভবনে সম্পূর্ণ পৃথক একটি অফিস কক্ষের অধিকারী। তার অফিস কক্ষটি হেলেনা ম্যাডাম স্বহস্তে ইসলামী কায়দায় সর্বোচ্চ পর্দাপুশিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে সাজিয়ে দিয়েছেন। বাহির থেকে যাতে কোন বেগানা নারী-পুরুষ তাদের অবৈধ কর্মকান্ড দেখতে না পায়। আখতারুজ্জামান এর অফিস কক্ষটি তাদের দু’জনের প্রমোদ কক্ষ হিসাবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা যখন খুশি, যেমন খুশি যৌনলীলায় মেতে ওঠে। এ বিষয়ে আখতারুজ্জামানের বক্তব্য হলো, আমিতো তার কাছে যাইনা, সে-ই আমার কাছে আসে। স্বামী তাকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম। অফিস ফাঁকি দিয়ে ফ্যান্টাসি কিংডম কিংবা নন্দন পার্কে আবাসিক কক্ষে সময় কাটানো, রাইডে চড়া (সময় পেলে), খাওয়া-দাওয়া, আসা-যাওয়াসহ বিনোদনের সকল খরচ হেলেনার-আমার অসুবিধা কী? ফাও পেলে কে-না খায়? পরে একটু হেসে বললেন, হেলেনা বিছানায় যেসব আসনে অভ্যস্ত ও টেকনিক প্রয়োগ করে, তাতে নীল ছবির নায়িকারাও ফেল মারবে। এমন বীর্যখোর মহিলা আমি জীবনে দেখি নাই, এক ফোটাও মাটিতে পড়তে দেয়না। চেটেপুটে খায়। আসলে এটা তার পুরনো অভ্যাস। সে তার বাচ্চাদের গৃহশিক্ষকদের কাছ থেকেও মজা নিয়েছে। আমার টার্গেট হলো পরিচালক, ভর্তির পদ লাভ করা। হেলেনা ম্যাডামের বৈধ স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এক সময় এশিয়ানে চাকুরী করতো। জনশ্রুতি রয়েছে, সাদেক মামুর বালক সম্পর্কিত কোন বিষয় দেখে ফেলায় তার চাকুরী চলে যায়। বালকটি এশিয়ান ল্যাবরেটরী স্কুলের (অধুনালুপ্ত) প্রাক্তন ক্লিনার লাকীর ভাই বাবুল মিয়া।
এশিয়ানের তথাকথিত ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বার সেক্রেটারী ড. মুহাম্মদ মহসিন কর্তৃক সরবরাহকৃত ড. সাদেকের অবৈধ সম্পত্তির একটি তালিকা আমাদের হস্তগত হয়েছে। তালিকাটি নিম্মে দেওয়া হলো:
ইহা ছাড়াও
** কান্ডারী প্রপার্টিজ লিঃ, ডেভেলপার কোম্পানী এর চেয়ারম্যান থাকাকালীন শেয়ার প্রদান ৫ কোটি কিন্তু বর্তমানে কোং বন্ধ হওয়ায়
শেয়ারের বিনিময়ে উক্ত কোং এর ক্রয়কৃত সম্পত্তি গ্রহন যাহার সর্বনিম্ন মূল্য=১০ কোটি
** ঢাকা রিজেন্সি হোটেলে এর শেয়ার ক্রয়=১ কোটি
** ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোসাল ইসলামী ব্যাংক এর উত্তরা শাখা, মিরপুর শাখা, কারওয়ান বাজার শাখা, হাজারীবাগ শাখাসহ উক্ত ব্যাংক গুলোর ঢাকার বিভিন্ন শাখায় এফডিআর রয়েছে প্রায়=৩০০ কোটি
** গত ৫ বছরে বিভিন্ন মেয়াদে বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে প্রায়= ৬০০ কোটি
** বিদেশে পাচারকৃত টাকা দিয়ে কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও মালয়েশিয়া বাড়ী ক্রয় করা হয়েছে, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড এর বাড়ী তার ৩ মেয়ের দখলে এবং মালয়েশিয়ার বাড়ী কেয়ারটেকারের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
এই সম্পত্তিগুলো বিশ^বিদ্যালয়ের টাকা দিয়ে ড. সাদেক প্রথমে বিশ^বিদ্যালয়ের নামে ক্রয় করেন। পরে আবার মেম্মার সেক্রেটারীর মাধ্যমে নিজ নামে ট্রান্সফার করিয়ে নেন। মেম্বার সেক্রেটারী ড. মহসিন দেওবন্দের আলেম, আলীগড়ের পিএইচডি। কিন্তু সাদেকের মতই দুর্নীতিবাজ। জাল সার্টিফিকেট ব্যবসায় জড়িত মর্মে জনকন্ঠসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তার সম্পর্কে রিপোর্ট এসেছে। আরেক দুর্নীতিবাজও জাল সার্টিফিকেট ব্যবসায়ী হলো ইসলামের ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. আমিরুল ইসলাম। পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক কমান্ডার। ভূঁয়া কনভোকেশনের রেজিস্ট্রেশন ফি ৮০০০ টাকা করার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে এই কমান্ডারের। সাদেক এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের অবৈধ কায়কারবার কবে বন্ধ হবে? এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদৌ কোন ব্যবস্থা নেবে কি না-দেশবাসী তা জানতে চায়।

