ড. কামাল হোসেনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেন সাংবাদিক নেতারা

6
1061

অবি ডেস্ক রিপোর্ট: ড. কামাল হোসেনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেন সাংবাদিক নেতারা। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সাংবাদিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে বলেন, প্রশ্নকারী সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Advertisement

 

মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দি ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরি এবং সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা ড. কামাল হোসেনের প্রসঙ্গে বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে, মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রান্তিলগ্নে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের ক্রান্তিলগ্নে তিনি ঠিকই হাজির হন।
কত টাকার বিনিময়ে তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে মাঠে নেমেছেন সে প্রশ্নও ড. কামাল হোসেনের দিকে ছুড়ে দেন বক্তারা।

অরুচিকর মন্তব্যের জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ড. কামালকে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, তা না হলে সাংবাদিক সমাজও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে ঐক্যফ্রন্টের কোনো সংবাদ গণমাধ্যম আর কভারেজ করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনে ক্ষেপে যান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন।

শুক্রবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামাল বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে যারা কাজ করছে, লোভ-লালসা নিয়ে লুটপাট করছে, তাদের হাত থেকে এই দেশকে মুক্ত আমরা করবই। যত শক্তিধর হোক তারা, দেশের মালিক জনগণের কাছে তাদের নত হতে হবে, তাদের পরাজয় হবেই।

সাংবাদিকরা এ সময় স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ড. কামাল বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে তিনি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না। এরপরও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতে থাকেন।

একজন বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তারপরও তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে নির্বাচন করছে। ৮১ বছর বয়সী ড. কামাল এ সময় ক্ষেপে ওঠেন। তিনি বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। বেহুদা কথা বলো। কত পয়সা পেয়েছ এই প্রশ্নগুলো করতে? কার কাছ থেকে পয়সা পেয়েছ? তোমার নাম কী? জেনে রাখব তোমাকে। চিনে রাখব। পয়সা পেয়ে স্মৃতিসৌধকে অশ্রদ্ধা কর তোমরা। আশ্চর্য!

পাশে থাকা দু-একজন নেতা সে সময় কামাল হোসেনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আরেকজন সাংবাদিক এ সময় প্রশ্ন চালিয়ে গেলে ধমকে ওঠেন কামাল। বলেন, শহীদদের কথা চিন্তা কর। হে হে হে হে করছ!

শহীদদের কথা চিন্তা কর। চুপ কর। চুপ কর। খামোশ। পরে ড. কামাল প্রশ্ন করেন, ‘আশ্চর্য! তোমার নাম কী? … কোন পত্রিকার? … টেলিভিশন, জেনে রাখলাম।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here