মো: ফরমান উল্লাহ খান নিবিড়: গত ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার দিন আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় যাত্রাবাড়ী থানার এস আই মো: মনির হোসাইন এর নির্দেশে এ এস আই মো: বায়েজিদ হোসাইন এবং আনসার মিজান সহ সোর্স রাব্বি এবং অজ্ঞাতনামা দুই জন লোকের সহযোগিতায় মো: রিফাত নামে একজনকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ছনটেক এলাকা হতে ৫ পুরিয়া হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করে ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নানের বাসায় জোরপূর্বক অনাধিকার প্রবেশ করে জুলুম এবং লুটপাট ও বিনা অপরাধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার দিন আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকার সময় যাত্রাবাড়ী থানাধীন আব্দুল মান্নান (৫৭), পিতা-মৃত হেদায়েত উল্লাহ, সাং-হোল্ডিং নং-২৯/১৩, ছনটেক রওশন কুঞ্জ, নিচতলার ভাড়াটিয়ার বাসায় যাত্রাবাড়ী থানার এস আই মো: মনির হোসাইন তার সঙ্গীয় ফোর্স এবং সোর্স ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নানের বাসায় অনাধিকারে প্রবেশ করে।
ভুক্তভোগী গাড়ি চালক আব্দুল মান্নান এসআই মনিরকে তার নিজ বাসায় প্রবেশ করার কারন জিজ্ঞাসা করলে এস আই মো: মনির হোসাইন, ভুক্তভোগীকে নানারকম ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদর্শন করে ভুক্তভোগীর ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেন দেলুকে (৩৭) গ্রেপ্তার করার জন্য বাসায় প্রবেশ করেছে বলে এস আই মো: মনির হোসাইন ভুক্তভোগীকে জানায়। ভুক্তভোগীর ছেলেকে বাসায় না পেয়ে বাসায় মাদক তল্লাশি নামে নাটক করে এস আই মো: মনির হোসাইন সহ তার ফোর্স এবং সোর্স ও অজ্ঞাতনামা দুইজন লোক ভুক্তভোগীর বাসার আসবাবপত্র ভাংচুর ও তছনছ করে ফেলে।
অত:পর এস আই মো: মনির হোসাইন সহ তার ফোর্স এবং সোর্সরা মাদক না পেয়ে এস আই মনির হোসাইন ভুক্তভোগীর বাসার বিছানার নিচ হতে তার উপার্জিত ২৮,০০০/- (আটাশ হাজার) টাকা এবং ওয়ার্ডড্রপের ড্রয়ারের তালা ভেঙ্গে ১১,৫০০/- (এগারো হাজার পাঁচশত) টাকা মিলিয়ে সর্বমোট নগদ ৩৯,৫০০ টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীর বাসা হতে টাকা নেওয়ার ব্যপারে যাত্রাবাড়ী থানায় এস আই মো: মনির হোসাইনকে জিজ্ঞাসা করিলে এস আই মো: মনির হোসাইন ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শরীরে হাত প্রদান করে।
ভুক্তভোগীর ছেলেকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে যাত্রাবাড়ী থানার এস আই মো: মনির হোসাইন ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর গাড়ির হেল্পার মো: সানিকে (২৮) অন্যায় ভাবে কোনো মাদক না পেয়ে তার বাসা হতে টানা হেচড়া করে হেরোইন নামক মাদক মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করে। অত:পর গত ৩০/০৮/২০২৩ইং তারিখ আনুমানিক রাত ১২:৩০ ঘটিকার সময় এবং ভোর ৪:০০ ঘটিকার সময় যাত্রাবাড়ী থানার এস আই মো: মনির হোসাইন সহ তার ফোর্স এবং সোর্স নিয়ে ভুক্তভোগীর ছেলেকে গ্রেপ্তার করার জন্য ভুক্তভোগীর বাসায় আসে।
ভুক্তভোগীর ছেলেকে না পেয়ে এস আই মো: মনির হোসাইন ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ্য করে বলে যে, তোমার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া মাত্র হাড়গোড় ভেঙ্গে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দিব এবং আরো বলে যে, ভুক্তভোগীর বাসা হতে টাকা পয়সা নেওয়ার ব্যপারে কারো নিকট জানালে কিংবা বাড়াবাড়ি করলে এস আই মো: মনির হোসাইন ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদান করে তার ফোর্স এবং সোর্স নিয়ে বাসা হতে চলে যায়।
ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান সুবিচার পাওয়ার স্বার্থে যাত্রাবাড়ী থানার এস আই মো: মনির হোসাইন, এএস আই মো: বায়েজিদ হোসাইন এবং আনসার মিজান এর অপকর্মের বিরুদ্ধে মাননীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট গত ০৫/০৯/২০২৩ ইং তারিখ লিখিত অভিযোগ প্রদান করে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর মামলার সূত্রে জানতে পারে, তার গাড়ির হেল্পার মো: সানির নিকট কোনো মাদক না পেয়ে সানিকে মামলার ১ নং আসামী এবং তার ছেলে মো: দেলোয়ার হোসেন দিলুকে ৩ নং পলাতক আসামী হিসেবে যাত্রাবাড়ী থানাতে হেরোইন নামক মাদক দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং-১২৭ তাং-২৯/০৮/২০২৩ ইং।
এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী এবং তার ছেলেকে নিয়ে এস আই মো: মনির হোসাইন এবং এ এস আই বায়েজিদ হোসাইন এর চরম বেপোরোয়া ও মারমুখী আচরণের কারনে ভুক্তভোগী ও তার ছেলে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় এক অজানা আতঙ্কে দিনযাপন করছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী এবং তার ছেলে জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুক্তভোগী এস আই মনির হোসেন গং এর অপকর্মের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে অবগত করলে এস আই মনির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীর ছেলে এবং গাড়ির হেল্পারকে হেরোইন নামক মাদক উল্লেখ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করে। এ বিষয়ে এস আই মনির হোসাইন এর নিকট মুঠোফোনের মাধ্যমে এবং সাক্ষাৎ করে জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রকার সন্তোষ জনক উত্তর দিতে পারেননি বরং সংবাদকর্মীকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে আপোষ করার চেষ্টা করেন।
উল্লেখিত বিষয় টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক পুলিশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে এহেন দমন, নিপীড়ন, নির্যাতন বন্ধ করতে এবং যাত্রাবাড়ী থানার অসাধু পুলিশ এস আই মো: মনির হোসাইন এ এস আই মো: বায়েজিদ হোসাইন এবং আনসার মিজানের এর অপকর্মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারন মানুষের পুলিশের প্রতি আতঙ্ক দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন স্থানীয় সচেতন মহল।

