টেস্ট বানিজ্যে অসহায় সাধারন রোগীরা

0
903

নারায়ণগঞ্জ শহরের ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারগুলিতো বটেই সরকারী দুটি হাসপাতাল থেকে শুরু করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সর্বত্র ডাক্তারদের টেস্ট বনিজ্যে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষ।

Advertisement

 

নারায়ণগঞ্জ শহরে ছোটে বড় প্রায় অর্ধশতাধিক ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার রয়েছে। এসব ডায়ানোষ্টিক সেন্টারে বসে বহু ডাক্তার। এসব ডাক্তারের মূল টার্গেটই থাকে টেস্ট বানিজ্য। একজন রোগীর কাছ থেকে ডাক্তাররা এক হাজার টাকা ভিজিট নেন তাহলে আরো পাঁচ হাজার টাকার নানা রকমের টেস্ট দেন। যার ফলে রোগীরা ভয়ে এসব টেস্ট করাতে বাধ্য হন। আর এই টেস্টের মূলেই রয়েছে অন্তত ৫০%/৬০% কমিশন (ঘুষ)। তাই সাধারন রোগীরা এখন নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। ডাক্তাররা কেবল টেস্ট বানিজ্যেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না বরং তারা ওষুধ কোম্পানীগুলির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ খেয়ে গাদাগাদা ওষুধ লিখছেন এবং সাধারন রোগীরা এই ওসুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত এভাবেই সাধারন রোগীদের গলা কাটা হচ্ছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দুটি সরকারী হাসপাতালেও একই রকম বানিজ্য চলছে। পারতপক্ষে এই দুটি হাসপাতালে সামান্য স্বচ্ছলতা আছে এমন কোনো রোগী যান না। একেবারেই হতদরীদ্র রোগীরাই গিয়ে এসব হাসপাতালে চিকিৎসা করান। তাদেরকেও পরতে হয় হাসপাতালের চিকিৎসকদের টেস্ট বানিজ্যের খপ্পরে। তারাও কোনো রোগীর একটি টেস্ট লাগলে পাঁটি টেস্ট লিখেন। বলে দেন অমুক ডায়াগনোষ্টিাক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করে নিয়ে আসুন। রোগীরা নিরুপায়। এদিকে নারয়গঞ্জের দুটি হাসপাতালে অধিকাংশ রোগীকেই ভর্তি করা হয় না। সামান্য সিরিয়াস রোগী হলেই তাদেরকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে রোগীরা পরেন নতুন বিরম্বনায়। সেখানে দিয়ে প্রথমেই পড়তে হয় দালালের খপ্পরে। দালালকে তিনশ থেকে পাঁচশ টাকা না দিলে ভর্তি হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। তারপর সিট পাওয়া যায় না। সিট পেতে বুয়াকে দিতে হয় দলালের সমপরিমান ঘুষ। এরপর ডাক্তার এসে রোগীর প্রথম দেখায়ই অন্তত পাঁচটি টেস্ট লিখেন যা কিনা বাইরে থেকে করিয়ে আনতে বলা হয়। হাজির থাকেন পপুলার সহ বিভিন্ন ডায়ানোষ্টিক সেন্টারের দালাল। এই টেস্টগুলিতে করাতে রোগীকে গুনতে হয় কমপক্ষে আড়াই থেকে চার হাজার টাকা। এরপর যতোবার ডাক্তার আসবে ততোবার কোনো না কোনো টেস্ট দেবেই। রোগী যদি পা^চদিন ঢাকা মেডিক্যালে থাকেন তাহলে বাহির থেকে টেস্ট করাতে এবং ওষুধ কিনতে চলে যায় অন্তত ২৫/৩০ হাজার টাকা। তারপরো মানসম্পন্ন কোনো চিকিৎসক এসে চিকিৎসা করেন না। তাই অনেক রোগীই মারা যায়। অধিকাংশ রোগীকেই রোগ না সাড়তেই রিলিজ দেয়া হয়। মূলত এভাবেই চলছে এখন ডাক্তারীর নামে টেস্ট বানিজ্য, ঘুষ আর দূর্ণীতি। সত্যিই অসহায় নারায়ণগঞ্জের রোগীরা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here