জয়দেবপুর (গাজীপুর) এর কুলাঙ্গার অপরাধীদের গডফাদার মেয়র প্রার্থী নেতা জাহাঙ্গীর যেন এক মুর্তিমান আতঙ্ক

0
1868

রাজনীতিতে এখন দুর্বৃত্তদের দাপট চলছে। একথা সকলেই জানেন। ফলে দেশের,সমাজের নেতৃত্ব যাদের হাতে থাকার কথা, রাজণীতিতে দুর্বৃত্তায়নের কারনে রাজনীতি এখন তাদের হাতে নেই। সমাজের যে সকল লোক নিজের পরিবারের চাইতেও সমাজকে বেশী সময় দেন বা সমাজের কল্যানার্থে নিজেদের জীবনকে উৎসাহিত করেন সে সকল লোক বা ব্যাক্তি এখন রাজণীতি থেকে ছিটকে পড়ছেন। তারা তাদের সততা ন্যায় নিষ্ঠার কাছে পরাজিত হচ্ছেন। কারন রাজণীতি হচ্ছে এখন ব্যবসা। কোটি টাকা বিনিয়োগের ব্যবসা। নির্বাচনের সময় এখন কোটি কোটি টাকা লেন দেন করে নির্বাচনী বৈতরনী পার হতে হয়। এ কোটি কোটি টাকা অজর্ন করা সৎ উপায়ে সম্ভব নয়। ফলে অবৈধ পথে টাকা উপার্জনকারী ব্যাক্তিরাই রাজনীতির মাঠ দখল করতে বসেছে। নীতিকথার আলোকে সৎ পরোপকারী বুদ্ধিমান ব্যাক্তি শিক্ষিত ব্যক্তিরাই সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসবেন নেতৃত্ব দেবেন এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার কিন্তু গাজিপুরের কুলাঙ্গার ঠোঙ্গা বিক্রেতা থেকে কোটিপতি, সন্ত্রাসের গডফাদার, আন্ডারগ্রাউন্ডের জুট ব্যবসার গডফাদার জাহাঙ্গীর হিসাবে পরিচিত নামধারী ছাত্রলীগ নেতার অতীত নানা অপকর্ম নিয়েই এ প্রতিবেদন।

Advertisement

অপরাধ বিচিত্রাঃ
ঠোঙ্গা বিক্রেতা থেকে কোটিপতি হিসেবেই পরিচিত জাহাঙ্গীর। আবার ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীর হিসাবেও পরিচিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে দলীয় সরকার ক্ষমতায় যখন ছিলো না তখন বিএনপির চার দলীয় জোটের ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতাধর লোকদের দালালী ও তদবির এমনকি নারী সরবরাহের মতো নিকৃষ্টতম পেশায় লিপ্ত হয়ে তাদের মন যুগিয়ে কোটি কোটি টাকার অর্থ সম্পদ ও জমির মালিক হয়েছে। তার এসকল অপকর্ম প্রচারবহুল অনেক পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করেছে। এসকল অপকর্ম ঢেকে রাখতে ফেষ্টুন ব্যানার বিলবোর্ডের পেছনেও লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। তৎকালীন জেএমবির অনেক নেতা কর্মীদের জাহাঙ্গীর অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করার খবরও পত্রপত্রিকায় এসেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বোমা তৈরির সরঞ্জামও জাহাঙ্গীর সরবরাহ করতো। এ ব্যাপারে পুলিশ তাকে আটকও করেছে বোমা তৈরীর সরঞ্জাম সহ। সে থেকে জয়দেবপুর, গাজীপুর জেএমবি নেতা হিসাবে পরিচিত ছিল। নানান ছলচাতুরতায় ছাত্রনেতাও লাগিয়েছেন নামের আগে পরে। তার নাম মুলত জাহাঙ্গীর আলম। এলাকাবাসীর কাছে তার অর্থবিত্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তার এই কোটিপতি হবার রহস্য অলৌকিক মনে হলেও খোঁজ খবর নিয়ে জয়দেবপুরবাসী থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে কোন আলাউদ্দিনের চেরাগ নয়, জুট ব্যবসা, ব্লাকমেইলিং এবং অস্ত্রবাজি করে নিরীহ মানুষের সহায় সম্বল হাতিয়ে নিয়ে প্রচুর বিত্ত ভৈববের মালিক হয়েছেন। মাত্র পাঁচ বছরে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন কিভাবে। এ প্রশ্ন এলাকাবসীর, এলাকাবাসী আরো জানিয়েছেন বিএনপির আমলে জেএমবির কাছে বিষ্ফোরক সাপ্লাইয়ের কাজ করতো জাহাঙ্গীর। এ বিষ্ফোরক নিয়ে পুলিশের হাতেও আটক হয়েছে।
ঠোঙ্গা বিক্রেতা থেকে কোটিপতি জাহাঙ্গীর এর বিষয়ে এলাকাবাসি থেকে অনেক অভিযোগ আমাদের দপ্তরে এসেছে, এ সকল অভিযোগগুলো অপরাধ বিচিত্রার পক্ষ থেকে ব্যাপক সরেজমিনে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনী। ফলে অপরাধ বিচিত্রার পক্ষ থেকে চেষ্টা করেও তার বক্তব্য গ্রহন করা সম্ভব হয়নি। তবে একবার শুধু বলেছিলেন সেল ফোনে যে তিনি সামনে মেয়র প্রার্থি হচ্ছেন তাই তিনি খুবই ব্যাস্ত রয়েছেন। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে থাকবে পরবর্তি প্রতিবেদন। এলাকার আরো কারো কাছে কোন তথ্য প্রমান থাকলে, বা ভুক্তভোগি কারোর কাছে কোন তথ্য প্রমান থাকলে তা তথ্য প্রমান সহ অপরাধ বিচিত্রা কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনৃরোধ করা যাচ্ছে। প্রয়োজনে নাম ঠিকানা গোপন রাখা হবে।
তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পত্র
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
অধ্যক্ষের কার্যালয়
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজ, গাজীপুর
স্মারক নং-ঃ ৬ ক/১(দ:)
তারিখ-১৩/৫/৯৮ ইং
প্রেরক: অধ্যক্ষ, ভাওয়াল বদরেআলম সরকারী কলেজ, গাজীপুর।
প্রাপক: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক: মাদ্রাসা রোর্ড, ঢাকা।
জনাব,
আপনার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ভাওয়াল বদরেআলম সরকারী কলেজের ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষা বর্ষের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পিতা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সম্পর্কে নিন্মবর্ণিত অভিযোগ সমূহ উত্থাপিত হইয়াছে।

১। সে ১৯৯৪ সনে লোহাবৈ
বনকুয়া উচ্চ, বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ভালুকা কেন্দু থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ৬১৭৬৩৮, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১৮৪১৭৯ সন ১৯৯২ ইং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষবোর্ড, ঢাকা। কিন্তু অভযোগ যে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সে তার মামার দোকানে নিয়মিত চাকুরীরত ছিল এবং নিজে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত না হয়ে অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে (মার্কসিটের ফটোকপি সংযুক্ত)।
২। সে ১৯৯৬ সনে কাহারোল সিনিয়র মাদ্রাসা হতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ঢাকার অধীন আলিম পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। তার পরীক্ষার রোল নম্বর খেতাব ৪৬৮৪৯, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৩০১৭৮ শিক্ষাবর্ষ ১৯৯৪-১৯৯৫। অভিযোগ যে, সে মাদ্রাসার সাথে যোগসাজস করে কেন্দ্রে অনুপস্থিত থেকে আলিম পরীক্ষা অন্যের মাধ্যমে দিয়ে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে, (মার্কসিটের ফটোকপি সংযুক্ত)। উক্ত পরীক্ষার সময়ও সে তার মামার দোকানে নিয়মিত চাকুরী করিত।
৩। সে ১৯৯৬ ইং সনে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে গাজীপুর ১ ঢাকা কেন্দ্র থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছে। তার রোল নম্বর গাজীপুর-১-নং ৩২৮৫৪৬, রেজিষ্ট্রেশন নং ০৫২২০৯/৯৪-৯৫।
৪। সে ১৯৯৭ সনে ময়মনসিংহ থেকে মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষ দিয়েছে এবং ১৯৯৮ সনে ঢাকা বোর্ডের অধীনে কোন এক কেন্দ্র থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অবত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে (তথ্য সংগৃহীত)।
এ সকল ব্যবস্থা ভাওয়াল বদরেআলম সরকারী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১ম বর্ষ মাস্টারস শ্রেণীর ছাত্র মোস্তফা কামাল (মুকুল) এর মাধ্যমে করেছে। মোস্তফা কামাল বিভিন্ন ছেলেকে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে দেয় (তথ্য সংগৃহীত)। সে এ অঞ্চলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নামে খ্যাত।
অতএব, জাহাঙ্গীর আলমের বিভিন্ন পরীক্ষার খাতা সমুহ পরষ্পর মিলিয়ে দেখে বা পরীক্ষার খাতা ও তার সিগনেচার সীটের হাতের লেখা এবং তার নিজস্ব হাতের লেখা সংগ্রহ করে তার সাথে মিলিয়ে দেখে প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করে এবং এ সকল চক্রের সাথে জড়িত বোর্ড কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
অনুলিপিঃ অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য
১। সচিব, শিক্ষামন্ত্রণালয় বাংলাদেশ, ঢাকা।
২। মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা।
৩। জেলা প্রশাসক,গাজীপুর।
৪। সংরক্ষণ নথি।
ভাওয়াল বদরেআলম সরকারী কলেজ, গাজীপুর।

এটি হলো জাহাঙ্গির এর জালিয়াতির একটি তথ্য প্রমান। পাঠক যিনি ছাত্র জীবন থেকেই জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন যিনি জীবনের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রেই শঠতার আশ্রয় নিয়ে কাজ কারবার করেন। তার কাছে কি জনগনের ক্ষমতাকে আমানত হিসেবে দেয় যায় তা এলাকার ভোটারদের ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি জুট ব্যবসায়ের জন্য অস্ত্রবাজি করেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে জনগনের জীবনকে অস্তিথীশীল করে তোলেন, তিনি মেয়র হলে যে এলাকার আইন শৃঙ্খলার আরো অবনতি ঘটবে সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তার সম্পর্কে ইতিপুর্বেও দেশের জনপ্রিয় প্রচারবহুল পত্রিকাগুলোতে অনেক লেকালেখি হয়েছে সেসব লেখায় কি চিত্র ছিল জাহাঙ্গির সম্পর্কে তা আমরা পরবর্তি প্রতিবেদন গুলোতে তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আমরা এলাকার ভুক্তভোগি, সৎ সাহসী ও জন প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করছি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here