জেনেভায় রাউন্ড টেবিল বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে হবে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ

0
1475

ঢাকা ঃ ২৮ আাষাঢ় ( ১২ জুলাই )  ঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত “ ভিশন-২০২১” সফল বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে ডিজিটাল মধ্য আয়ের বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করবে। ডিজিটাল মধ্যআয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ অনেক এগিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশকে। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩২ মিলিয়ন মানুষ এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, ইন্টারনেট ব্যবহার কারীর সংখ্যা এখন ৬৭.২৫ মিলিয়ন। এছাড়া মোবাইল ফোনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন সেবা গ্রহন করছে। মন্ত্রী বলেন, বাংরাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করছে। বাংলাদেশে এখন ই-কমার্সের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ইতোমধ্যে পাঁচশত-এর বেশি কোম্পানি অনলাইনে বাণিজ্য পরিচালনা করছে। সরকার তথ্য প্রযুক্তিকে অন্যতম রপ্তানি খাত হিসেবে চিহ্যিত করেছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সরকার যে সকল খাতকে রপ্তানিতে উৎসাহিত করছে, তার মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি অন্যতম। এটি একটি সম্ভাবনাময় আইটি সেক্টরে রপ্তানি দিন দিন বাড়ছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। দেশের বিপুল সংখ্যা শিক্ষিত ও দক্ষ যুবশক্তি এ সেক্টরে দক্ষতা ও সফলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
জেনেভায় সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী গতকাল রাতে(১১ জুলাই) এইড ফর ট্রেড গ্লোবাল রিভিউ-২০১৭ সম্মেলনের এইড ফর ট্রেড ইন এশিয়া এন্ড দ্য প্যাসিফিক ঃ প্রোমটিং কানেকটিভিটি এন্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক রাউন্ড টেবিল সেশনে বক্তব্য প্রদানের সময় এ সব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার কাজ সফল ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন কাজের টেন্ডারের ৮০ ভাগ এখন অন-লাইন টেন্ডার পদ্ধতিতে হচ্ছে। পেপার লেস অফিস ব্যবস্থাপনার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে এ ধরনের কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, অর্থ এবং কারিগরি সহযোগিতা। বিশে^ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদিত কাজের ৮০ ভাগ এখনো দেশের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ। মাত্র ২০ ভাগ আন্তঃদেশীয় ভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে উন্নয়ন সহযোগিদের এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে বর্ডার টেরিফ, লজিস্টিকস, কাস্টমার সিকিউরিটি, সাইবার নিরাপত্তা, ট্যাক্স, ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম করণ ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে আন্তর্জাতিক ভাবে উদ্যোগ নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ালে ই-কমার্স এর জনপ্রিয়তা দ্রত বৃদ্ধি করা সম্ভব। ২০০৬ সালে আইসিটি অ্যাক্ট, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথোরিটি ২০১০ করা হয়েছে, এছাড়া ২০১১ সালে আইসিটি রুল, আইসিটি পলিসি ২০১৫ করে তথ্য প্রযুক্তি খাতকে সফলতার সাথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের নলেজ ম্যানেজমেন্ট এন্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট এর ভাইস প্রেসিডেন্ট বামবাং সুসানতনো (ইধসনধহম ঝঁংধহঃড়হড়) এর সঞ্চালনায় এ রাউন্ড টেবিল বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কিরগিস্থানের মিনিস্টার অফ ইকোনমি আর্জিবেক কোঝোশিভ(অৎুুনবশ কড়ুযড়ংযবা), সামোয়ার বাণিজ্য, শিল্প ও শ্রম বিষয়ক অ্যাসোসিয়েট মিনিস্টার টুইফাআসিসিনা মিসা লিসাটি লিলিইসিইয়াও পেলিমেনি (ঞঁরভধ’অংরংরহধ গরংধ খরংধঃর খবষবরংরঁধড় চধষবসবহব) এবং বিশ^বাণিজ্য সংস্থায় স্থায়ী প্রতিনিধি মিজ টান ই ওয়ান (গং ঞঅঘ ণবব ডড়ধহ)।
(মো. আব্দুল লতিফ বকসী)

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here