ইয়াকুব নবী ইমন: এক সময় জমিদারী প্রথা ছিলো, ছিলো জমিদারদের প্রতাপ। এখন জমিদারি প্রথা নেই আছে জমিদারদের রেখে যাওয়া ম্মৃতি-চিহৃ। নোয়াখালী ও ফেনীর সীমান্তবর্তী এমনি একটি জমিদার বাড়ির সন্ধান মিলেছে যার নাম প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এই জমিদার বাড়িটি জরাজির্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংস্কারের অভাবে জমিদার বাড়িটির চারদিকে লতা পাতায় ঢেকে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ভূতুড়ে পরিবেশ। ভবনগুলো কিছু অংশ ধসে পড়েছে। কোন তদারকি না থাকায় মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এই জমিদার বাড়িটি। সরেজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আনুমানিক ১৮৫০ সালে তখনকার জমিদার রাজকৃষ্ণ সাহা ও রামনাথ সাহা প্রায় ১৩ একর জায়গা জুড়ে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। বাড়িটিতে ১০টি ভবন ও ১৩টি পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি পুকুর পাকা ঘাট বাঁধানো। স্থানীয়দের কাছে এটি প্রতাপপুর বড় বাড়ি হিসেবে পরিচিত। এই এলাকার আশেপাশে যত জমিদার ছিল সবার শীর্ষে ছিল এই জমিদার পরিবার।
জমিদারের বংশধররা জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরও ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এই বাড়িতে অবস্থান করেছিল। জমিদার বাড়িটির বংশধরদের কিছু লোক এখনো ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বসবাস করছেন বলে স্থানীয়রা জানায়। বাড়িটি এখনো জমিদার বংশধরদের মালিকানাধীন রয়েছে। ১৯৯৬ সালের একদল দূর্বৃত্ত জমিদার বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে বাসিন্ধাদের লাঞ্চিত করে। এর পর থেকে প্রায় সব সময় চুরি, ডাকাতি, লুটপাট ও হামলার কারণে জমিদারের বংশধররা বাড়ি-ঘর ফেলে অন্যত্র চলে যায়। তখন থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপর রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে ভবনগুলোতে শেওড়া জমে যায়। ভবনে জম্মেছে ছোট বড় আগাছা। অনেকে দিনের বেলায়ও বাড়ির ভেতরে যেতে ভয় পায়। এলাকাবাসী জানান, জমিদার বাড়িটি প্রতাপপুরের ঐতিহ্য। এখানকার আশে পাশে তেমন কোথাও দর্শনীয় স্থান না থাকায় প্রাচীন এই বাড়িটি এক নজর দেখতে এখনো বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্দর্যপিপাসু পর্যটকরা ছুটে আসেন। সরকারি ও বেসরকারি কোনো ধরনের তদারকি না করায় পাশ্ববর্তী বহিরাগত বখাটে, মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের অপকর্ম ও ছিনতাইয়ের কারণে আগত পর্যটনরা বিব্রত অবস্থায় পড়েন। বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আড্ডার কারণে এলাকার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্ধা আবদুল মজিদ জানান, অনেকে বাড়িটি দেখতে আসলেও হতাশ হয়ে ফিরে যান। এখানে কোন টয়লেট নেই, ভেরতে আলোর ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া পর্যটকরা চুরি-ছিনতাইয়ের শিকার হয়। মাদকবেসীদের উৎপাতে বাড়ির ভেতরে আগতরা ঠিক মতো অবস্থান করতে পারেননা। ফলে আমরাও মাঝে মধ্যে বেকায়দায় পড়ি। তাই স্থানীয়রা মনে করেন, জমিদার বাড়িটি সরকারি বা বেসরকারি ভাবে তদারকির আওতায় এনে পুনরায় সংস্কার করে একটি সুন্দর পর্যটন এলাকা ঘোষনা করা সম্ভব। এখন কর্তৃপক্ষের স্বদিচ্ছায় এটি বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করে এলাকাবাসী।
সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শতরুপা তালকদার জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। সময় করে একদিন যাবো। জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে কোন কাজে লাগানো যায় কিনা দেখবো। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

