জমজমাট প্রদর্শনী হরেক রকম পশু-পাখির

0
2443

স্টলে স্টলে বাহারি রঙের দেশি বিদেশি পাখি, কবুতর, টার্কি মুরগি এবং নানা জাতীয় পোষা প্রাণী। এসব প্রাণীর সাথে দারুণ মিতালীতে দিন পার করেছে পশু–পাখি প্রেমীরা। কেউ আবার পছন্দের পাখি কিনে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন। গতকাল নগরীর লালদীঘি মাঠে সকাল থেকে বিভাগীয় ও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় পাঁচদিব্যাপী ‘প্রাণী সেবা সপ্তাহ–২০১৮’ এর প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনীতে এই চিত্র দেখা গেছে।

Advertisement

প্রদর্শনীতে সবেচেয়ে বেশি ভিড় ছিল চিটাগাং বার্ড ব্রিডার্স এসোসিয়েশনের স্টলের সামনে। এসময় স্টল মালিকদের কাছে দর্শনার্থীরা পাখি সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। মালিকরাও হাসিমুখে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এছাড়া অভিভাবকদের তাদের শিশু সন্তানদেরকে বিভিন্ন পশু পাখির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেও দেখা গেছে। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এসব পশু পাখির সামনে সেলফি তুলে ও হৈ হুল্লুড় করে সময় কাটান। স্টলের সামনে কথা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রেহনুমা তাসমিয়া নিম্মির সাথে। তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে ঘুরতে এসেছি। স্টলের মালিকরা যেসব পাখি নিয়ে এসেছেন, অনেকগুলোর সাথে পরিচিত নই। দেখে খুবই ভালো লাগছে। তবে দাম খুবই বেশি, ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকলে একটা কেনার ইচ্ছে ছিলো। তার সাথে আসা হালিশহরের উর্মিলা দাশ বলেন, পাখি আমার খুব প্রিয়। এখানে মূলত বিভিন্ন ধরনের পশু পাখির সাথে পরিচিত হতে এসেছি। কারণ নগর জীবন যান্ত্রিকতায় ভরা। এই ধরনের প্রদর্শনী ছাড়া এক সাথে এত বিশাল পরিমাণ পাখপাখালির দেখা মেলে না সাধারণত। এছাড়া পাখির বিভিন্ন কিচিরমিচির ডাকও খুব উপভোগ করছি। ছয় বছরের মেয়ে সানজানা ইকরাকে নিয়ে প্রদর্শনীতে এসেছেন তার মা। তিনি জানান, মেয়েকে পশু পাখি দেখাতে নিয়ে এলাম। শুনলাম এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর পাখি এসেছে। জানতে চাইলে চিটাগাং বার্ড ব্রিডার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন বলেন, আমাদের সংগঠনটি গত ২০১২ সালে ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ হিসেবে যাত্রা করে। এখন পর্যন্ত আমাদের গ্রুপে ৬০ হাজারের অধিক সদস্য রয়েছে। চট্টগ্রামে পাখি পালকদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি করা ও তরুণ সমাজকে পাখি পালনে উৎসাহিত করাটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রদর্শনীতে অস্ট্রেলিয়ার বাজেরীগার, সাদা ঘুঘু, ককাটিয়েল, ফিঞ্চ, লরিকেট, ওয়েস্টার্ন রোজেলা, ব্লু ক্রাউন, আফ্রিকার লাভবার্ড, সান কুনুর, ইন্দোনেশিয়ার জাভা, রিঙ্গেন প্যারট ও ম্যাকাউ পাখি এনেছি। এসব পাখি প্রতিটি কিনতে গুনতে হবে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া প্রদর্শনীতে বাহারি রকমের কবুতর নিয়ে এসেছেন আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, আমি শখের বশে এসব কবুতর লালন পালন করি। আমার সংগ্রহে আছে আফ্রিকার গ্রে, নিকোবার, গ্লোভেন ফেজান, ওয়েস্টার্ন ক্রাউন, বোকারা, রেড কিং, ব্লু পোসারিয়ান। দর্শনাথীরা এসব কবুতর ঘুরে ঘুরে দেখছে এতেই আমি তৃপ্তি পাচ্ছি। আমার এসব কবুতর বিক্রির জন্য নয়। অন্যদিকে তিতির পাখি নিয়ে এসেছেন খামারি এসএম কাউছার। তিনি বলেন, তিতির পাখি আমাদের দেশে চায়না মুরগি নামে পরিচিত। এটি সাধারণত কালো, বাদামি ও মেটো রঙের হয়ে থাকে। তিতিরের খাদ্য তালিকায় রয়েছে বীজ, শস্যদানা, কচিকাণ্ড, ফল ও পোকামাকড়। তিতিরের খাদ্য খরচ ব্রয়লার কিংবা দেশি মুরগির তুলনায় কম হওয়ায় পাখিটির বাণিজ্যিক পালনে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন খামারীরা। ৪ মাস বয়সী প্রতিটি তিতিরের দাম পড়বে ১ হাজার টাকা এবং ডিম পাড়া তিতির কিনতে গেলে গুনতে হবে ১ হাজার ২০০ টাকা। উত্তর কাট্টলীর খামারী নুরুল হক জানান, দেশে বর্তমানে টার্কি মুরগি পালন দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই ধরণের মুরগি ঘাস, লতাপাতা, শাকসবজি, পোকামাকড় খায়। তাই এই মুরগি প্রতিপালনে খরচ কম। এসব টার্কি মুরগি প্রতিটি কেনা যাবে কেজি সাড়ে চারশ থেকে পাঁচশত টাকায়। প্রদর্শনীতে ঘুরতে আসা দামপাড়ার বাসিন্দা এমএম ইলিয়াছ উদ্দিন জানান, খামারিরা টার্কি মুরগির দাম অনেক বেশি হাঁকাচ্ছেন। প্রতিটি মুরগির দাম পড়ছে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এতো বেশি টাকা দিয়ে আসলে এই মুরগি কিনে লালন পালন করা সম্ভব নয়। অপরদিকে প্রদশীর্নতে ছাদ বাগান বিষয়ে দর্শনার্থীদের ধারণা দিচ্ছে ফেসবুক ভিত্তিক একটি অনলাইন গ্রুপ। গ্রুপটির অন্যতম অ্যাডমিন জিয়াউল বারী বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিটি বাড়ির ছাদ, বারান্দা ও আঙিনাতে সবুজের সমারোহে ভরে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা ফেসবুক গ্রুপটি খুলেছি। ইতোমধ্যে পুরো চট্টগ্রামব্যাপী বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে ঘোড়া, অস্ট্রেলিয়ান দুধের গাভী, ব্রাহমা ও ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়, ছাগল ভেড়া, কুকুর–বিড়াল, খরগোশের বাচ্চা, হকের রকমের পাখি, কবুতর, পোল্ট্রি খামার স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও ফুড কর্নারসহ মোট ৪৫টি স্টল অংশগ্রহণ করেছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here