নাস্তা করে বাদ মাগরিবের পর ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সী নুরুল আজিম। ফেরার কথা ছিল ঘন্টাখানেক পর। তবে পথিমধ্যেই কিশোরগ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে না ফেরার দেশে পারি জমাতে হলো তাকে। আজিমকে হারিয়ে তাই এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার স্বজনরা। তারা যেন কিছুতেই মানতে পারছেন না তাদের আজিম এই পৃথিবীতে আর নেই। আর তাইতো ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আজিমের মায়ের এই আর্তনাদ।
সোমবার (৩রা জুন) রাত ৯ টায় নগরীর চৌমুহনীর চারিয়া পাড়া এলাকায় কিশোরগ্যাং সদস্যদের হাতে খুন হয় নুরুল আজিম নামক ঐ কিশোর। ছিনতাইয়ের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীসহ তার সহকর্মীদের।
ঘড়িতে সময় তখন রাত ৯টা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন যুবক আজিমকে নিয়ে টানাটানি করছে। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
পুলিশ জানায়, একটি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই মারামারি। এ ঘটনায় ঐ কিশোরগ্যাংয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন সদস্য ছিল। ইতোমধ্যেই রনি, নয়ন, মামুন নামক তিনজনকে আটক করেছে তারা।

নিহত নুরুল আজিম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিশের বন্দর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। তারা দুই ভাই ও তিন বোন। পেশায় সে একজন জাহাজের কর্মচারী। ভাইদের মধ্যে বড় হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সংসারের ভরণপোষণ যোগাত সে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডবলমুরিং থানার ওসি ফজলুল কাদের পাটোয়ারী বলেন, সোমবার রাত ৯টায় চারিয়া পাড়ায় একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় আমরা হত্যার সাথে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করি।
এদিকে খুনের ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। আজিমের খুনীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবী জানিয়েছেন তার পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীরা।

