স্টাফ রিপোর্টারঃ
নোয়াখালী জেলার চাটখিলের আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। এখানে প্রতিনিয়ত সংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ১ পৌরসভা ও ৯ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চাটখিলের ২০টির অধিকাংশ স্থানে অবাধে চলছে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা, থানায় হত্যা মামলাসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলা গ্রহন না করা, থানায় না থেকে বাজারের দোকানে দোকানে আড্ডা দেওয়াসহ অনেক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে জানা গেছে এখানে গত ৩ নভেম্বর ঘাসীপুর পাটোয়ারী বাড়িতে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে হত্যা করে, ১০ অক্টোম্বর শ্বশুর বাড়িতে ফতেপুর গ্রামের প্রবাসী ওমর ফারুক শিপনের স্ত্রী সাহানাজ আক্তার তপুকে হত্যা করে। শারমিন আক্তার গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা খেছে। এই দুইটি হত্যা মামলা এজাহার ভুক্ত করা হয়নি। তপু হত্যার মামলা গ্রহনের জন্য শতাধিক মহিলা ওসিকে তার নিজ কক্ষ অবরোধ করে রাখার ঘটনা ঘঠেছে। ৮ সেপ্টেম্বর ধন্যপুর এলাকায় খাল থেকে নিখোঁজের ১ দিন পর লাশ উদ্ধার করা হয় খলিলুর রহমানের। গত কয় মাসে পুলিশের নিকট বিচার না পেয়ে ১০টির ও বেশী অভিযোগ আদালতে দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা। ২ নভেম্বর পৌরসভার সুন্দরপুর গ্রামের ওজিবাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফার বাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরন ও হামলা চালায় ১ দল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় জনতা লিটন নামে ১ সন্ত্রাসীকে ককটেলের আলামত সহ থানা পুলিশে দিলেও ২ ঘন্টা পর সন্ত্রাসী লিটনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৯ অক্টোবর চাটখিল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষনের ঘটনায় মামলা দায়ের হলে ৩দিন পর তা রেকর্ডভূক্ত হয়। এ ঘটনায় জনতা ওমর ফারুককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলে ওসি ফারুককে রক্ষা করতে প্রথমত এটি অস্বীকার করেন এবং এ ঘটনা ধামাছাপা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম উদ্দিন তার অধিনস্থদের সাথে দূর ব্যবহার এবং থানায় ডিউটি না করে চাটখিল বাজারে কয়েকটি দোকানে দোকান সহ বিভিন্ন স্থানে আড্ডা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এখানে দায়িত্ব পালন কালে যে কয়েকটি হত্যা, ডাকাতিসহ চাঞ্চল্যকর ঘটনা সংগঠিত হয়েছে এসবের অধিকাংশ মামলাই পিআইবি, সিআইডি, ডিবিতে হস্তান্তর হয়েছে। এতে থানা পুলিশের দায়িত্ব পালন প্রশ্নের সম্মূখীন হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং এর সমাবেশের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজী এবং এর একটি কমিটি থাকলেও তিনি এককভাবে কমিটিকে উপেক্ষা করে খরচ করেছেন। কমিটিকে কোন হিসাব দেন নাই। চাটখিলের অর্থশালী, চাটখিলের বাহিরে ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী ভিত্তশালীদের নিকট থেকে চাঁদা নিয়ে তার রুম সুসজ্জিত করণসহ গত ২ বছর যাবত থানার সংস্কারের কাজ তিনি বিভিন্ন কাজ করে আসছেন, এর কোন হিসেব নাই। ওসি নাছিম উদ্দিন এর বিরুদ্ধে অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। মাদক ও ইয়াবা ব্যবসায়ী যানবাহন সহ বিভিন্নস্থান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় হচ্ছে। প্রতি মাসে ৯/১০ লাখ টাকা এভাবে চাঁদাবাজী করে চলেছে। এখানে মাদক ও ইয়াবার জমজমাট ব্যবসা চললেও থানা পুলিশ এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মাঝে মধ্যে জেলা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগন বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে। চাটখিলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া আসামীদের সাথে তার চলাফেরা ও গ্রেফতার না করার অভিযোগ ছাড়াও প্রতিনিয়ত থানায় এবং থানা পুলিশের সাথে চলাচল ও দালালি করতে দেখা যায়। ওসি নাছিম উদ্দিন দীর্ঘদিন এখানে কর্মরত থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিনদিন বেড়েই চলেছে। তার এসব কর্মকান্ডে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং পুলিশের উপর জনগনের আস্থা হারাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেক অভিযোগ রয়েছে। ওসি নাছিম উদ্দিন জানান এখানে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
