চাঁদা না দেয়ায় সংখ্যালঘু পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার ছেলের বিরুদ্ধে

0
537

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালীর বাউফলে স্বর্ন ব্যবসায়ী গোপাল কর্মকারের কাছ থেকে দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দিয়েছে বাউফল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার এবং তার ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহামুদ হাসান। প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধের পর বছর ঘুরে গেলেও উদ্ধার করতে পারেনি ভুক্তভোগীরা। উপরন্তু ঘটনার পর থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে গোপাল ও তার পরিবার। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তো দুরের কথা, স্থানীয় সাংসদসহ গন্যমান্যরাও অসহায় ওই বাপ-ছেলের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কাছে। কোন উপায়ান্ত না পেয়ে শনিবার সকালে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী গোপাল কর্মকার। ভুক্তভোগীর অভিযোগ-বাউফল উপজেলার বগা বন্দরে ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তার মালিকানা সম্পত্তিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উঠিয়ে র্দীঘ ১৪ বছর স্বর্নের ব্যবসা করে আসছেন গোপাল কর্মকার। ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার ও  তার ছেলে মাহামুদ হাসানের নেতৃত্বে জসিম মুন্সি, মালেক মুন্সি,সবুজ মুন্সি গং বাসায় ঢুকে হামলা চালিয়ে নগদ ৬ লক্ষ টাকা দাবী করে গোপালের কাছে। দাবীকৃত অর্থ না দিলে সম্পত্তি ওই আওয়ামীলীগ নেতার নামে দলিল দিয়ে ভারতে চলে যেতে হুমকী দেয়া হয়।

Advertisement

এঘটনার পর গোপাল কর্মকার ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে স্থানীয় জনৈক আব্দুল মালেক খানের কাছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভিত্তিক ভাড়া দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। এঘটনার পর ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারী প্রভাবশালী পিতা-পুত্র ভাড়াটিয়া মালেক খানকে ঘর থেকে জোরপূর্বক বের করে প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুট করে তালা লাগিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী গোপাল কর্মকার ও তার পরিবার প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে আইনী সহায়তা চাইলেও কোন প্রতিকার পায়নি। এঘটনায় একাধিকবার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে সহায়তা চাওয়া হলেও থানা পুলিশ ছিল উদাসিন। সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর ভুক্তভোগী গোপাল তার শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার পথে আওয়ামী নেতা ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে গোপালকে পাকরাও করে ওই আওয়ামীলীগ নেতার

¯েœহধন্য মালেক মুন্সির বাড়ীতে গোপালকে অবরুদ্ধ করে পরিবারের কাছ থেকে অলিখিত চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এর পূর্বে গত বছরের ১৭ মার্চ উপজেলা পরিষদ কক্ষে ভুক্তভোগীদের উপস্থিতি এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় পটুয়াখালী-০২ বাউফলের সাংসদ আ.স.ম ফিরোজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াসের সভাপতি রবীন্দ্র ঘোষসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের

নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদারের সাথে বিষয়টি সমধানের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়। এ প্রসঙ্গে সাংসদ আ.স.ম ফিরোজ সাংবাদিকদের জানান, গোপাল আমার কাছে একাধিবার এসেছিল। বিষয়টি কেন যে সমাধান হলোনা আমি বোধগম্য নই।

সর্বশেষ সম্প্রতি গোপাল কর্মকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দিতে বলেন।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মোতালেব হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, আমি ও আমার ছেলে এ ঘটনার সাথে জড়িত না। গোপালের কাছে এলাকার লোকজন ও ব্যাংক বহু টাকা পায়, তারাই তালা মারছে। গোপাল যদি লোকজনের টাকা দিয়ে দেয়, দোকান খুলে ব্যবসা করতে আমরা সহযোগীতা করবো।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here