অবি ডেস্কঃ চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মুরগি চুরির অভিযোগে রুবেল নামে এক কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ইউপি মেম্বার ও যুবলীগ নেতা আমজাদের বিরুদ্ধে।
দুই মাস আগের এ ঘটনার ফুটেজ ও ছবি কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। নির্যাতনে পঙ্গুপ্রায় রুবেলের মা বিলকিস বেগমকে থানায় ডেকে নিয়ে শশীভূষণ থানার ওসি মনিরুজ্জামান ঘটনার বিবরণ শুনে হতবাক হন। পরে তিনি মামলা নেন। মামলায় আমজাদসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওসি জানান, ঘটনা শুনে তিনি হতবাক হন। মামলা নেয়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। টের পেয়ে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আমজাদ গা ঢাকা দিয়েছেন।
বিলকিছ বেগম জানান, তার ছেলে রুবেল জেলে নৌকার বাবুর্চি হিসেব রান্নার কাজ করত। ঘটনার আগের দিন বনভোজন করার জন্য কয়েকজন মিলে টাকা দিয়ে মুরগি কিনে আনে। ওই মুরগি চুরি করে আনা হয়েছে- এমন অভিযোগ এনে রুবেলকে স্থানীয় মেম্বার ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আমজাদ হাজারীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নিয়ে গ্রামবাসীর সামনে মারধর করে।
রুবেলের বাম পায়ের সঙ্গে ডানহাত এবং ডান পায়ের সঙ্গে বাম পা বেঁধে পেটানো হয়। জ্বলন্ত চুলার লাকড়ি দিয়ে তার শরীরে ছ্যাঁকা দেয়া হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান মা বিলকিছ বেগম। ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদারের মাধ্যমে নির্যাতনকারী মেম্বারকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন। নিজের নাকফুল ও গলার চেইন বন্ধক রেখে ৫ হাজার টাকা জোগাড় করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মেম্বার আমজাদ জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি মুরগি চুরির কঠিন বিচার করেছেন। একটু-আধটু মারধর না করলে তো বিচার হয় না।
ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হাওলাদার জানান, ঘটনা প্রসেঙ্গ তিনি কিছুই জানতেন না। নির্যাতনের পর রুবেলের মা তাকে বিষয়টি জানান।

