এম.রিদওয়ানুল করিম, চট্টগ্রাম ঃ নগরীর বহদ্দারহাটে পত্রিকা হকারের দোকান উচ্ছেদ করার কারণে অর্থ অভাবে তিন পত্রিকা হকার বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পুলিশ কমিশনার মোঃ ইকবাল বাহার নতুন বছরের প্রথম দিকে নগরীর সবগুলো সড়ক ও ফুটপাত হকারমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এমন নির্দেশনার পর গত ২ জানুয়ারী বেলা ২ ঘটিকার সময় নগরীর বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সড়ক থেকে পুলিশ হকারদের তাড়িয়ে ফুটপাত মুক্ত করে। প্রাথমিক ভাবে সড়কগুলো অবৈধ দোকানপাট ও হকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় পুলিশ কমিশনার জনসাধারণের প্রশংসার দাবীদার। প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সর্বস্থরের জনগণ। গত দুই তিন দিন ধরে পুলিশের টানা অভিযানে নগরীর বেশিরভাগ সড়ক দখলমুক্ত হয়েছ্।ে এরই ধারাবাহিকতায় বহদ্দারহাটেও বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাটও হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে মোটামুটি শৃঙ্খলা ফিরে এসছে। অবৈধ দোকানপাট ও হকারদের উচ্ছেদকালে বহদ্দারহাট মোড়ে হোটেল কাশবনের সামনে হকার সন্তুষ দাশের পত্রিকার দোকান ও সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের সামনে লিটন দে পরিচালিত পত্রিকার দোকান এবং বহদ্দার হাট জামে মসজিদের সামনের পত্রিকার দোকান গুলোও একইভাবে পুলিশের অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে। পত্রিকার দোকানগুলো উচ্ছেদ করার কারণে বর্তমানে এ তিনজন হকার কোথাও কোন জায়গায় সংবাদপত্র বিক্রি করতে পারছে না। ফলে অর্থের অভাবে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ বহন করতে পারছে না। এক এক জনের পরিবারে পত্রিকা বিক্রির টাকা দিয়ে অন্তত ১০ জনের খরচ চলে। গত ২০১৫ সালেও পুলিশ কমিশনার তাদের পত্রিকার দ্কোানগুলোা উচ্ছেদ করেছিল। ওই সময় হকারদের দাবীর প্রেক্ষিতে জাতীয় সংবাদপত্র শ্রমিকলীগ ও জাতীয় সংবাদপত্র বিক্রেতালীগের সদস্যভুক্ত ৪৪ জন হকারকে পত্রিকা বিক্রি করার অনুমোদন দিয়েছিল তৎ সময়ের পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল। পত্রিকার হকার সন্তোষ দাশ জানান আমার পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালাতে হয়। আর কোন আয় করার পথ না থাকায় বর্তমানে দোকান উচ্ছেদ করার করাণে পরিবার পরিজন নিয়ে অভাবে মানবেতর দিন যাপন করছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলের ফি দিতে পারছি না। আমরা যারা পত্রিকা বিক্রি করি তাদের জন্য একটা কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভাল হবে। বহদ্দার হাটের হকার নেতা শাহাদাৎ হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান সুবিধামত স্থানে কারো যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেদিক বিবেচনা করে পত্রিকা বিক্রি করার সুযোগ দেওয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। তিনি দ্রুত সময়ে পত্রিকার হকারদের জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সিএমপি পুলিশ কমিশনারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
