স্টাফ রিপোর্টার: সন্ত্রাসীদের তান্ডবে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের বায়োজিদ এলাকার লোকজন। ছিনতাইকারী জি.এস আমিনুল ইসলাম করিম এখন এক মূর্তিমান আতঙ্ক। তার রয়েছে বিশাল ক্যাডার বাহিনী। ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, ভূমিদস্যুতা, অস্ত্র ব্যবসা, জমি দখল, পাহাড়ের কাঠ পাচার, মাদক চোরাচালান ও অপহরণ সহ সব ধরণের অপকর্মেই এই বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি জড়িত। গ্রেপ্তার হলে কিছুদিনের মধ্যেই আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে অগ্নিমূর্তি ধারণ করে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
এই কারনে কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেনা। আমিনুল বায়োজিদ বোস্তামী থানার শহিদনগর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। চুরি ও দিনে দুপুরে ছিনতাইয়ের ঘটনা দিয়ে অপরাধ জীবনের শুরু হলেও এখন সে পুরোদস্তুর মাদক ব্যবসায়ী ও ভুমিদস্যুূ হিসেবে পরিচিত। ২০১৬ সালে প্রকাশ্য দিবালোকে কাচাঁ চামড়ার ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে ছিনতাই করে পুলিশের ভয়ে দীর্ঘদিন সীতাকুন্ডের সলিমপুরে আত্মগোপনে বসবাস করার সুবাদে চট্টগ্রামে গড়ে তুলেন বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এই বাহিনী দিয়ে এলাকায় কায়েম করেন ত্রাসের রাজত্ব। তার সহযোগিদের অনতম সেন্টু ও বেল্লাল।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের বায়োজিত থানাধীন আতুরার ডিপো এলাকায় কাচাঁ চামড়ার আড়ৎদার রুবেল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও স্যামসাং ব্রান্ডের একটি দামী মোবাইল সেট লুটে নেয় চিহ্নিত ছিনতাইকারী জি.এস আমিনুল ইসলাম করিম ও তার দলবল। এই ঘটনায় রুবেলের ভাই জনি বাদী হয়ে বায়োজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করে। কিন্তু পুলিশ গ্রেপ্তার করার আগেই পালিয়ে যায় সিতাকুন্ডে। মামলা সুত্রে জানা গেছে, রুবেল ১৮ ফেব্রুয়ারী-২০১৬ ব্যবসার কাজে সেরে বাড়ী ফেরার পথে আতুরার ডিপো হোটেল বার আউলিয়া নমক স্থানে পৌছানোর পর আমিনুল তার ১০/১২ জনে সংঘবদ্ধ গ্রুপ নিয়ে তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা এসময় রুবেলকে ধারালো কিরিচ দিয়ে এলোপাথালী কুপিয়ে জখম করে নগদ ৩৫ হাজার টাকা ও একটি দামী মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। মামলা হলেও দীর্ঘদিন সে পালিয়ে থেকে তার বাহিনীর সদস্য বাড়াতে থাকে।
আমিনুল বাহিনীর ক্যাডাররা একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। বেশ কয়েকটি মামলা চলমান এবং কিছু মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও পাহাড়ের কাঠ পাচার অস্ত্র চোরাচালান সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এসব অভিযোগে ২৫/৩০টি মামলা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ সব অপকর্ম করে জিরো থেকে অল্প সময়ে সে কোটিপতি বনে গেছে। ডজন খানেক সিএনজি, একাধিক দোকান ঘর, রয়েছে একাধিক প্লট। তার তান্ডবে এলাকায় মানুষজন শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না। আমিনুলের অনতম সহযোগি অপর সন্ত্রাসীরা হচ্ছে সেন্টু ও বেল্লাল । স্থানীয়ভাবে সেন্টু বর্ণচোরা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা ধর্ষণ, অপহরণ সহ বেশ কয়েকটি মামলা। এর মধ্যে একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত। আমিনুলের ডানহাত হিসেবে সে অপরাধ সা¤্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করে। বেল্লার শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিল। বেল্লাল আমিনুলের হয়ে চাঁদা আদায় করে। এদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, দস্যুতা, গুম, অপহরণ, অস্ত্র চোরাচালান, পাহাড়ি কাঠ পাচার, সরকারি ও মালিকানা ভূমি দখলের অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। পাহাড় ও পাহাড়ের গাছ কেটে পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
সুত্র জানায়, চট্টগ্রামে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা পাচারকারী সিন্ডিকেটের অন্যতম জি.এস আমিনুল করিম। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান পাচার করে আমিনুলের সহযোগি জুয়েল ও সেন্টু। বায়োজিদ থেকে জুয়েলকে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ইয়াবা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর আমিনুলের সহযোগিতায় আবারো ইয়াবা ব্যবসা চাালিয়ে আসছে জুয়েল। এছাড়াও আরো কিছু ইয়াবা পাচারকারী জামিনে ছাড়া পেয়ে বিভিন্ন সংস্থার সোর্স হিসেবে নিযুক্ত হয়ে গোপনে ইয়াবা পাচারে যুক্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যদের হাতে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়েছে এক আমিনুলের অপর এক পাচারকারী। এই পাচারকারী পেটের ভেতরে করে ইয়াবা পাচার করছিল। পলিথিনে মুড়িয়ে কালো স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ইয়াবা তার পেটের ভেতরে এক্সরে মেশিনে ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকরা সেগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোনো পাচারকারী যদি জামিনে থাকা অবস্থায় পুনরায় ধরা পড়ে তাহলে তার আগের জামিন বাতিল হবে। নতুন মামলাতেও তার আর জামিন হবে না। বর্তমানে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও সরকারের কঠোর আইনের মুখে পাচারকারীরা কোনঠাসা। ইয়াবা পাচারের পরিমাণও অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, গত দুই আড়াই বছরে বায়োজিদ বোস্তামী থেকেক শুধু ইয়াবা পাচারকারীদের নয়, মূল হোঁতাদেরও খুঁজে খুঁজে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

