মাধবী ইয়াসমিন রুমা ঃ চট্টগ্রামের ভুয়া বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বার্থের কাছে আপন-পর বলে কোনো ভেদাভেদ নেই। জানা গেছে, মহিউদ্দিন চৌধুরী জেলার আন্দরকিল্লা এলাকার সেলিম চৌধুরীর সাথে প্রতারণা ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে ক্ষ্যান্ত হয়নি। তথ্যমতে প্রকাশ, মহিউদ্দিন চৌধুরী তার আপন ছোট বোন মনোয়ারা ও তার স্বামী মঞ্জুর কবীর চৌধুরীর সাথেও প্রতারণা করে ১৩ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নিয়ে পকেটস্থ করেছেন। পরে বোন মনোয়ারা আইনের স্মরনাপন্ন হলে এবং অবস্থা বেগতিক দেখে সুচতুর মহিউদ্দিন চৌধুরী বিগত ২০০৯ সালের ৯ আগষ্ট ১০ লক্ষ টাকার চেক তার বোন মনোয়ারার কাছে দিয়ে আসেন। পরের দিন ১০ আগষ্ট মনোয়ারা স্বামী মঞ্জুর কবীর চৌধুরী চেক ব্যাংকে জমা দিলে চেক ডিজওনার হয়। চেক ডিজওনারের কথা জানতে পেরে মহিউদ্দিন চৌধুরী ১১ আগষ্ট থানায় জিডি করেন এবং ব্যাংক ষ্টেটম্যান্টের আবেদন করেন। সেই সাথে মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে তার আপন ছোট বোনের স্বামী মঞ্জুর কবীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানব পাচার ও চেক চুরির মামলা করেন।
উভয়ের মামলার প্রেক্ষিতে শুনানীর পর বিজ্ঞ আদালত বিগত ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল মামলা ২টি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা শাখায় প্রেরণ করে। পরে যথাযথভাবে তদন্তের জন্য এস.আই জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরেজমিনে ও উভয় মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এস.আই জসিম উদ্দিন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্ত ও স্বাক্ষ্যপ্রমাণ এবং ব্যাংক ষ্টেটম্যান্ট, চেকের মুড়ি বই ও ডিপোজিট সিøপ পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, বিবাদী মঞ্জুর কবীর চৌধুরী বাদী মহিউদ্দিন চৌধুরীর আপন ছোট বোনের স্বামী। মঞ্জুর কবীর চৌধুরী দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর আবুধাবীতে একটি কোম্পানীতে কর্মরত ছিলেন। বাদী মহিউদ্দিন চৌধুরী বিবাদী মঞ্জুর কবীর চৌধুরীর স্ত্রীর বড় ভাই হওয়ায় এবং ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়ায় মঞ্জুর কবীর চৌধুরী তার ব্যাংক এশিয়া লিঃ সিডিএ এভিন্যু জিইপি মোড় শাখার এসওডি একাউন্ট নং-০১৮৩৩০০০৩৯২ হতে কি ব্রাড ডিপোজিটের ভিত্তিতে লোন নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চেক বই সই করে দিয়ে যেতো। কথা ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরী উক্ত লোনের সুদসহ পরিশোধ করে দিবে। এভাবে বিগত কয়েক মাস বাদী মহিউদ্দিন চৌধুরী টাকা উঠানো এবং জমা দেওয়ার মাসিক ব্যাংক ষ্টেটম্যান্ট সুদেও হিসাব হাতে লিখে মঞ্জুর কবীর চৌধুরীকে দিতো। উত্থাপিত ব্যাংক ষ্টেটম্যান্ট ও চেকের মুড়ি দেখে প্রতিয়মান হয় যে, টাকা উঠানো এবং জমা দেওয়ার মধ্যে বাদী মহিউদ্দিন চৌধুরী বিবাদীর ১৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৮শ’ টাকা আটকায়ে দেয়। এ কারণে শালা ও ভগ্নিপতির মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। পাওনা টাকা চাইতে মঞ্জুর কবীর চৌধুরী বাদী মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যায়। এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে মহিউদ্দিন চৌধুরী বিগত ২০০৯ সালের ৯ আগষ্ট ১০ লক্ষ টাকার চেক তার বোন মনোয়ারার কাছে দিয়ে আসে। পরের দিন ১০ আগষ্ট মঞ্জুর কবীর চৌধুরী চেক ব্যাংকে জমা দিলে চেক ডিজওনার হয়। চেক ডিজওনারের কথা জানতে পেরে মহিউদ্দিন চৌধুরী ১১ আগষ্ট থানায় জিডি করেন এবং ব্যাংক ষ্টেটম্যান্টের আবেদন করেন। বাদীর উত্থাপিত স্বাক্ষী আনিছুর রহমান চৌধুরী, শামীমা আক্তার, রোকেয়া বেগম ও নাসরিন সুলতানা বিবাদী কর্তৃক চেক চুরি হয়েছে বললেও কোথা থেকে এবং কত তারিখে চুরি হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বলতে পারেনি। বাদীসহ বাদীর আনিত স্বাক্ষী আবুল খায়ের মোঃ বাকের এবং সহিদুল ইসলাম চৌধুরী গনকে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে ষ্ট্যাম্পের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে বললেও বাদী মূল ষ্ট্যাম্পটি দেখাতে পারেনি। এমনকি স্বাক্ষীগণ জানান চেক চুরির বিষয়টি বাদী মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে শুনেছে। অপরদিকে অন্যান্য স্বাক্ষীগণ বিবাদী মঞ্জুর কবীর চৌধুরী তার ১৫ বছর বিদেশ চাকুরী করা কালে কোনো লোককে বিদেশ নিয়ে যায়নি বলে জানান। বাদীর ভাই শহিাবুদ্দিন ও চাচাতো ভাই সেলিম চৌধুরী সহ অন্যন্য স্বাক্ষী ও এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে বাদীর স্বভাব-চরিত্র সন্দেহজনকময় বলে জানা যায়। সে এলাকায় ঠকবাজ এবং মামলাবাজ হিসাবে পরিচিত। বাদী বিবাদী কর্তৃক এন আই এ্যাক্টের মামলার আশঙ্কায় মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রতিবেদনটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে দাখিল করেন। প্রকাশ, চট্টগ্রামের সিতাকুন্ড থানার ভাটিয়ারী এলাকার মৃত মফিজুর রহমানের পুত্র মহিউদ্দিন চৌধুরী পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে একই জেলার আন্দরকিল্লা এলাকার সেলিম চৌধুরীর ১৫ লক্ষ টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের বিষয়ে অপরাধ বিচিত্রা’য় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর মহিউদ্দিন চৌধুরী নিজেকে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে মুক্তিযোদ্ধা সনদসহ বিভিন্ন কাগজ-পত্র পত্রিকা দপ্তরে প্রেরণ করেন। একইসাথে প্রতারিত সেলিম চৌধুরীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও জালিয়াত প্রমাণ করার জন্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদপত্রের ফটোকপিও পাঠান। একটি সূত্র জানায়, সেলিম চৌধুরীর জমির নামজারী করে দেওয়ার কথা বলে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় মহিউদ্দিন চৌধুরী। আর এ টাকা সেলিম চৌধুরীকে ফেরত না দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে পায়তারা চালাচ্ছে সুচতুর মহিউদ্দিন চৌধুরী। (এ ব্যাপারে অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধান চলছে)

