গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পশু সম্পদ অফিসের নানামুখী দুর্নীতি

0
838

রেজাউর রহমান মিন্টু, (গোপালগঞ্জ) ঃ
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত পুন্যভূমি, গর্বিত গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা পশু সম্পদ অফিসের নানামুখি দুর্নীতি চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। সদর উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা: গোবিন্দ চন্দ্র সরদার তিন কক্ষবিশিষ্ট যে বাসভবনটি বসবাসের জন্য ব্যবহার করছেন, সেটি মূলত: একটি ডরমেটরি, যা ড্রেসার, কম্পাইন্ডার ও পিওনের জন্য নির্ধারিত। অথচ গত ২০১৫ ইং সালের মার্চ মাস থেকে (২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত) অদাব্যধি ভেটেরিনারি ফিল্ড এ্যাসিসটেন্ট (ভিএফএ) আবুল বাশার এবং পিওন সুধীর কুমার বালা, এই দুইজনের নামে দু’টি কক্ষ বরাদ্দ দেখিয়ে এবং অন্য কক্ষটি বরাদ্দ ছাড়াই প্রতিমাসে সরকারকে বিপুল পরিমান রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ডরমেটরি ব্যবহার করে আসছেন। ভেটেরিনারি ফিল্ড এ্যাসিসটেন্ট আবুল বাশারের নামে বাসা বরাদ্দ প্রাপ্তির নিয়ম না থাকলেও অবৈধভাবে তার নামে বাসা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ডরমেটরির তিনটি কক্ষের বিপরীতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ঘর ভাড়া মাসিক ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিস সংশ্লিষ্ট একাধিক সোর্স থেকে জানা যায়, আবুল বাশারের নামে বরাদ্দকৃত কক্ষটির জন্য তার মাসিক বেতন ২৪,৮৭০/= টাকার বিপরীতে ৪০% ঘর ভাড়া বাবদ ৯,৯৪৮ টাকা এবং একটি কক্ষের বিপরীতে ৯,৯৪৮ টাকার ২৫% অর্থাৎ ২,৪৮৭ টাকা আর পিওন সুধীর কুমার বালার নামে বরাদ্দকৃত কক্ষটির জন্য তার মাসিক বেতন ১২,২৪০ টাকার ৪৫% ঘরভাড়া বাবদ ৫,৫০৮ টাকা এবং একটি কক্ষের বিপরীতে ২৫% ঘর ভাড়া বাবদ ১,৩৭৭ টাকা, মোট ২,৪৮৭ + ১,৩৭৭ = ৩,৮৬৪ টাকা সরকারের ফান্ডে জমা দেয়া হচ্ছে এবং অবশিষ্ট আরেকটি কক্ষের বিপরীতে কোনো ঘরভাড়াই সরকারের ফান্ডে জমা দেয়া হচ্ছেনা। যেহেতু তিনটি কক্ষই উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ব্যবহার করছেন, সেহেতু তিন কক্ষের ঘরভাড়া বাবদ তার মাসিক বেতন ৫১,৩০০ টাকার বিপরীতে ৩৫% ঘরভাড়া বাবদ ১৭,৯৫৫ টাকার ৭৫% (তিনটি কক্ষের জন্য) ১৩,৪৭৭ টাকা সরকারের ফান্ডে জমা না দিয়ে ডরমেটরির দু’টি কক্ষ বাবদ ৩,৮৬৪ টাকা জমা দিয়ে আসছেন, সে হিসেবে গত ২০১৫ ইং সালের মার্চ মাস থেকে (২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত) অদ্যাবধি মোট ২৫ মাসে (১৩,৪৭৭ – ৩,৮৬৪ = ৯,৬১৩ * ২৫ মাস ) ২,৪০,৩২৫ টাকা (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার তিনশত পঁচিশ টাকা) সরকারকে রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করছেন, এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উত্তর দায়সারা।
নিয়ম বহির্ভূত উপায়ে ডরমেটরি ব্যবহার এবং সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব ফাঁকি দেয়া সংক্রান্ত প্রসঙ্গে উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা: গোবিন্দ চন্দ্র সরদারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, সরকারের আর্থিক কোনো লস নেই, যাদের নামে বাসা বরাদ্দ দেয়া আছে, সরকারের রাজস্ব ফান্ডে নির্ধারিত ঘরভাড়াই জমা দেয়া হচ্ছে। তার কাছে আরো জানতে হয়, বাসা ব্যবহার করছেন আপনি, আর ঘরভাড়া জমা দিচ্ছেন যাদের নামে বরাদ্দ দেয়া আছে তাদের বেতনের বিপরীতে, তাদের বেতন এবং আপনার বেতনের মাঝেতো অনেক ব্যবধান? অত্যন্ত দাম্ভিকতার সাথে উত্তরে তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।
এ প্রসঙ্গে গোপালগঞ্জ জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আতাউর রহমান চৌধূরী বলেন, যাদের নামে বরাদ্দ দেয়া আছে তাদের বেতন থেকেই ঘরভাড়া কাটা হচ্ছে, তাদের নামেই ডরমেটরি বরাদ্দ থাকার কথা, উপজেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তার নামে এই ডরমেটরি বরাদ্দ দেখানোর সুযোগ নেই, সেজন্য অন্যের নামে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। তার কাছেও জানতে চাওয়া হয়, বাসা ব্যবহার করছেন একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, আর সরকারের নির্ধারিত ঘরভাড়া পরিশোধ করা হচ্ছে অধীনস্থ স্ট্যাফদের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে! উত্তরে তিনি আরো  বলেন, অফিস কম্পাউন্ডে বাসভবনের সংকট থাকায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here