ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মুনছুরা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে তিন দিন ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন শেষে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করেছে।
বুধবার জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা করিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
মুনছুরা ভানোরের কলন্দা করিয়া গ্রামের মাসুদ রানা ওরফে রুবেলের স্ত্রী।
মৃত গৃহবধূর মা রজিনা বেগম ও ফুফাতো ভাই আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, রুবেল ও তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে মুনছুরা বেগমকে নির্যাতন করে আসছিল। গত কয়েকদিন ধরে তাকে ঘরে বন্দী করে রেখে খাবার বন্ধ করে দেয়। এছাড়ার বাবা-মার সঙ্গেও তার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বুধবার বিকালে মোবাইলে এক প্রতিবেশির কাছ থেকে খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে মেয়ের লাশ বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ওই সময় বাড়ির সব ঘরের দরজায় তালা দেয়া ছিল। কোনো লোকজনও ছিল না।
মুনছুরার চাচা লাবু হোসেন বলেন, ‘প্রায়ই স্বামীর পরিবারের লোকজন মুনছুরাকে অত্যাচার করত। আমিসহ মুনছুরা আক্তারের পরিবারের লোকজন সেই ঝগড়ার মীমাংসা করে গেছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মধুসুদন বলেন, ‘গৃহবধূ মারা গেছে শুনে আমি পরিষদ থেকে এখানে এসেছি। এর বেশি কিছুই জানি না।’
ভানোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব সরকার বলেন, আমি গৃহবধূর মৃত্যুর খবর শুনে থানায় সংবাদ দেই।
বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় গৃহবধূর স্বামী রুবেল ও তার বাবা তফিজুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।
অপরাধ বিচিত্রা/১৫.০২.২০১৮

