আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ছয় দিনে গাজায় হামাসের স্থাপনা লক্ষ্য করে চার হাজার টন ওজনের প্রায় ছয় হাজার বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দখলদার ইসরাইল।দখলদার এ দেশটির বিমানবাহিনীর বরাতে সংবাদ মধ্যম সমূহের তথ্যচিত্রে এসেছে বিমান হামলায় প্রায় ৩৬ হাজারেরও বেশি বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্হাপনায় বোমা হামলা করা হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘও বলেছে, গাজায় দ্রুত খাবার ও পানীয় নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সমূহ দ্রুত শেষ হয়ে ভয়ংন্কর একটি মানবিক বিপর্যয় ধেয়ে আসছে, পন্চাশ হাজারের অধিক গর্ভবতী নারী তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বন্চিত হচ্ছে। এতেও দ্রুত একটি চরম বিপর্যয় অবস্থার আশংকাও করছে জাতীসংঘ।কেননা সেখানে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্যের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে মধ্য প্রাচ্যের বিষ ফোড়া খ্যাত ইসরাইল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে , গত কয়েকদিনে ১১ জন স্বাস্থ্যকর্মী গাজায় নিহত হয়েছে। কখন কোন দিক থেকে সন্ত্রাসী ইজরাইলীদের বোমা হামলার শিকার হয় সে আতংকে আতংকগ্রস্হ গাজা ও পশ্চিম তীরের স্হাস্হ্য কর্মীরা।
সন্ত্রাসী ইসরাইল প্রতিশোধের নাম করে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত ১৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে। আরো তিন লাখ ৩৮ হাজার মানুষ হয়েছে গৃহহীন। শনিবার ইসরাইলে হামাসের আক্রমণের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আরো ১৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।ইতোমধ্যে ইসরাইলের তথ্যমন্ত্রী গালিত ডিস্টেল আটবারিয়ান পদত্যাগ করে করেছে এবং বলেছে তার মন্ত্রণালয়ের অর্থ অন্য কোন খাতে যাতে ব্যবহার করা হয়।অপরদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন শুক্রবার অবৈধ রাস্ট্র ইসরাইল সফর করেছে। এসময় সে হামাসের হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানায়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনও শুক্রবার ইসরাইল সফর করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের ইসরাইল সফরের পরের দিনই তারা দেশটি সফর করছেন।
নেটো জোট স্বাধীনতাকামী হামাসের এ হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘অযৌক্তিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।সে সাথে ইসরাইলের প্রতি তারা ‘সমানুপাতিক’ হারে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সহায়তার বিষয়ে নেটো জোট ভুক্ত দেশগুলোর পক্ষে জানানো হয়েছে, তারা ইসরাইলকে প্রকৃত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রিকের একটি যুদ্ধ জাহাজ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয়েছ বলে খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধ জাহাজটি ইসরাইল-লেবানন সীমান্ত অবস্থান নিবে বলে জানা গেছে । জার্মানিও বলেছে, ইসরাইলি বাহিনী তাদের দুটি সশস্ত্র যুদ্ধ ড্রোন এরইমধ্যে ব্যবহার করেছে।
ইসরাইলের একজন শীর্ষ স্হানীয় ফিলিস্তিনি মানবাধিকার আইনজীবী পশ্চিমা নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন যে, তারা ইসরাইলি নেতাদের দ্বারা গণহত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে উপেক্ষা করে একটি নতুন দিগন্ত উম্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি হামাস যোদ্ধাদের দ্বারা শনিবারের মারাত্মক হামলার পর থেকে ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের যুদ্ধের মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের কঠোর সমালোচনা করেছেন, যেখানে ইসরাইলি নেতারা ফিলিস্তিনিদের ‘মানব পশু’ ও ‘জন্তু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের ‘ধ্বংস’ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইজরাইলীদের বর্বরতা কতটা হিংস্র ও পাশবিক, তারা যে কতটা মানবতা বিরোধী এতেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।

