অপূর্ব সুন্দরী এক মেয়ে। শুধু রূপেই নয়, গুণেও অতুলনীয়া। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের হাফেযাও ছিলেন। তার বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও অমায়িক ব্যবহার সকলকেই মুগ্ধ করত ।
মেয়েটি ছিলেন মদীনার বিখ্যাত তাবেঈ হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যাব (রহ.) এর কন্যা। তিনি এখন বিয়ের বয়সে উপনীত। তার মত একজন অনিন্দ্য সুন্দরী গুণবতী মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে পেতে কে না চায়?
খলীফা আব্দুল মালেক তখন মদীনার শাসক। স্নেহের পুত্র ওয়ালীদের জন্য তিনি মেয়ে খুঁজছেন। কিন্তু মনমতো মেয়ে খুঁজে পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত অনেক ভেবে চিন্তে হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) এর কন্যাকেই আপন পুত্রবধূ বানানোর সিদ্ধান্ত নিলেন
খলীফার সিদ্ধান্তই সিদ্ধান্ত । তার সিদ্ধান্তে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কার আছে? তার শাসিত এলাকায় তারই মতামতকে কেহ উপেক্ষা করতে পারে একথা কোন দিন তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। কিন্তু যা তিনি ভাবেননি, ভাবতে পারেননি বাস্তবে ঘটলো তাই ।
হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) এর তাকওয়া পরহেযগারী ও বুযুর্গী গোটা মদীনায় প্রসিদ্ধ ছিলো। তিনি ছিলেন ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিকাহের ইমাম। পার্থিব আড়ম্বর ও ঐশ্চর্যকে মোটেও তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি সব সময় সাধারণ খাবার খেতেন এবং সাধারণভাবে চলা-ফেরা করতেন। পরিবারের সকলকেই তিনি গড়ে তুলে ছিলেন নিজের মত করেই ।
সিদ্ধান্ত নেয়ার পর খলীফা কালবিলম্ব করলেন না। সাথে সাথে প্রস্তাব পাঠিয়ে দিলেন হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) এর নিকট । প্রস্তাব পাঠিয়ে তিনি ভাবলেন আমার প্রস্তাব তো নিশ্চয়ই গৃহীত হবে। কারণ সাঈদের মত একজন গরীব বুযুর্গের মেয়েকে স্বয়ং খলীফা পুত্রবধূ বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এতো তার মহা সৌভাগ্যেরই কথা। খলীফার সাথে আত্মীয়তা করার মত সুযোগ কে হাত ছাড়া করে?
কিন্তু পরক্ষণেই তার ধারণা ভুল বলে প্রমানিত হল। দুনিয়াত্যাগী বুজুর্গ হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) পরিস্কার ভাষায় খলীফার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেন ।
এরূপ সংবাদ শুনার জন্য খলিফা মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তিনি আঘাত খাওয়া বাঘের ন্যায় ক্ষেপে উঠলেন । মনে মনে বললেন, বুযুর্গের স্পর্ধা তো দেখছি কম নয়। কত বড় সাহস তার! একটি দরিদ্র মেয়ে খলীফার পুত্রবধু হবে এমন মহা সুযোগ তো কেবল আহমকরাই প্রত্যাখ্যান করতে পারে ।
পরিশেষে তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন। বললেন, সাঈদের কন্যাকে আমি পুত্রবধু হিসেবে চা-ই। যে কোন উপায়ে যে কোন মূল্যে। যদি সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠে তাহলে প্রয়োজনে আমাকে আঙ্গুল বাকা করতেই হবে ।
যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। প্রথমে খলীফা হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) এর উপর চাপ সৃষ্টি করলেন। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু এতে কোন ফল না হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে কঠোর পন্থা অবলম্বন করলেন । তাকে প্রস্তাবে রাজী করানোর জন্য বিভিন্ন প্রকার কষ্ট দিতে লাগলেন এবং নানাবিধ কঠোরতা প্রদর্শন করে চললেন। কিন্তু হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) অম্লান বদনে সমস্ত কষ্ট সহ্য করলেন এবং নিজ সিদ্ধান্তে অটল রইলেন। তিনি বললেন, আমার জীবন চলে যেতে পারে, শত কষ্টের সম্মুখীন হতে পারি, কিন্তু তবুও দুনিয়াদার খলীফার পুত্রের নিকট আমার কলিজার টুকরোকে উঠিয়ে দিব না ৷ কারণ আমার নিকট দুনিয়ার ধন সম্পদের চাইতে দ্বীনদারীর মূল্য শত- কোটিগুণ বেশী। দুনিয়ার স্বার্থের দিকে তাকিয়ে আমি আমার প্রাণপ্রিয় কন্যার আখেরাত নষ্ট করে দিতে পারি না। কেননা দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী আর আখেরাতের জীবন চিরস্থায়ী
হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) এর কন্যাকে আপন পুত্রবধু বানানোর জন্য খলীফা চেষ্টার কোন ত্রুটি করলেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, তার কোন চেষ্টাই ফলপ্রসূ হবে না, শত কষ্ট নির্যাতনের মুখেও হযরত সাঈদ (রহ.) তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না, তখন তিনি নিরাশ হয়ে চুপ হয়ে গেলেন ।
হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) নিজ বাড়িতেই হাদীসের দরস দিতেন। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ইলম পিপাসু ছাত্ররা তার দরসে শরীক হয়ে আপন আপন ইলমী তৃষ্ণা নিবারণ করতেন। সমৃদ্ধ করে তুলতেন তাদের বিশাল জ্ঞান ভান্ডারকে। উস্তাদের প্রতি তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা ও মহব্বত ছিল এমন নজিরবিহীন, যা ভাষায় ব্যক্ত করা একেবারেই অসম্ভব ।
তাঁর ছাত্রদের মাঝে একজন ছিলেন খুবই গরীব, অসহায়। কিন্তু গরীব আর অসহায় হলে কি হবে তার তাকওয়া পরহেযগারী ও নম্রতা ভদ্রতা ছিল দৃষ্টান্ত হীন । ইলমে হাদীসের প্রতি তার অদম্য আগ্রহ ছিল অতুলনীয়। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকাকে তিনি অবশ্য কর্তব্য কর্মের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিলেন। এ সকল কারণে সহপাঠি ছাত্রগণই শুধু নয়, স্বীয় উস্তাদ হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.)ও তাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতেন, মহব্বত করতেন ।
ছাত্রটির নাম আবু বাদাআ। আজ কয়েকদিন যাবত তিনি ক্লাসে অনুপস্থিত। এতে সকলেই চিন্তিত, বিচলিত। সর্বাধিক চিন্তিত হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) তিনি প্রিয় ছাত্রের জন্য অপেক্ষা করছেন । সময় দীর্ঘায়িত হওয়ায় এক পর্যায়ে তা ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল। তাই সাথে সাথে তিনি কালক্ষেপণ না করে আবু বাদাআর বাড়ীতে লোক পাঠালেন ।
প্রেরিত লোকটি এখনো হয়ত আবু বাদাআর বাড়ীতে যেয়ে পৌঁছতে পারেননি। এদিকে তিনি আপন উস্তাদ হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) এর দরবারে এসে হাজির। কয়েকদিন পর প্রিয় ছাত্রকে দেখতে পেয়ে তিনি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন। তার সমস্ত হৃদয় জুড়ে বইতে লাগল আনন্দের বন্যা ৷
আবু বাদাআর চেহারায় একটা বিষন্নতার ছাপ। বেশ চিন্তিত মনে হল তাকে । একটি বিশাল কাল বৈশাখী ঝড় যেন বয়ে গেছে তার উপর দিয়ে । লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সবকিছু। আবু বাদাআ কৃত্রিম হাসি মুখে টেনে সেই বিষণ্ণতা, সেই বিধ্বস্ত ভাব লুকানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু সফল হলেন না। প্রিয় উস্তাদ তার চেহারা পানে তাকিয়েই সবকিছু বুঝতে পারলেন। জিজ্ঞেস করলেন-
: আবু বাদাআ! তুমি এত বিষন্ন কেন? কি হয়েছে তোমার? আজ ক’দিন তোমাকে না দেখে আমরা সবাই ভীষণ চিন্তিত ।
আবু বাদাআ মাথা নীচু করলেন। তার মুখ থেকে কোন কথা সরলো না। তাই মমতার স্বরে উস্তাদ আবার বললেন-
আবু বাদাআ! ব্যাপার কি? কি হয়েছে একটু খুলে বলো । তোমার কোন পেরেশানী থাকলে যথাসম্ভব আমরা তা দূর করার চেষ্টা করব।
উস্তাদের স্নেহপূর্ণ কথায় আবু বাদাআর চোখে পানি এসে গেল । কয়েক ফোটা তপ্ত অশ্রু দু’গন্ড বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ল। তারপর একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে তিনি বললেন-
হযরত আজ ক’দিন হল আমার বিবি ইন্তেকাল করেছে। আমার পরিবারে আমার বৃদ্ধ আম্মা ও ছোট ছোট কয়েকটি বাচ্চা ছাড়া আর কেহ নেই । ফলে তাদের দেখাশুনা সহ ঘরের যাবতীয় কর্ম আমাকেই করতে হচ্ছে। রান্না-বান্না ও পারিবারিক কাজ কর্মে অভ্যস্ত না হওয়ায় এগুলো করতে গিয়ে আমাকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। উপরন্ত আমি এতে সীমাহীন অস্থিরতাও ভোগ করছি। আর সে অস্থিরতার কারণেই আজ ক’দিন যাবত আপনার বরকতময় সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত রয়েছি।
হযরত সাঈদ (রহ.) বললেন, আচ্ছা তোমার বিবির ইন্তেকাল হয়ে গেল, তা তুমি আমাকে জানালে না কেন? জানতে পারলে আমি তো জানাযা, দাফন ইত্যাদিতে শরীক হতে পারতাম ।
আবু বাদাআ বললেন, বিষয়টি আমিও চিন্তা করেছি । কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ কথা ভেবে আপনাকে জানাইনি যে, হযরত অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ । মসজিদ আর ঘর ছাড়া অন্য কোথাও যান না। আমার বিবির ইন্তেকালের কথা শুনে আপনি যেমন মর্মাহত হবেন তেমনি জানাযা দাফন ইত্যাদি কর্মেও অংশ গ্রহণ করতে চাইবেন। এতে আপনার সীমাহীন কষ্ট হবে। আপনাকে না জানানোর এই হল মূল কারণ। তবে আলহামদুলিল্লাহ! সমস্ত কাজ অত্যন্ত সহজ, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ভাবেই সমাধা হয়েছে।
কিছুক্ষণ পর ছাত্রদের ছুটি হল। আবু বাদাআ বাড়ীতে যাওয়ার অনুমিত চাইলেন। কিন্তু অনুমতি মিলল না। হযরত সাঈদ (রহ.) তার হাতে কিছু টাকা উঠিয়ে দিয়ে বললেন, আবু বাদাআ! এগুলো নিয়ে তোমার ঋণ পরিশোধ করবে। .
: জী না হুজুর! ঋণ পরিশোধের জন্য আপনাকে টাকা দিতে হবে না ৷ আমার ঋণ আমিই পরিশোধ করার চেষ্টা করব ।
: আবু বাদাআ! বিবি ইন্তেকালে এমনিতেই তুমি চিন্তিত। তার উপর ঋণের বোঝা তোমাকে আরও পেরেশান করে তুলবে। সুতরাং টাকাগুলো তুমি গ্রহণ কর ৷
উস্তাদের বারবার পীড়াপীড়িতে আবু বাদাআ কম্পিত হস্তে টাকাগুলো গ্রহণ করলেন । তারপর নীচের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতে থাকলেন । তিনি যে উস্তাদের সম্মুখে বসা, একথা তিনি ভুলেই গেলেন। হঠাৎ উস্তাদের স্নেহের আহবানে তিনি সম্বিত ফিরে পেলেন । বললেন,
: জ্বী হুজুর!
: তুমি কিছু মনে না করলে একটি কথা বলতে চাই ।
: উস্তাদ ছাত্রের সাথে কথা বলবেন এতে মনে করার কি আছে ৷ আপনি নির্দ্বিধায় আপনার মনের কথাটি আমার নিকট খুলে বলুন । আমি আপনার যে কোন খেদমতের জন্য প্রস্তুত আছি ।
: না, খেদমতের কিছু নেই। আমি বলতে চাচ্ছিলাম, তোমার এখন আরেকটি বিবাহ করার ইচ্ছে আছে কি না?
দ্বিতীয় বিয়ের কথা শুনে আবু বাদাআ বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার মতো চমকে উঠলেন । হৃদয়ের গহীন কোনে একটি মারাত্মক চোট পেলেন । চোখের দু কোনে দেখা গেল অশ্রু প্লাবন। যা মুহূর্তেই দুগন্ড ভিজিয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ল। এভাবে কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বললেন-
: হযরত আমি একজন গরীব মানুষ। দুনিয়ার ধন-দৌলত, টাকা পয়সা প্রভাব-প্রতিপত্তি কিছুই নেই আমার। আমি নিঃস্ব, অসহায়। আমার বাচ্চাগুলো ছোট ছোট। তাদের দেখাশোনা ও লালন পালনের জন্য একজন মহিলার খুবই প্রয়োজন। আর এ প্রয়োজন বোধ করেই আমি কুরাইশ বংশের প্রায় প্রতিটি ঘরে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। অনুরোধ করেছি। অন্যের মাধ্যমে সুপারিশও করিয়েছি। কিন্তু কেউ আমার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। আমার নিকট মহান আল্লাহর মহব্বত ও ভয় ছাড়া আর কোন সম্বল নেই ৷
: বল কি তুমি? গরীব বলে সবাই তোমাকে অবজ্ঞা করছে! এড়িয়ে যাচ্ছে!! আল্লাহু আকবার! এটা কত বড় আশ্চর্যের কথা যে, লোকেরা শুধু অর্থ সম্পদ আর টাকা পয়সা না থাকার কারণে তোমাকে গ্রহণ করছে না?
আবু বাদাআ! আমি মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, তুমি কোন সাধারণ মানুষ নও। তোমার কাছে অর্থ সম্পদ না থাকতে পারে কিন্তু তাকওয়া আর পরহেযগারীর মত মহা দৌলত তোমার নিকট আছে। দ্বীনদারীর মত মহা সম্পদের অধিকারী তুমি। মনে রেখো, আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত ঐ ব্যক্তি যে বেশি পরহেযগার । আবু বাদাআ! লোকেরা কেবল তোমার গরিবী হালতকেই দেখল, ধন-সম্পদের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিল অথচ তোমার দ্বীনদারীর মূল্যায়ন তারা করল না। তোমার মধ্যে ইলমে দ্বীন শিক্ষার যে প্রেরণা আছে সেদিকে তারা দৃষ্টিপাত করল না । আফসোস । শত আফসোস!! এর চেয়ে দুঃখজনক কথা আর কি হতে পারে। এ কথাগুলো বলতে বলতে তার কন্ঠ ভারী হয়ে এল । একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাসের সাথে সাথে গোটা কক্ষ জুড়ে নেমে এল এক অসীম নীরবতা ।
খানিক বাদে নীরবতা ভাঙ্গলেন তিনিই। অশ্রু ঝরছিল তার চক্ষু থেকে। ক্রমাগত উছলে উঠা অশ্রুকে সংবরণ করছিলেন তিনি ৷ এক পর্যায়ে আবু বাদাআর কাঁধে হাত রেখে সস্নেহে বললেন-
আবু বাদাআ! তুমি যদি রাযী থাকো তাহলে তোমাকেই আমি আপন জামাতা বানাতে চাই । তোমার হাতেই তুলে দিতে চাই নিজের হাতে গড়া কলিজার টুকরা আমার একমাত্র মেয়েটিকে ।
আবু বাদাআ নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করাতে পারছেন না। তার মনে হচ্ছে তিনি হয়ত কোন স্বপ্ন দেখছেন। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত, অকল্পিত শুভ সংবাদ শুনে তিনি ঠিক করতে পারছিলেন না যে, এ প্রস্তাবের জবাবে তিনি কি বলবেন ।
চারিদিকে নীরব নিস্তব্দ । কক্ষে পিন পতন নীরবতা । কিছুক্ষণ জবাবের অপেক্ষায় থেকে হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব (রহ.) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন-
: বলো আবু বাদাআ! এ ব্যাপারে তোমার কি মতামত? তুমি কি এ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নও?
গল্পের বাকি অংশ ২য় পর্বে …………………………………………………………………………………………………………………………………………………

