গণপূর্তের সাইফুজ্জামান চুন্নুর সীমাহীন দুর্নীতি চলছেই

0
284

স্টাফ রিপোর্টার: সরকার দুর্নীতির বিরোধী অভিযান চললেও কেন জানি কিছুতেই সরকার দূর্নীতির লাগাম টানতে পারছে না, আর গনপূর্তে যেন সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে অল্প কিছুদিনের মধ্যে গড়ে তুলেছে শতশত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ। বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি বাড়িও গড়ে তুলেছেন দেশের বাইরে। দেশের মাটিতেও গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির সাম্রাজ্য। নিজ এলাকা পটুয়াখালিতে গড়ে তুলেছেন নাহিয়ান ব্রীকস ফিল্ড, পটুয়াখালি কলেজ রোডে দু’তলা বাড়ী, পটুয়াখালি সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধারান্দি গ্রামে ৫ একর জমি, পটুয়াখালিতে নেক্সাস নামে একটি গামেন্টস এর শোরুম, সাভারে ১০ কাঠার একটি প্লট, ঢাকা ধানন্ডির সেন্ট্রাল রোডে একটি ফ্ল্যাট, বেইলী রোডে একটি ফ্ল্যাট, এছাড়াও রয়েছে নামে বেনামে অসংখ্য সম্পদ। যার কথা বলছি তিনি, পটুয়াখালি সদর থানার কমলাপুর গ্রামের বিএনপি নেতা মো: আব্দুস ছালাম মৃধার ছেলে মো. সাইফুজ্জামান চুন্নুর কথা। যিনি ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী।

Advertisement

কিছুদিন আগেই তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মিরপুর গণপূর্ত বিভাগে ছিল। এমন কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম নেই যা তিনি করেন না। সাইফুজ্জামান চুন্নু সাবেক গনপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর কাছের লোক দাবি করায় কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো শব্দ করতেন না।

বর্তমানে তিনি গনপূর্ত মন্ত্রী, সচিব ও প্রধান প্রকৌশলীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন । গনপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে চুন্নু ভীতি কাজ করছে। কারন অধিদপ্তরের মধ্যে তার নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মূলত এ সিন্ডিকেটই সরকারের বিগত সময়ে অধিদপ্তরকে নিয়ন্ত্রন করতো।

 এছাড়া গণপূর্ত ঢাকা মেট্রো জোনের প্রধান নাসিম শিকদারের আস্থাভাজন হওয়ায় নির্বিচারে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করে বেরাচ্ছে। শুধু দুর্নীতিই নন, এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যা তিনি করেন না। আগের মন্ত্রী এখন আর দায়িত্বে না থাকায় তার কাজে কিচু ভাটা পরলেও নানা ভাবে তার অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়ে চাচ্ছেন।

সে মূলত গণপূর্তের ঢাকা মেট্রো জোনের প্রধান নাসিম শিকদারকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেন। এদিকে, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী হওয়ার পর তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে নানা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন এই দুর্নতিবাজ সাইফুজ্জামান চুন্নু। কারণ আগের মন্ত্রীর সহযোগিতায়ই তিনি মূলত দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।

 নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, সাইফুজ্জামান চুন্নুর স্ত্রীর নাম ডা: সাইমুন নাহার (এমবিবিএস), তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেকচারার। তিনি তার ভাই (চাচাত) ছাত্রদল নেতা শামীমের মাধ্যমে আর্থিক লেন দেন করেন। পটুয়াখালি যুবদলের সোহেল রানার মাধ্যমে পটুয়াখালির সবকিছু নিংন্ত্রণ করেন তিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাইফুজ্জামান চুন্নু বেপরোয়া লুটপাট,

দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি করে বিশাল অংকের টাকা তুলে দিচ্ছেন বাবার হাতে। তার পিতা আব্দুস সালাম মৃধা পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও ৫নং কমলা পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক ইউপি মেম্বার।

তার বাবা সে টাকা ঢালছেন সরকার উৎখাতের আন্দোলনে গতি দিতে। এ নিয়ে জানা শোনা অনেকের মাঝেই ক্ষোভ থাকলেও অপ্রতিরোধ্য টাকার শক্তির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নুুর পিতা আব্দুস সালাম মৃধা এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি বাঁচিয়ে রাখাসহ কেন্দ্রীয় বিএনপিকে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করে চলেছেন।

 দ্বাদশ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বিএনপির কেন্দ্রিয় ফান্ডে মোটা অংকে টাকা দিয়েছেন আব্দুস সালাম মৃধা। এলাকায় এমন গুঞ্জন চাউর হয়ে ঘুরছে। কেন্দ্রিয় নেতাদের সাথে দেখা করে তিনি এ টাকা জমা দেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

 জানা যায, আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তন করার পেছনে তার একটা বড় সিন্ডিকেট কাজ করেছিল, যদিও সেটা করে সফলতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। আগামী দিনে সরকার পরিবর্তন হলে নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান বা তার চেয়ে বড় কোন পদ পাওয়ার আশা করছেন সেই সাথে ছেলেকে আরো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। এলাকায় বিএনপি জামায়াতের লোক আব্দুস সালাম মৃধাকে টাকার গাছ হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন।

 আব্দুস সালাম মৃধার টাকার উৎস সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে কেঁেচা খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মতো ঘটনা সামনে চলে আসে। জানা যায়, আব্দুস সালাম মৃধার অর্থের একমাত্র উৎস হচ্ছে তার ছেলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান চুন্নু। যিনি এখন কর্মরত রযেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তর মিরপুর বিভাগে।

এ সময়ে গণপূর্ত বিভাগের সব চেয়ে বেশী প্রকল্প কার্যকর করছে মিরপুর বিভাগ। পরবর্তীতে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ এ আসার পরও হাতিয়ে নেয় অনেক বড় বড় কাজ। যার মাধ্যমে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। রাজনৈতিক বলয়ের সূত্রগুলো বলছে, ছাত্র জীবনে আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের সহ সভাপতি ছিলেন সাইফুজ্জামান চুন্নুু।

সেই সূত্রে বিএনপি জামায়াতের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের সাথে শুরু থেকেই একটি আদর্শিক সম্পর্ক গড়ে যায় তার। সে সুযোগে এক সময় তিনি জড়িয়ে যান তারেক জিয়ার ঘনিষ্ট সিন্ডিকেটের সাথে। বিএনপি জামায়াত ঠিকাদারদের আশ্রয় দাতা নুসরাতের সাথে ঘনিষ্ট হন সাইফুজ্জামান চুন্নু। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরতে হচ্ছে না।

ইচ্ছে মতো সরকারি টাকা ভাগ বাটোয়ারার পাশাপাশি নিয়োগ বদলি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ গণপূর্তের অপ্রতিরোধ্য একজন ক্ষমতাধর হয়ে ওঠেন তিনি। কয়েক বছরে বনে যান বহু কোটি টাকার মালিক। দেশে নামে বেনামে গড়েছেন অনেক সম্পদ। বিদেশে টাকা পাচার সহ বেশ কয়েকটি দেশে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে তার নামে।

এ সব বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকৌশলী সাইফুজ্জামান এর সাথে যোগযোগ করা হলে গণমাধ্যমে থাকা তার অনেক পরিচিতদের নাম শুনিয়ে বিশেষ একজনের সাথে কথা বলতে বলে ফোন কেটে দেন। সূত্রমতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মিরপুর ডিভিশনের পূর্ত সার্কেলে আইভি বাংলো তৈরির সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here